মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের স্থল অভিযান আরও জোরালো ও বিস্তৃত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই সামরিক তৎপরতার অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গ সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে তারা। লিতানি উপত্যকার ওপর নজরদারির জন্য এই দুর্গটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি অবস্থান হিসেবে পরিচিত। দুর্গটি দখলের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে একটি যুগান্তকারী ও সিদ্ধান্তমূলক পরিবর্তন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তেল আবিবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের পদাতিক ও সাঁজোয়া বাহিনী এখন আগের নির্ধারিত সীমারেখা পেরিয়ে লিতানি নদীকে কেন্দ্র করে লেবাননের ভূখণ্ডের আরও গভীরে প্রবেশ করছে। একই সঙ্গে স্থল অভিযানের তীব্রতা বাড়াতে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নতুন নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
ইসরায়েলের এই আকস্মিক ও আগ্রাসী সামরিক অগ্রযাত্রার তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেছে ইউরোপের তিন প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলের এই ক্রমাগত সামরিক অভিযান বিপুল সংখ্যক নিরীহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, লাখ লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং নাগরিক অবকাঠামো ধ্বংসের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘাতের অবিলম্বে অবসান হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তবে এর পাশাপাশি তিনি হিজবুল্লাহর প্রতিও আহ্বান জানান যেন তারা ইসরায়েলের ওপর রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো বন্ধ করে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র হওয়ার পথে হাঁটে। অন্যদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে কার্যত সাধারণ মানুষের ওপর সমষ্টিগত শাস্তি চাপিয়ে দিচ্ছে এবং নির্বিচারে আগ্রাসন চালিয়ে জমি পুড়িয়ে দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে, যা আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির চরম লঙ্ঘন।
লেবানন সীমান্তের এই চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বিশ্বমঞ্চে তৎপরতা শুরু করেছে ফ্রান্স। প্যারিসের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বিশেষ বৈঠক আহ্বান করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননের মাটিতে এই ধরনের বড় মাত্রার সামরিক অভিযান এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে অনতিবিলম্বে সব ধরনের অস্ত্রের গর্জন থামানো বা নীরবতা বজায় রাখা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি জার্মানিও ইসরায়েলি বাহিনীর লেবাননের ভেতরের দিকে ক্রমাগত অগ্রসর হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে বিচার করলে দেখা যায়, প্রায় ৯০০ বছর আগে ক্রুসেডারদের শাসন আমলে নির্মিত বিউফোর্ট দুর্গটি লিতানি উপত্যকার ওপর একচ্ছত্র সামরিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য একটি মোক্ষম জায়গা। এটিই প্রথম নয়, এর আগে ১৯৮২ সালের প্রথম লেবানন যুদ্ধের সময়ও ইসরায়েল দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এই দুর্গটি নিজেদের দখলে নিয়েছিল। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চাপ ও নিজস্ব কৌশলের অংশ হিসেবে দীর্ঘ ১৮ বছর পর ২০০০ সালে যখন তারা দক্ষিণ লেবানন থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করে নেয়, তখন এই ঐতিহাসিক দুর্গটির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর সেই দুর্গটি পুনরায় নিজেদের অধীনে নেওয়ার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বেশ দম্ভোক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ইসরায়েল এখন প্রতিপক্ষের দেওয়া সব ধরনের ভয়ের দেয়াল ভেঙে সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক ও উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করছে এবং হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলোতে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ও অবস্থান আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
তেল আবিব প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযান জোরদার করার স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর ড্রোন এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এই ধরনের উপর্যুপরি হামলার উপযুক্ত জবাব দিতেই তারা লেবাননের অভ্যন্তরে স্থল অভিযান তীব্র করতে বাধ্য হয়েছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সংঘাতের শুরু থেকে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পূর্বে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি চরমভাবে লঙ্ঘনের পাল্টা অভিযোগ এনেছে। একের পর এক আক্রমণ ও পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে এই অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর পূর্ববর্তী সব প্রচেষ্টা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘদিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে লেবাননে মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। লেবানন সরকারের দেওয়া আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান এই ভয়াবহ সামরিক আগ্রাসনে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিজেদের জীবন হারিয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশই সাধারণ নাগরিক। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ লড়াই ও চোরাগোপ্তা হামলায় এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর অন্তত ২৫ জন সেনা সদস্য নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা গেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতারা সামরিক আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানালেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি দিন দিন আরও বেশি জটিল ও রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠছে।
উৎস: বিবিসি

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের স্থল অভিযান আরও জোরালো ও বিস্তৃত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই সামরিক তৎপরতার অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গ সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে তারা। লিতানি উপত্যকার ওপর নজরদারির জন্য এই দুর্গটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি অবস্থান হিসেবে পরিচিত। দুর্গটি দখলের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে একটি যুগান্তকারী ও সিদ্ধান্তমূলক পরিবর্তন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তেল আবিবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের পদাতিক ও সাঁজোয়া বাহিনী এখন আগের নির্ধারিত সীমারেখা পেরিয়ে লিতানি নদীকে কেন্দ্র করে লেবাননের ভূখণ্ডের আরও গভীরে প্রবেশ করছে। একই সঙ্গে স্থল অভিযানের তীব্রতা বাড়াতে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নতুন নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
ইসরায়েলের এই আকস্মিক ও আগ্রাসী সামরিক অগ্রযাত্রার তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেছে ইউরোপের তিন প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলের এই ক্রমাগত সামরিক অভিযান বিপুল সংখ্যক নিরীহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, লাখ লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং নাগরিক অবকাঠামো ধ্বংসের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘাতের অবিলম্বে অবসান হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তবে এর পাশাপাশি তিনি হিজবুল্লাহর প্রতিও আহ্বান জানান যেন তারা ইসরায়েলের ওপর রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো বন্ধ করে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র হওয়ার পথে হাঁটে। অন্যদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে কার্যত সাধারণ মানুষের ওপর সমষ্টিগত শাস্তি চাপিয়ে দিচ্ছে এবং নির্বিচারে আগ্রাসন চালিয়ে জমি পুড়িয়ে দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে, যা আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির চরম লঙ্ঘন।
লেবানন সীমান্তের এই চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বিশ্বমঞ্চে তৎপরতা শুরু করেছে ফ্রান্স। প্যারিসের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বিশেষ বৈঠক আহ্বান করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননের মাটিতে এই ধরনের বড় মাত্রার সামরিক অভিযান এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে অনতিবিলম্বে সব ধরনের অস্ত্রের গর্জন থামানো বা নীরবতা বজায় রাখা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি জার্মানিও ইসরায়েলি বাহিনীর লেবাননের ভেতরের দিকে ক্রমাগত অগ্রসর হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে বিচার করলে দেখা যায়, প্রায় ৯০০ বছর আগে ক্রুসেডারদের শাসন আমলে নির্মিত বিউফোর্ট দুর্গটি লিতানি উপত্যকার ওপর একচ্ছত্র সামরিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য একটি মোক্ষম জায়গা। এটিই প্রথম নয়, এর আগে ১৯৮২ সালের প্রথম লেবানন যুদ্ধের সময়ও ইসরায়েল দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এই দুর্গটি নিজেদের দখলে নিয়েছিল। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চাপ ও নিজস্ব কৌশলের অংশ হিসেবে দীর্ঘ ১৮ বছর পর ২০০০ সালে যখন তারা দক্ষিণ লেবানন থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করে নেয়, তখন এই ঐতিহাসিক দুর্গটির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর সেই দুর্গটি পুনরায় নিজেদের অধীনে নেওয়ার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বেশ দম্ভোক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ইসরায়েল এখন প্রতিপক্ষের দেওয়া সব ধরনের ভয়ের দেয়াল ভেঙে সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক ও উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করছে এবং হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলোতে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ও অবস্থান আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
তেল আবিব প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযান জোরদার করার স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর ড্রোন এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এই ধরনের উপর্যুপরি হামলার উপযুক্ত জবাব দিতেই তারা লেবাননের অভ্যন্তরে স্থল অভিযান তীব্র করতে বাধ্য হয়েছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সংঘাতের শুরু থেকে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পূর্বে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি চরমভাবে লঙ্ঘনের পাল্টা অভিযোগ এনেছে। একের পর এক আক্রমণ ও পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে এই অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর পূর্ববর্তী সব প্রচেষ্টা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘদিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে লেবাননে মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। লেবানন সরকারের দেওয়া আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান এই ভয়াবহ সামরিক আগ্রাসনে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিজেদের জীবন হারিয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশই সাধারণ নাগরিক। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ লড়াই ও চোরাগোপ্তা হামলায় এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর অন্তত ২৫ জন সেনা সদস্য নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা গেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতারা সামরিক আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানালেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি দিন দিন আরও বেশি জটিল ও রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠছে।
উৎস: বিবিসি

আপনার মতামত লিখুন