দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের সামগ্রিক মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক ও গবেষণা কার্যক্রমকে গতিশীল করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অনুকূলে মোট ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকার বিশাল অঙ্কের বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। গত ১১ জুন ইউজিসি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ১৮৭তম পূর্ণ কমিশন সভায় এই বাজেট চূড়ান্ত করা হয়। অনুমোদিত বরাদ্দের সিংহভাগই দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
অনুমোদিত এই মেগা বাজেটের মধ্যে ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ইউজিসির নিজস্ব পরিচালন ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য রাখা হয়েছে ২৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট বরাদ্দের একটি বড় অংশ ব্যয় হবে প্রশাসনিক ও অভ্যন্তরীণ পরিচালন খাতে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং আনুষঙ্গিক রাজস্ব ব্যয় নির্বাহের জন্য। এছাড়া দেশের ৪৩টি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিধি বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
এবারের বাজেটে সবচেয়ে বড় সংস্কার আনা হয়েছে উচ্চশিক্ষার মূল চালিকাশক্তি গবেষণা খাতে। গবেষণা কার্যক্রমে দ্বৈততা ও অহেতুক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং ইউজিসির গবেষণা বাজেটকে একীভূত করা হয়েছে। গত ৪ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো সংক্রান্ত ত্রিপক্ষীয় সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নতুন এই উদ্যোগের ফলে এখন থেকে ইউজিসির মূল বাজেটের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতের জন্য ২০০ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর ফলে ইউজিসির নিজস্ব গবেষণা বাজেট এখন দাঁড়িয়েছে ২২৬ কোটি টাকায়। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের গবেষকদের বৈশ্বিক স্কলারশিপ বাবদ আরও ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার ফলে গবেষণা ও স্কলারশিপ খাতে মোট প্রাপ্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩৮ কোটি টাকা।
বরাদ্দের দিক থেকে বরাবরের মতোই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি এবার সর্বোচ্চ ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকার রাজস্ব বরাদ্দ পেয়েছে। দেশের প্রধান প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বরাদ্দের চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: ৪৮১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: ৫৪৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: ৫০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ৩৫২ কোটি ১২ লাখ টাকা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট): ২৮০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়: ২৭৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা
এছাড়া মাঝারি ও অন্যান্য আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ১৮২ কোটি tracking ৯২ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। নতুন ও বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ৯ কোটি ১২ লাখ টাকা, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় ৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং তালিকায় সবচেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েছে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরিমাণ ৬৩ লাখ টাকা।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরেই বাজেট ঘাটতি এবং গবেষণা খাতে অপর্যাপ্ত বরাদ্দের বিষয়ে শিক্ষাবিদদের পক্ষ থেকে দাবি উত্থাপিত হয়ে আসছিল। বিশেষ করে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা অনুদান দেওয়ার কারণে তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠত। এবারের বাজেটে গবেষণা খাতকে একীভূতকরণ এবং বরাদ্দ বৃদ্ধি সেই দীর্ঘদিনের সংকট কাটানোর একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমন্বিত উদ্যোগ ও বিশাল অর্থ বরাদ্দের ফলে দেশের উচ্চশিক্ষার মান আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত হবে এবং জাতীয় পর্যায়ের মৌলিক গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আরও বেশি কার্যকর অবদান রাখতে পারবে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের সামগ্রিক মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক ও গবেষণা কার্যক্রমকে গতিশীল করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অনুকূলে মোট ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকার বিশাল অঙ্কের বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। গত ১১ জুন ইউজিসি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ১৮৭তম পূর্ণ কমিশন সভায় এই বাজেট চূড়ান্ত করা হয়। অনুমোদিত বরাদ্দের সিংহভাগই দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
অনুমোদিত এই মেগা বাজেটের মধ্যে ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ইউজিসির নিজস্ব পরিচালন ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য রাখা হয়েছে ২৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট বরাদ্দের একটি বড় অংশ ব্যয় হবে প্রশাসনিক ও অভ্যন্তরীণ পরিচালন খাতে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং আনুষঙ্গিক রাজস্ব ব্যয় নির্বাহের জন্য। এছাড়া দেশের ৪৩টি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিধি বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
এবারের বাজেটে সবচেয়ে বড় সংস্কার আনা হয়েছে উচ্চশিক্ষার মূল চালিকাশক্তি গবেষণা খাতে। গবেষণা কার্যক্রমে দ্বৈততা ও অহেতুক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং ইউজিসির গবেষণা বাজেটকে একীভূত করা হয়েছে। গত ৪ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো সংক্রান্ত ত্রিপক্ষীয় সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নতুন এই উদ্যোগের ফলে এখন থেকে ইউজিসির মূল বাজেটের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতের জন্য ২০০ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর ফলে ইউজিসির নিজস্ব গবেষণা বাজেট এখন দাঁড়িয়েছে ২২৬ কোটি টাকায়। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের গবেষকদের বৈশ্বিক স্কলারশিপ বাবদ আরও ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার ফলে গবেষণা ও স্কলারশিপ খাতে মোট প্রাপ্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩৮ কোটি টাকা।
বরাদ্দের দিক থেকে বরাবরের মতোই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি এবার সর্বোচ্চ ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকার রাজস্ব বরাদ্দ পেয়েছে। দেশের প্রধান প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বরাদ্দের চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: ৪৮১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: ৫৪৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: ৫০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ৩৫২ কোটি ১২ লাখ টাকা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট): ২৮০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়: ২৭৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা
এছাড়া মাঝারি ও অন্যান্য আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ১৮২ কোটি tracking ৯২ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। নতুন ও বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ৯ কোটি ১২ লাখ টাকা, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় ৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং তালিকায় সবচেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েছে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরিমাণ ৬৩ লাখ টাকা।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরেই বাজেট ঘাটতি এবং গবেষণা খাতে অপর্যাপ্ত বরাদ্দের বিষয়ে শিক্ষাবিদদের পক্ষ থেকে দাবি উত্থাপিত হয়ে আসছিল। বিশেষ করে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা অনুদান দেওয়ার কারণে তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠত। এবারের বাজেটে গবেষণা খাতকে একীভূতকরণ এবং বরাদ্দ বৃদ্ধি সেই দীর্ঘদিনের সংকট কাটানোর একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমন্বিত উদ্যোগ ও বিশাল অর্থ বরাদ্দের ফলে দেশের উচ্চশিক্ষার মান আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত হবে এবং জাতীয় পর্যায়ের মৌলিক গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আরও বেশি কার্যকর অবদান রাখতে পারবে।

আপনার মতামত লিখুন