দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও বৈপ্লবিক উপায়ে ঢেলে সাজানোর জন্য বর্তমান সরকার অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান পাঠ্যক্রম বা কারিকুলামে নানামুখী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিমার্জন আনার কাজ চলছে। তবে চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইগুলো প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন সম্পন্ন করেই মুদ্রণ করা হচ্ছে। আর আগামী ২০export২৮ সালে দেশের শিক্ষাক্রম বা কারিকুলামে একটি সামগ্রিক ও আমূল পরিবর্তন আনা হবে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অবস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তিনি এই নতুন রূপরেখা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মানিত সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর এএসএম আমানুল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের নানামুখী তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে বলেন যে, বর্তমান সরকারের মাত্র তিন মাসের এই সংক্ষিপ্ত মেয়াদে একটি দেশের গোটা কারিকুলাম রাতারাতি পরিবর্তন করে ফেলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এবার অত্যন্ত নিখুঁত ও সঠিকভাবে পরিমার্জন করে নতুন বইগুলো ছাপানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি আধুনিকায়নের জন্য পর্দার আড়ালে বিশেষজ্ঞ দল নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, যার চূড়ান্ত প্রতিফলন আগামী ২০২৮ সালে দেশবাসী দেখতে পাবেন। শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান যে, মুখস্থ বিদ্যার চেয়ে তাত্ত্বিক ও বাস্তব শিখন ফল অর্জনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হবে। এর পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতীত ও বর্তমানের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি চিহ্নিত করে জনসাধারণের সামনে একটি বিস্তারিত শ্বেতপত্র প্রকাশের বড় ধরনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, দেশের ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা ও কারিকুলামকে যতটা সম্ভব দ্রুত ও কার্যকরভাবে সংস্কার করার আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে বিগত দীর্ঘ ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত ও জট পাকানো সব সমস্যার সমাধান মাত্র একদিনে বা এক বছরে করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যত দ্রুত সম্ভব পাঠ্যবইসমূহে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন, নতুন তথ্য সংযোজন এবং অপ্রাসঙ্গিক বিষয় বিয়োজন করা হবে। একটি নির্দিষ্ট ও যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই এই প্রয়োজনীয় সব পরিবর্তন মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন চারটি পাঠ্যবই যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শ্রেণি থেকে কোমলমতি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা এবং সংস্কৃতি বিষয়ক দুটি নতুন বই পড়তে হবে। আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মমুখী করতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করতে আনন্দের সাথে শেখা নামক দুটি সময়োপযোগী পাঠ্যবই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপির রাজনৈতিক নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আলোকে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর এই কর্মযজ্ঞ চলছে। তিনি বলেন, আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন একটি আধুনিক স্তরে নিয়ে যেতে চাই যেখানে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত সৃজনশীলতা, মেধা এবং মননশীলতার প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। শুধু পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন বা কাগজের সার্টিফিকেটের পেছনে না ছুটে কীভাবে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করা যায়, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করছে। আমরা এমন একটি সুষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর, যেখানে আমাদের আগামীর তরুণ প্রজন্ম কেবল উচ্চশিক্ষিতই হবে না, বরং একেকজন সুদক্ষ ও আদর্শ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হবে। এর ফলে তারা বাস্তব জীবনে সফল আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ কিংবা যেকোনো যোগ্য চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে।
শিক্ষাক্ষেত্রের বড় একটি সুসংবাদ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান যে, চলতি বছরের বহুল প্রতীক্ষিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আগামী ২০ জুলাই একযোগে প্রকাশিত হবে। দেশের সব শিক্ষা বোর্ডকে এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত আইনি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে সেশনজটের কারণে অতীতে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে গেছে। ১৮ বছর বয়সে যেখানে একজন শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক পড়াশোনা শেষ হওয়ার কথা, সেখানে সেশনজটের অভিশাপের কারণে অনেকের ২০ বছর পার হয়ে যাচ্ছে। এই জটলা কাটাতে শুধু এসএসসি নয়, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের সব শিক্ষাবর্ষের সেশনগুলোকেও একটি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষের এসএসসি পরীক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, ২০corporate২৬ সালের জুনের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের বাৎসরিক সিলেবাস বা পাঠ্যসূচি শেষ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেশনজট পুরোপুরি চিরতরে দূর করতে সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার বা অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু এবং ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করার একটি খসড়া রুটিন বা সময়সূচি তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই রুটিনটি নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের প্রতিক্রিয়া, সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আলোচনা ও জনমত আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে পুনরায় বসে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা পবিত্র রমজান মাস বা রোজার আগেই যেন সুন্দরভাবে শেষ হয়, এটা মূলত সংশ্লিষ্ট অভিভাবক ও শিক্ষকেরাই চেয়েছিলেন। সেই জনদাবির প্রতি সম্মান রেখেই ৭ জানুয়ারি থেকে এই পরীক্ষা শুরু করার জন্য রুটিন করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই বহাল আছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ অংশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে চলমান একটি বিশাল ক্রীড়া যজ্ঞের বিবরণ দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালক ও বালিকাদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথকভাবে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই বিশাল প্রতিযোগিতায় দেশের প্রায় ১১ লাখের বেশি ছাত্রী এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্র, অর্থাৎ মোট ২২ লাখেরও বেশি কোমলমতি খুদে শিক্ষার্থী এই ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। আগামী ২০ জুন জাতীয় আর্মি স্টেডিয়ামে এই ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত বা ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে। দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সমাপনী খেলার শুভ উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ করবেন। সংবাদ সম্মেলনে দৃঢ়তার সাথে জানানো হয় যে, সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবেই ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে মূল শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে এই ধরনের বড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। এসব আয়োজন শুধু রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক নয়; বরং দেশের প্রত্যন্ত তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গ্রামীণ জনপদে উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬
দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও বৈপ্লবিক উপায়ে ঢেলে সাজানোর জন্য বর্তমান সরকার অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান পাঠ্যক্রম বা কারিকুলামে নানামুখী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিমার্জন আনার কাজ চলছে। তবে চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইগুলো প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন সম্পন্ন করেই মুদ্রণ করা হচ্ছে। আর আগামী ২০export২৮ সালে দেশের শিক্ষাক্রম বা কারিকুলামে একটি সামগ্রিক ও আমূল পরিবর্তন আনা হবে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অবস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তিনি এই নতুন রূপরেখা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মানিত সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর এএসএম আমানুল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের নানামুখী তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে বলেন যে, বর্তমান সরকারের মাত্র তিন মাসের এই সংক্ষিপ্ত মেয়াদে একটি দেশের গোটা কারিকুলাম রাতারাতি পরিবর্তন করে ফেলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এবার অত্যন্ত নিখুঁত ও সঠিকভাবে পরিমার্জন করে নতুন বইগুলো ছাপানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি আধুনিকায়নের জন্য পর্দার আড়ালে বিশেষজ্ঞ দল নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, যার চূড়ান্ত প্রতিফলন আগামী ২০২৮ সালে দেশবাসী দেখতে পাবেন। শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান যে, মুখস্থ বিদ্যার চেয়ে তাত্ত্বিক ও বাস্তব শিখন ফল অর্জনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হবে। এর পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতীত ও বর্তমানের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি চিহ্নিত করে জনসাধারণের সামনে একটি বিস্তারিত শ্বেতপত্র প্রকাশের বড় ধরনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, দেশের ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা ও কারিকুলামকে যতটা সম্ভব দ্রুত ও কার্যকরভাবে সংস্কার করার আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে বিগত দীর্ঘ ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত ও জট পাকানো সব সমস্যার সমাধান মাত্র একদিনে বা এক বছরে করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যত দ্রুত সম্ভব পাঠ্যবইসমূহে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন, নতুন তথ্য সংযোজন এবং অপ্রাসঙ্গিক বিষয় বিয়োজন করা হবে। একটি নির্দিষ্ট ও যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই এই প্রয়োজনীয় সব পরিবর্তন মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন চারটি পাঠ্যবই যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শ্রেণি থেকে কোমলমতি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা এবং সংস্কৃতি বিষয়ক দুটি নতুন বই পড়তে হবে। আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মমুখী করতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করতে আনন্দের সাথে শেখা নামক দুটি সময়োপযোগী পাঠ্যবই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপির রাজনৈতিক নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আলোকে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর এই কর্মযজ্ঞ চলছে। তিনি বলেন, আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন একটি আধুনিক স্তরে নিয়ে যেতে চাই যেখানে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত সৃজনশীলতা, মেধা এবং মননশীলতার প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। শুধু পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন বা কাগজের সার্টিফিকেটের পেছনে না ছুটে কীভাবে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করা যায়, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করছে। আমরা এমন একটি সুষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর, যেখানে আমাদের আগামীর তরুণ প্রজন্ম কেবল উচ্চশিক্ষিতই হবে না, বরং একেকজন সুদক্ষ ও আদর্শ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হবে। এর ফলে তারা বাস্তব জীবনে সফল আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ কিংবা যেকোনো যোগ্য চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে।
শিক্ষাক্ষেত্রের বড় একটি সুসংবাদ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান যে, চলতি বছরের বহুল প্রতীক্ষিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আগামী ২০ জুলাই একযোগে প্রকাশিত হবে। দেশের সব শিক্ষা বোর্ডকে এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত আইনি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে সেশনজটের কারণে অতীতে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে গেছে। ১৮ বছর বয়সে যেখানে একজন শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক পড়াশোনা শেষ হওয়ার কথা, সেখানে সেশনজটের অভিশাপের কারণে অনেকের ২০ বছর পার হয়ে যাচ্ছে। এই জটলা কাটাতে শুধু এসএসসি নয়, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের সব শিক্ষাবর্ষের সেশনগুলোকেও একটি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষের এসএসসি পরীক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, ২০corporate২৬ সালের জুনের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের বাৎসরিক সিলেবাস বা পাঠ্যসূচি শেষ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেশনজট পুরোপুরি চিরতরে দূর করতে সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার বা অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু এবং ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করার একটি খসড়া রুটিন বা সময়সূচি তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই রুটিনটি নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের প্রতিক্রিয়া, সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আলোচনা ও জনমত আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে পুনরায় বসে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা পবিত্র রমজান মাস বা রোজার আগেই যেন সুন্দরভাবে শেষ হয়, এটা মূলত সংশ্লিষ্ট অভিভাবক ও শিক্ষকেরাই চেয়েছিলেন। সেই জনদাবির প্রতি সম্মান রেখেই ৭ জানুয়ারি থেকে এই পরীক্ষা শুরু করার জন্য রুটিন করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই বহাল আছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ অংশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে চলমান একটি বিশাল ক্রীড়া যজ্ঞের বিবরণ দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালক ও বালিকাদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথকভাবে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই বিশাল প্রতিযোগিতায় দেশের প্রায় ১১ লাখের বেশি ছাত্রী এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্র, অর্থাৎ মোট ২২ লাখেরও বেশি কোমলমতি খুদে শিক্ষার্থী এই ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। আগামী ২০ জুন জাতীয় আর্মি স্টেডিয়ামে এই ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত বা ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে। দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সমাপনী খেলার শুভ উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ করবেন। সংবাদ সম্মেলনে দৃঢ়তার সাথে জানানো হয় যে, সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবেই ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে মূল শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে এই ধরনের বড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। এসব আয়োজন শুধু রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক নয়; বরং দেশের প্রত্যন্ত তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গ্রামীণ জনপদে উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন