রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের পথ যে একমাত্র তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসন, সেই পুরনো অথচ অমোঘ সত্যটি আবারও বিশ্বমঞ্চে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, মানবিক কারণে প্রায় এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসা বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। রোহিঙ্গারা নিজেরাও এখন তাদের নিজেদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে চরম ব্যাকুল হয়ে আছে, তাই এই মানবিক সংকটের দ্রুত অবসান হওয়া এখন সময়ের দাবি।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে বক্তব্য প্রদানকালে এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে আবারও স্মরণ করিয়ে দেন যে, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার এবং এর একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার প্রাথমিক ও প্রধান দায়িত্ব দেশটির সরকারকেই পালন করতে হবে। প্রায় বারো লাখ রোহিঙ্গাকে দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ওপর এখন এক অসহনীয় বোঝা তৈরি হয়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের কারণে দেশের সামাজিক কাঠামো, অর্থনীতি, পরিবেশ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার ওপর যে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা ক্রমেই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রোহিঙ্গা সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশ তার অবস্থান থেকে যে অটল, তা পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত নোমান চৌধুরী আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু মৌখিক আশ্বাস বা সহানুভূতি প্রদান করলেই এই সমস্যার সমাধান মিলবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন তাদের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে হবে, যাতে মিয়ানমারের ভেতরে এমন একটি অনুকূল ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে রোহিঙ্গারা মর্যাদাপূর্ণভাবে তাদের ভিটেমাটিতে ফিরে যেতে পারে।
বর্তমান বিশ্বে ফিলিস্তিন ও ইউক্রেন সংকটের মতো ভয়াবহ ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও যেন রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টির আড়ালে চলে না যায়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই কঠোর ও সময়োপযোগী অবস্থান বিশ্ব সম্প্রদায়কে তাদের নৈতিক দায়িত্ব মনে করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বনেতারা যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন, তবে এই সংকট কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের পথ যে একমাত্র তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসন, সেই পুরনো অথচ অমোঘ সত্যটি আবারও বিশ্বমঞ্চে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, মানবিক কারণে প্রায় এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসা বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। রোহিঙ্গারা নিজেরাও এখন তাদের নিজেদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে চরম ব্যাকুল হয়ে আছে, তাই এই মানবিক সংকটের দ্রুত অবসান হওয়া এখন সময়ের দাবি।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে বক্তব্য প্রদানকালে এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে আবারও স্মরণ করিয়ে দেন যে, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার এবং এর একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার প্রাথমিক ও প্রধান দায়িত্ব দেশটির সরকারকেই পালন করতে হবে। প্রায় বারো লাখ রোহিঙ্গাকে দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ওপর এখন এক অসহনীয় বোঝা তৈরি হয়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের কারণে দেশের সামাজিক কাঠামো, অর্থনীতি, পরিবেশ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার ওপর যে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা ক্রমেই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রোহিঙ্গা সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশ তার অবস্থান থেকে যে অটল, তা পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত নোমান চৌধুরী আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু মৌখিক আশ্বাস বা সহানুভূতি প্রদান করলেই এই সমস্যার সমাধান মিলবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন তাদের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে হবে, যাতে মিয়ানমারের ভেতরে এমন একটি অনুকূল ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে রোহিঙ্গারা মর্যাদাপূর্ণভাবে তাদের ভিটেমাটিতে ফিরে যেতে পারে।
বর্তমান বিশ্বে ফিলিস্তিন ও ইউক্রেন সংকটের মতো ভয়াবহ ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও যেন রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টির আড়ালে চলে না যায়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই কঠোর ও সময়োপযোগী অবস্থান বিশ্ব সম্প্রদায়কে তাদের নৈতিক দায়িত্ব মনে করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বনেতারা যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন, তবে এই সংকট কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন