রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে আটকা পড়া দুই বাংলাদেশি যুবকের বাঁচার আকুতি সম্বলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে গভীর উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি করেছে। ভিডিওবার্তায় ওই যুবকরা কান্নায় ভেঙে পড়ে দেশে ফেরার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দেশবাসীর কাছে জরুরি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, একটি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে তারা কর্মসংস্থানের আশায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে।
ভিডিওতে কথা বলা দুই যুবকের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে মাইনুদ্দিন হিসেবে, যার বাড়ি চাঁদপুরে। তারা জানিয়েছেন, মোট ত্রিশ জনের একটি দল ভাগ্যের সন্ধানে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের বহনকারী এজেন্সি তাদের স্থানীয় দুই ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়। কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণাধীন কোনো প্রকল্পে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে অত্যন্ত কৌশলে তাদের এই ভয়াবহ যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের ক্যাম্পে রাখার পর মাত্র তিন থেকে চার দিনের নামমাত্র প্রশিক্ষণ দিয়েই সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
জীবন বাঁচাতে আকুতি জানিয়ে ওই যুবকরা বলেন, এখানে ড্রোন হামলা, গ্রেনেড বিস্ফোরণ কিংবা ল্যান্ডমাইনের মতো ভয়াবহ বিপদের মুখে তারা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। তারা শঙ্কা প্রকাশ করেন যে, যেকোনো মুহূর্তেই তাদের পুনরায় সম্মুখ সমরে পাঠানো হতে পারে। ওই যুবকদের দেওয়া তথ্যমতে, ত্রিশ জনের ওই দলের মধ্যে বারোজন ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন। জীবিত থাকা বাকি চারজনের সবাই গুরুতর আহত অবস্থায় কোনোমতে টিকে আছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রোন হামলায় মাইনুদ্দিনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং অপর যুবকের বাম হাত জখম হয়েছে।
নিজেদের অসহায়ত্বের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তারা বলেন, ভিনদেশি যুদ্ধক্ষেত্রে শিয়াল-কুকুরের মতো মৃত্যু তারা চান না। তাদের শেষ ইচ্ছা—দেশের মাটিতে অন্তত তাদের জানাজা যেন হয়। এমন অনিশ্চিত এবং অমানবিক পরিস্থিতিতে পড়ে তারা আজ দিশেহারা। তারা বারবার সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন যেন কূটনৈতিকভাবে উদ্যোগ নিয়ে তাদের জীবিত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সরকার এই অসহায় যুবকদের রক্ষায় দ্রুত কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে আটকা পড়া দুই বাংলাদেশি যুবকের বাঁচার আকুতি সম্বলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে গভীর উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি করেছে। ভিডিওবার্তায় ওই যুবকরা কান্নায় ভেঙে পড়ে দেশে ফেরার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দেশবাসীর কাছে জরুরি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, একটি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে তারা কর্মসংস্থানের আশায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে।
ভিডিওতে কথা বলা দুই যুবকের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে মাইনুদ্দিন হিসেবে, যার বাড়ি চাঁদপুরে। তারা জানিয়েছেন, মোট ত্রিশ জনের একটি দল ভাগ্যের সন্ধানে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের বহনকারী এজেন্সি তাদের স্থানীয় দুই ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়। কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণাধীন কোনো প্রকল্পে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে অত্যন্ত কৌশলে তাদের এই ভয়াবহ যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের ক্যাম্পে রাখার পর মাত্র তিন থেকে চার দিনের নামমাত্র প্রশিক্ষণ দিয়েই সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
জীবন বাঁচাতে আকুতি জানিয়ে ওই যুবকরা বলেন, এখানে ড্রোন হামলা, গ্রেনেড বিস্ফোরণ কিংবা ল্যান্ডমাইনের মতো ভয়াবহ বিপদের মুখে তারা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। তারা শঙ্কা প্রকাশ করেন যে, যেকোনো মুহূর্তেই তাদের পুনরায় সম্মুখ সমরে পাঠানো হতে পারে। ওই যুবকদের দেওয়া তথ্যমতে, ত্রিশ জনের ওই দলের মধ্যে বারোজন ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন। জীবিত থাকা বাকি চারজনের সবাই গুরুতর আহত অবস্থায় কোনোমতে টিকে আছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রোন হামলায় মাইনুদ্দিনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং অপর যুবকের বাম হাত জখম হয়েছে।
নিজেদের অসহায়ত্বের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তারা বলেন, ভিনদেশি যুদ্ধক্ষেত্রে শিয়াল-কুকুরের মতো মৃত্যু তারা চান না। তাদের শেষ ইচ্ছা—দেশের মাটিতে অন্তত তাদের জানাজা যেন হয়। এমন অনিশ্চিত এবং অমানবিক পরিস্থিতিতে পড়ে তারা আজ দিশেহারা। তারা বারবার সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন যেন কূটনৈতিকভাবে উদ্যোগ নিয়ে তাদের জীবিত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সরকার এই অসহায় যুবকদের রক্ষায় দ্রুত কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

আপনার মতামত লিখুন