দেশের শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শিক্ষকদের অবসর সুবিধা ও অন্যান্য বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধের লক্ষ্যে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী জুলাই মাস থেকেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বকেয়া ভাতার প্রথম কিস্তি বাবদ ন্যূনতম এক লাখ টাকা করে দেওয়া শুরু হবে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। মন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা কাটানোর জন্য সরকার ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় থোক বরাদ্দ পেয়েছে এবং এর মাধ্যমেই বকেয়া পরিশোধের নতুন যাত্রা শুরু হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী তাদের ন্যায্য অবসর ভাতার সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ফান্ডের সংকটে বছরের পর বছর আবেদন ঝুলে থাকায় চরম অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটছিল এই মানুষগুলোর। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বিশাল সংখ্যক ভুক্তভোগী শিক্ষকের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
অবসর ভাতার পাশাপাশি কর্মরত শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়েও সুখবর দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষকদের বর্তমানের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা (বোনাস) শতভাগে উন্নীত করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর প্রথম ধাপ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০ শতাংশ ভাতা বাড়ানোর একটি প্রস্তাব বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জাতীয় সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশন শেষ হলে পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের শতভাগ উৎসব ভাতা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের তীব্র সংকট এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্থবিরতা নিয়ে মাঠপর্যায়ের উদ্বেগ দূর করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে সারা দেশে ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি আইনি জটিলতায় আটকে আছে। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে এই শূন্য পদগুলোতে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মন্ত্রণালয়ের আইনি সীমাবদ্ধতার একটি চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, "বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে প্রায় ৮৩ হাজার ৫০০টি মামলা চলমান রয়েছে। বিপুল সংখ্যক মামলার কারণে শিক্ষা প্রশাসনের স্বাভাবিক গতি ও শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ধীর হয়ে পড়েছে।"
এই আইনি গোলকধাঁধা ও মামলাজট থেকে দ্রুত বের হয়ে আসার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ঘটিয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সচল করা এবং দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই এখন মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য বলে আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
দেশের শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শিক্ষকদের অবসর সুবিধা ও অন্যান্য বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধের লক্ষ্যে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী জুলাই মাস থেকেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বকেয়া ভাতার প্রথম কিস্তি বাবদ ন্যূনতম এক লাখ টাকা করে দেওয়া শুরু হবে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। মন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা কাটানোর জন্য সরকার ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় থোক বরাদ্দ পেয়েছে এবং এর মাধ্যমেই বকেয়া পরিশোধের নতুন যাত্রা শুরু হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী তাদের ন্যায্য অবসর ভাতার সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ফান্ডের সংকটে বছরের পর বছর আবেদন ঝুলে থাকায় চরম অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটছিল এই মানুষগুলোর। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বিশাল সংখ্যক ভুক্তভোগী শিক্ষকের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
অবসর ভাতার পাশাপাশি কর্মরত শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়েও সুখবর দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষকদের বর্তমানের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা (বোনাস) শতভাগে উন্নীত করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর প্রথম ধাপ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০ শতাংশ ভাতা বাড়ানোর একটি প্রস্তাব বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জাতীয় সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশন শেষ হলে পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের শতভাগ উৎসব ভাতা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের তীব্র সংকট এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্থবিরতা নিয়ে মাঠপর্যায়ের উদ্বেগ দূর করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে সারা দেশে ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি আইনি জটিলতায় আটকে আছে। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে এই শূন্য পদগুলোতে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মন্ত্রণালয়ের আইনি সীমাবদ্ধতার একটি চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, "বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে প্রায় ৮৩ হাজার ৫০০টি মামলা চলমান রয়েছে। বিপুল সংখ্যক মামলার কারণে শিক্ষা প্রশাসনের স্বাভাবিক গতি ও শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ধীর হয়ে পড়েছে।"
এই আইনি গোলকধাঁধা ও মামলাজট থেকে দ্রুত বের হয়ে আসার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ঘটিয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সচল করা এবং দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই এখন মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য বলে আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন।

আপনার মতামত লিখুন