ইরাকের রাজনীতিতে ইরানপন্থী দলগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যেই গতকাল মধ্যরাতে রাজধানী বাগদাদে এক আকস্মিক ও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। নতুন সরকারের কড়া নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানে বাগদাদের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত 'গ্রিন জোন' রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানের কথা বলে এই অ্যাকশন শুরু হলেও, এর মূল লক্ষ্য যে রাজনৈতিক তা এখন স্পষ্ট।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক নেতা ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে গ্রিন জোনে সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকারের নিরাপত্তারক্ষীদের সাথে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক ও তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পুরো বাগদাদ জুড়েই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযানকে কেবল প্রথাগত দুর্নীতিবিরোধী তৎপরতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় সবাই স্পষ্টতই আমেরিকাপন্থী বা ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ফলে এই অভিযানের নেপথ্যে আসলে ইরাকের রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে মার্কিনপন্থী শক্তিগুলোকে একঘরে করে ইরানপন্থী বলয়কে আরও নিষ্কণ্টক ও পাকাপোক্ত করার সুদূরপ্রসারী কৌশল রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ইরাকের মাটি ও ক্ষমতার ওপর নিজেদের একক আধিপত্য ধরে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক তীব্র স্নায়ুযুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। ইরাকে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই ইরানপন্থী শক্তিগুলো একের পর এক কৌশলে নিজেদের অবস্থান মজবুত করে আসছিল।
সেই ধারাবাহিকতায় বাগদাদের এই সাম্প্রতিক সেনা অভিযান যদি পুরোপুরি সফল হয়, তবে ইরাকের রাজনীতি, প্রশাসন এবং সামরিক অঙ্গনে মার্কিন প্রভাব কার্যত তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। অন্যদিকে, ইরাকের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে তেহরানের মিত্ররা আরও বেশি শক্তিশালী, অপ্রতিরোধ্য ও একক নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে আবির্ভূত হবে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
ইরাকের রাজনীতিতে ইরানপন্থী দলগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যেই গতকাল মধ্যরাতে রাজধানী বাগদাদে এক আকস্মিক ও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। নতুন সরকারের কড়া নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানে বাগদাদের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত 'গ্রিন জোন' রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানের কথা বলে এই অ্যাকশন শুরু হলেও, এর মূল লক্ষ্য যে রাজনৈতিক তা এখন স্পষ্ট।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক নেতা ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে গ্রিন জোনে সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকারের নিরাপত্তারক্ষীদের সাথে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক ও তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পুরো বাগদাদ জুড়েই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযানকে কেবল প্রথাগত দুর্নীতিবিরোধী তৎপরতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় সবাই স্পষ্টতই আমেরিকাপন্থী বা ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ফলে এই অভিযানের নেপথ্যে আসলে ইরাকের রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে মার্কিনপন্থী শক্তিগুলোকে একঘরে করে ইরানপন্থী বলয়কে আরও নিষ্কণ্টক ও পাকাপোক্ত করার সুদূরপ্রসারী কৌশল রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ইরাকের মাটি ও ক্ষমতার ওপর নিজেদের একক আধিপত্য ধরে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক তীব্র স্নায়ুযুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। ইরাকে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই ইরানপন্থী শক্তিগুলো একের পর এক কৌশলে নিজেদের অবস্থান মজবুত করে আসছিল।
সেই ধারাবাহিকতায় বাগদাদের এই সাম্প্রতিক সেনা অভিযান যদি পুরোপুরি সফল হয়, তবে ইরাকের রাজনীতি, প্রশাসন এবং সামরিক অঙ্গনে মার্কিন প্রভাব কার্যত তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। অন্যদিকে, ইরাকের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে তেহরানের মিত্ররা আরও বেশি শক্তিশালী, অপ্রতিরোধ্য ও একক নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে আবির্ভূত হবে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন