দিকপাল

স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনল ইতালি


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ | ০৪:৪০ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনল ইতালি

ইউরোপের উন্নত দেশ ইতালিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়াকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নতুন কিছু নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকায় অবস্থিত ইতালি দূতাবাস। বাংলাদেশে ইতালির ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ও আবেদন গ্রহণকারী একমাত্র অনুমোদিত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ভিএফএস গ্লোবাল জানিয়েছে, নতুন এই নিয়মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়া, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ বা স্পন্সরশিপ এবং ভাষাগত দক্ষতার মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ, স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। সোমবার ভিএফএস গ্লোবালের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন নিয়ম ও নির্দেশনাবলীর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


নতুন এই বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব উচ্চাকাঙ্ক্ষী শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই ইতালির বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব কেন্দ্রীয় ইউনিভার্সিটালি পোর্টালে সফলভাবে তাদের প্রাক-নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরেছেন, তাদের আর আগের মতো আলাদা করে বা নিজে থেকে ইন্টারনেটে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে না। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই নির্দিষ্ট পোর্টালে আবেদন করার সময় যে ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানাটি ব্যবহার করেছিলেন, সেই একই ই-মেইলে ভিএফএস গ্লোবাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি নিজে থেকে যোগাযোগ করবে। এরপর তাদের অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাই শেষে ভিএফএস-এর পক্ষ থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং সময় ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদনকারীকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট জটিলতা থেকে শিক্ষার্থীরা মুক্তি পাবেন।


উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় যে বাধাটি থাকে, সেই আর্থিক গ্যারান্টর বা স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রে এবার অত্যন্ত মানবিক ও বড় ধরনের এক শিথিলতা এনেছে ইতালি দূতাবাস। পূর্বে সাধারণত কেবল শিক্ষার্থীদের নিজের জন্মদাতা বাবা-মায়ের আর্থিক স্পন্সরশিপ বা ব্যাংকের হিসাবই কেবল গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য হতো, যা অনেক শিক্ষার্থীর জন্যই জোগাড় করা কঠিন ছিল। তবে বর্তমানের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাবা-মায়ের পাশাপাশি এখন থেকে শিক্ষার্থীর নিজের দাদা-দাদি, নানা-নানি, আপন চাচা-ফুফু, মামা-খালা এবং ফার্স্ট কাজিন অর্থাৎ আপন চাচাতো, মামাতো, খালাতো ও ফুফাতো ভাই-বোনেরাও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয়ের জন্য বৈধ আর্থিক স্পন্সর হতে পারবেন। এ ছাড়া যেসব রক্তের আত্মীয়-স্বজন বর্তমানে ইতালিতে স্থায়ী ও বৈধভাবে বসবাস করছেন, তারাও এখন থেকে দেশটিতে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ভরযোগ্য আর্থিক গ্যারান্টর হিসেবে আইনি স্বীকৃতি পাবেন।


আর্থিক কাগজপত্রের ক্ষেত্রে এমন অভাবনীয় ছাড় দেওয়া হলেও, শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কিন্তু এবার নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করেছে ফরাসি বা ইতালীয় কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে কোনো সাধারণ বা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ভাষার সার্টিফিকেট বা ভাষা শিক্ষার সনদপত্র কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে না। আন্তর্জাতিকভাবে সম্পূর্ণ স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য পরীক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া ভাষার মূল সার্টিফিকেট যেমন আইইএলটিএস অথবা সিইএলআই-এর মতো যোগ্যতার প্রমাণই কেবল গ্রহণ করা হবে। একই সাথে সেই সনদে শিক্ষার্থীর মৌখিক প্রকাশ, লিখন শৈলী, শ্রবণ ক্ষমতা এবং পারস্পরিক কথোপকথনের নিখুঁত দক্ষতার বিস্তারিত বিবরণ ও গ্রেড স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। এর পাশাপাশি মূল আবেদনপত্রের সঙ্গে শিক্ষার্থীর পূর্ববর্তী পড়াশোনার সত্যতা ও মান যাচাইয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে সিআইএমইএ অথবা ডিক্লেয়ারেশন অব ভ্যালু বা ডিওভি নামের বিশেষ আইনি প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়া পুরোপুরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


ইতালির বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাক-তালিকাভুক্তি সম্পন্ন করার পর যথাযথ নিয়ম মেনে স্টুডেন্ট ভিসা বা শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন সশরীরে জমা দেওয়ার সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। উচ্চশিক্ষা ও অভিবাসন বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতালীয় দূতাবাসের এই নতুন ও যুগান্তকারী নির্দেশনার ফলে ইতালির সামগ্রিক ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি গোছানো, সুশৃঙ্খল এবং সম্পূর্ণ দালালমুক্ত হবে, যার ফলে প্রতারিত হওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে ভাষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাগজপত্রের শর্তগুলো পূর্বের তুলনায় কিছুটা কঠোর ও নিখুঁত হওয়ায়, শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই তাদের সমস্ত ডকুমেন্টেশন বা নথিপত্র গুছিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক ও সচেতন হতে হবে।



আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনল ইতালি

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image

ইউরোপের উন্নত দেশ ইতালিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়াকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নতুন কিছু নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকায় অবস্থিত ইতালি দূতাবাস। বাংলাদেশে ইতালির ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ও আবেদন গ্রহণকারী একমাত্র অনুমোদিত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ভিএফএস গ্লোবাল জানিয়েছে, নতুন এই নিয়মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়া, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ বা স্পন্সরশিপ এবং ভাষাগত দক্ষতার মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ, স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। সোমবার ভিএফএস গ্লোবালের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন নিয়ম ও নির্দেশনাবলীর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


নতুন এই বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব উচ্চাকাঙ্ক্ষী শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই ইতালির বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব কেন্দ্রীয় ইউনিভার্সিটালি পোর্টালে সফলভাবে তাদের প্রাক-নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরেছেন, তাদের আর আগের মতো আলাদা করে বা নিজে থেকে ইন্টারনেটে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে না। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই নির্দিষ্ট পোর্টালে আবেদন করার সময় যে ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানাটি ব্যবহার করেছিলেন, সেই একই ই-মেইলে ভিএফএস গ্লোবাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি নিজে থেকে যোগাযোগ করবে। এরপর তাদের অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাই শেষে ভিএফএস-এর পক্ষ থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং সময় ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদনকারীকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট জটিলতা থেকে শিক্ষার্থীরা মুক্তি পাবেন।


উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় যে বাধাটি থাকে, সেই আর্থিক গ্যারান্টর বা স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রে এবার অত্যন্ত মানবিক ও বড় ধরনের এক শিথিলতা এনেছে ইতালি দূতাবাস। পূর্বে সাধারণত কেবল শিক্ষার্থীদের নিজের জন্মদাতা বাবা-মায়ের আর্থিক স্পন্সরশিপ বা ব্যাংকের হিসাবই কেবল গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য হতো, যা অনেক শিক্ষার্থীর জন্যই জোগাড় করা কঠিন ছিল। তবে বর্তমানের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাবা-মায়ের পাশাপাশি এখন থেকে শিক্ষার্থীর নিজের দাদা-দাদি, নানা-নানি, আপন চাচা-ফুফু, মামা-খালা এবং ফার্স্ট কাজিন অর্থাৎ আপন চাচাতো, মামাতো, খালাতো ও ফুফাতো ভাই-বোনেরাও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয়ের জন্য বৈধ আর্থিক স্পন্সর হতে পারবেন। এ ছাড়া যেসব রক্তের আত্মীয়-স্বজন বর্তমানে ইতালিতে স্থায়ী ও বৈধভাবে বসবাস করছেন, তারাও এখন থেকে দেশটিতে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ভরযোগ্য আর্থিক গ্যারান্টর হিসেবে আইনি স্বীকৃতি পাবেন।


আর্থিক কাগজপত্রের ক্ষেত্রে এমন অভাবনীয় ছাড় দেওয়া হলেও, শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কিন্তু এবার নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করেছে ফরাসি বা ইতালীয় কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে কোনো সাধারণ বা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ভাষার সার্টিফিকেট বা ভাষা শিক্ষার সনদপত্র কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে না। আন্তর্জাতিকভাবে সম্পূর্ণ স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য পরীক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া ভাষার মূল সার্টিফিকেট যেমন আইইএলটিএস অথবা সিইএলআই-এর মতো যোগ্যতার প্রমাণই কেবল গ্রহণ করা হবে। একই সাথে সেই সনদে শিক্ষার্থীর মৌখিক প্রকাশ, লিখন শৈলী, শ্রবণ ক্ষমতা এবং পারস্পরিক কথোপকথনের নিখুঁত দক্ষতার বিস্তারিত বিবরণ ও গ্রেড স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। এর পাশাপাশি মূল আবেদনপত্রের সঙ্গে শিক্ষার্থীর পূর্ববর্তী পড়াশোনার সত্যতা ও মান যাচাইয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে সিআইএমইএ অথবা ডিক্লেয়ারেশন অব ভ্যালু বা ডিওভি নামের বিশেষ আইনি প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়া পুরোপুরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


ইতালির বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাক-তালিকাভুক্তি সম্পন্ন করার পর যথাযথ নিয়ম মেনে স্টুডেন্ট ভিসা বা শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন সশরীরে জমা দেওয়ার সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। উচ্চশিক্ষা ও অভিবাসন বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতালীয় দূতাবাসের এই নতুন ও যুগান্তকারী নির্দেশনার ফলে ইতালির সামগ্রিক ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি গোছানো, সুশৃঙ্খল এবং সম্পূর্ণ দালালমুক্ত হবে, যার ফলে প্রতারিত হওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে ভাষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাগজপত্রের শর্তগুলো পূর্বের তুলনায় কিছুটা কঠোর ও নিখুঁত হওয়ায়, শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই তাদের সমস্ত ডকুমেন্টেশন বা নথিপত্র গুছিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক ও সচেতন হতে হবে।




দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল