দিকপাল

মেধা পাচার রোধে বড় বাজেট প্রস্তাব শিক্ষা খাতে নতুন উদ্যোগ


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ | ০৪:৩৪ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

মেধা পাচার রোধে বড় বাজেট প্রস্তাব শিক্ষা খাতে নতুন উদ্যোগ

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিক্ষা ও গবেষণা খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মেধাবী ও দক্ষ জনশক্তির বিদেশমুখী হওয়া বা মেধা পাচার। এই সংকটকে কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে সরকার এখন একটি ইতিবাচক রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মেধা পাচারের এই প্রবণতাকে ‘মেধা আবর্তন’ বা মেধার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো—বিদেশে অবস্থানরত উচ্চশিক্ষিত বাংলাদেশি পেশাজীবী ও গবেষকদের মেধা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উদ্ভাবনী গবেষণায় সম্পৃক্ত করা।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষাবিদদের সাথে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্রেডিট ট্রান্সফার পদ্ধতি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি এবং বিভিন্ন যৌথ গবেষণা প্রকল্প চালু করা হবে। এছাড়া সামার স্কুল এবং ভিজিটিং স্কলার স্কিম প্রবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দেশেই বসেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও পেশাদার নেটওয়ার্কের সুবিধা পাবেন। সরকারের এই উদ্যোগ কেবল মেধা ধরে রাখার প্রচেষ্টাই নয়, বরং দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশল।

শিক্ষার সকল স্তরে গুণগত মান নিশ্চিত করাকে সরকার জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা, এমনকি মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাকেও এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং তাদের কর্মসংস্থান উপযোগী করে তোলার জন্য বিশেষ কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। ডিজিটাল লার্নিং টুলস ও আধুনিক শিক্ষাসামগ্রীর ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশকে আরও যুগোপযোগী করার অঙ্গীকার করা হয়েছে এই বাজেটে। পাশাপাশি, শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের মানসম্মত শিক্ষাদানে উৎসাহিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থাও এই পরিকল্পনার অংশ।

যুব উন্নয়নকে আগামী দিনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে সরকার তরুণ প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে। মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান সরকার এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চায় যারা কেবল চাকরির খোঁজে থাকবে না, বরং নিজেরাই নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। এই লক্ষ্য পূরণে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে এই খাতে ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও, আগামী অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। জিডিপির অনুপাতে এই বরাদ্দ ২ শতাংশে পৌঁছাবে, যা দেশের ইতিহাসে শিক্ষা খাতে অন্যতম বড় বাজেট বরাদ্দ। সামগ্রিকভাবে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক রূপান্তরে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং একটি মেধাবী ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


মেধা পাচার রোধে বড় বাজেট প্রস্তাব শিক্ষা খাতে নতুন উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিক্ষা ও গবেষণা খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মেধাবী ও দক্ষ জনশক্তির বিদেশমুখী হওয়া বা মেধা পাচার। এই সংকটকে কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে সরকার এখন একটি ইতিবাচক রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মেধা পাচারের এই প্রবণতাকে ‘মেধা আবর্তন’ বা মেধার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো—বিদেশে অবস্থানরত উচ্চশিক্ষিত বাংলাদেশি পেশাজীবী ও গবেষকদের মেধা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উদ্ভাবনী গবেষণায় সম্পৃক্ত করা।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষাবিদদের সাথে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্রেডিট ট্রান্সফার পদ্ধতি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি এবং বিভিন্ন যৌথ গবেষণা প্রকল্প চালু করা হবে। এছাড়া সামার স্কুল এবং ভিজিটিং স্কলার স্কিম প্রবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দেশেই বসেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও পেশাদার নেটওয়ার্কের সুবিধা পাবেন। সরকারের এই উদ্যোগ কেবল মেধা ধরে রাখার প্রচেষ্টাই নয়, বরং দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশল।

শিক্ষার সকল স্তরে গুণগত মান নিশ্চিত করাকে সরকার জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা, এমনকি মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাকেও এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং তাদের কর্মসংস্থান উপযোগী করে তোলার জন্য বিশেষ কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। ডিজিটাল লার্নিং টুলস ও আধুনিক শিক্ষাসামগ্রীর ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশকে আরও যুগোপযোগী করার অঙ্গীকার করা হয়েছে এই বাজেটে। পাশাপাশি, শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের মানসম্মত শিক্ষাদানে উৎসাহিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থাও এই পরিকল্পনার অংশ।

যুব উন্নয়নকে আগামী দিনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে সরকার তরুণ প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে। মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান সরকার এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চায় যারা কেবল চাকরির খোঁজে থাকবে না, বরং নিজেরাই নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। এই লক্ষ্য পূরণে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে এই খাতে ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও, আগামী অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। জিডিপির অনুপাতে এই বরাদ্দ ২ শতাংশে পৌঁছাবে, যা দেশের ইতিহাসে শিক্ষা খাতে অন্যতম বড় বাজেট বরাদ্দ। সামগ্রিকভাবে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক রূপান্তরে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং একটি মেধাবী ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল