বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ মানুষ মারাত্মক আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে সরকারের চলমান নানামুখী প্রকল্পের সুবাদে ২০২৬ সালের মধ্যে এই ঝুঁকির হার ৫ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরটি টেবিলে উত্থাপিত হয়। নিজের বক্তব্যের সপক্ষে মন্ত্রী বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের যৌথ জরিপ প্রতিবেদন ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে-২০১৯’-এর তথ্য সংসদে তুলে ধরেন।
সংসদে দেওয়া জবাবে মন্ত্রী জানান, আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসনে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ পানির সুরক্ষা দিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সারা দেশে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব চলমান ও সমাপ্ত প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের মধ্যে দেশজুড়ে প্রায় ১২ লাখ ১৫ হাজার ৯৪৮টি আর্সেনিকমুক্ত পানির উৎস স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপদ পানির বিকল্প উৎস হিসেবে গ্রামীণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে গভীর নলকূপ স্থাপন, পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং), পুকুর খনন ও পুনঃখনন এবং সৌরচালিত ‘পন্ড স্যান্ড ফিল্টার’ (পিএসএফ) স্থাপন করা হয়েছে।
নিরাপদ পানি সরবরাহে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট সফলতার খতিয়ানও সংসদে তুলে ধরেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’-এর আওতায় এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ৬ লাখ ১৫ হাজার ৪৯৭টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৫টি এবং নির্দিষ্টভাবে ‘পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্প’-এর মাধ্যমে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৬টি নিরাপদ পানির উৎস তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সমাপ্ত হওয়া ‘পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ’ এবং ‘অগ্রাধিকারমূলক গ্রামীণ পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের আওতায় যথাক্রমে ৮৮ হাজার ২৩৫টি এবং ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫টি উৎস স্থাপন করা হয়েছে। সরকার এই ধারা অব্যাহত রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের শতভাগ মানুষকে আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানির আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি আবিষ্কৃত হওয়ার পর এটি দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় হিসেবে দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিকযুক্ত পানি পানের ফলে চর্মরোগ, গ্যাংগ্রিন এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক ব্যাধি সৃষ্টি হতে পারে। বিগত তিন দশকে সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় অগভীর নলকূপের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গভীর নলকূপ ও সারফেস ওয়াটারের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে একসময়ের বিশাল এই সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলগুলোতে এখনো ১১ শতাংশ মানুষের ঝুঁকিতে থাকা নির্দেশ করে যে, শতভাগ নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে টেকসই প্রযুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি পাইপলাইন নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ মানুষ মারাত্মক আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে সরকারের চলমান নানামুখী প্রকল্পের সুবাদে ২০২৬ সালের মধ্যে এই ঝুঁকির হার ৫ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরটি টেবিলে উত্থাপিত হয়। নিজের বক্তব্যের সপক্ষে মন্ত্রী বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের যৌথ জরিপ প্রতিবেদন ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে-২০১৯’-এর তথ্য সংসদে তুলে ধরেন।
সংসদে দেওয়া জবাবে মন্ত্রী জানান, আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসনে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ পানির সুরক্ষা দিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সারা দেশে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব চলমান ও সমাপ্ত প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের মধ্যে দেশজুড়ে প্রায় ১২ লাখ ১৫ হাজার ৯৪৮টি আর্সেনিকমুক্ত পানির উৎস স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপদ পানির বিকল্প উৎস হিসেবে গ্রামীণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে গভীর নলকূপ স্থাপন, পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং), পুকুর খনন ও পুনঃখনন এবং সৌরচালিত ‘পন্ড স্যান্ড ফিল্টার’ (পিএসএফ) স্থাপন করা হয়েছে।
নিরাপদ পানি সরবরাহে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট সফলতার খতিয়ানও সংসদে তুলে ধরেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’-এর আওতায় এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ৬ লাখ ১৫ হাজার ৪৯৭টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৫টি এবং নির্দিষ্টভাবে ‘পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্প’-এর মাধ্যমে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৬টি নিরাপদ পানির উৎস তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সমাপ্ত হওয়া ‘পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ’ এবং ‘অগ্রাধিকারমূলক গ্রামীণ পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের আওতায় যথাক্রমে ৮৮ হাজার ২৩৫টি এবং ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫টি উৎস স্থাপন করা হয়েছে। সরকার এই ধারা অব্যাহত রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের শতভাগ মানুষকে আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানির আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি আবিষ্কৃত হওয়ার পর এটি দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় হিসেবে দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিকযুক্ত পানি পানের ফলে চর্মরোগ, গ্যাংগ্রিন এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক ব্যাধি সৃষ্টি হতে পারে। বিগত তিন দশকে সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় অগভীর নলকূপের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গভীর নলকূপ ও সারফেস ওয়াটারের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে একসময়ের বিশাল এই সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলগুলোতে এখনো ১১ শতাংশ মানুষের ঝুঁকিতে থাকা নির্দেশ করে যে, শতভাগ নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে টেকসই প্রযুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি পাইপলাইন নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন