সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৪ বছর পার হতে চললেও এখনো কোনো কূলকিনারা হয়নি। চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় নিয়ে আদালতের দীর্ঘসূত্রতা যেন এক অন্তহীন প্রতীক্ষায় রূপ নিয়েছে। সবশেষ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত প্রতিবেদন জমার জন্য আগামী ২২ জুলাই নতুন দিন ধার্য করেছেন। এটি ছিল এই মামলাটির ১২৭তম বারের মতো সময় বাড়ানো। নির্ধারিত দিনে পিবিআই’র অতিরিক্ত এসপি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত এই আদেশ দেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এই ঘটনার পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। ঘটনার ভয়াবহতা এবং জনদাবি বিবেচনায় মামলার তদন্তের দায়িত্ব শুরুতে থানা পুলিশ, পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে এলিট ফোর্স র্যাবের হাতে ন্যস্ত করা হয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও র্যাব তদন্তে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এই মামলার তদন্তে নতুন গতি আনতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশনা দেন। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ সংশ্লিষ্টদের এই তদন্ত কার্যক্রম ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার সময়সীমা বেঁধে দেন। একই আদেশে মামলাটি র্যাবের হাত থেকে সরিয়ে নেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে।
মামলাটিতে রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ এবং বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া সাগর-রুনির বন্ধু হিসেবে পরিচিত তানভীর রহমান খানও এই মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত। তাদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে মুক্ত থাকলেও বাকিরা কারাগারে আটক রয়েছেন।
একটি জাতীয় দৈনিকে কর্মরত দুই সাংবাদিকের এমন করুণ পরিণতি এবং দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিচারের আশায় পরিবারসহ দেশবাসীর অপেক্ষা ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তদন্তের দায়িত্ব বারবার হাতবদল এবং প্রতিবেদন দাখিলের জন্য শতাধিকবার সময় পেছানোর ঘটনাটি বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। এখন নতুন গঠিত টাস্কফোর্সের ওপরই ঝুলে আছে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের শেষ ভরসা।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৪ বছর পার হতে চললেও এখনো কোনো কূলকিনারা হয়নি। চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় নিয়ে আদালতের দীর্ঘসূত্রতা যেন এক অন্তহীন প্রতীক্ষায় রূপ নিয়েছে। সবশেষ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত প্রতিবেদন জমার জন্য আগামী ২২ জুলাই নতুন দিন ধার্য করেছেন। এটি ছিল এই মামলাটির ১২৭তম বারের মতো সময় বাড়ানো। নির্ধারিত দিনে পিবিআই’র অতিরিক্ত এসপি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত এই আদেশ দেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এই ঘটনার পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। ঘটনার ভয়াবহতা এবং জনদাবি বিবেচনায় মামলার তদন্তের দায়িত্ব শুরুতে থানা পুলিশ, পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে এলিট ফোর্স র্যাবের হাতে ন্যস্ত করা হয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও র্যাব তদন্তে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এই মামলার তদন্তে নতুন গতি আনতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশনা দেন। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ সংশ্লিষ্টদের এই তদন্ত কার্যক্রম ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার সময়সীমা বেঁধে দেন। একই আদেশে মামলাটি র্যাবের হাত থেকে সরিয়ে নেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে।
মামলাটিতে রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ এবং বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া সাগর-রুনির বন্ধু হিসেবে পরিচিত তানভীর রহমান খানও এই মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত। তাদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে মুক্ত থাকলেও বাকিরা কারাগারে আটক রয়েছেন।
একটি জাতীয় দৈনিকে কর্মরত দুই সাংবাদিকের এমন করুণ পরিণতি এবং দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিচারের আশায় পরিবারসহ দেশবাসীর অপেক্ষা ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তদন্তের দায়িত্ব বারবার হাতবদল এবং প্রতিবেদন দাখিলের জন্য শতাধিকবার সময় পেছানোর ঘটনাটি বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। এখন নতুন গঠিত টাস্কফোর্সের ওপরই ঝুলে আছে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের শেষ ভরসা।

আপনার মতামত লিখুন