আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা বলবৎ থাকার পরেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ক্রমাগত সংঘর্ষ চলতে থাকায়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের ভূখণ্ডের আরও গভীরে সামরিক অভিযান বিস্তৃত করার এক কঠোর ও নতুন নির্দেশ জারি করেছেন। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন উত্তেজনার তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এই নির্দেশ প্রদান করেন এবং লেবাননের মাটিতে চলমান স্থল অভিযানকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে নিজের দেশের সেনাবাহিনীকে সবুজ সংকেত দেন। নেতানিয়াহুর দাবি অনুযায়ী, আগে যেসব কৌশলগত এলাকা হিজবুল্লাহর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেখানে এখন ইসরায়েলি বাহিনীর দখল ও সামগ্রিক সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো ও নিবিড় করা হবে।
দুই পক্ষের মধ্যকার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল গত মার্চ মাসে, যখন ইরানের সরাসরি সমর্থনে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ সীমান্ত লক্ষ্য করে একযোগে ব্যাপক রকেট ও ড্রোন হামলা শুরু করে। এরপর থেকেই দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় সংঘাতের তীব্রতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে, যার জেরে সীমান্ত অঞ্চলের লাখ লাখ সাধারণ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্পত্তি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। লেবানন সরকারের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ সামরিক সংঘাতে এ পর্যন্ত দেশটির তিন হাজার তিনশত সত্তরেরও বেশি নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি মতে, হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় তাদের এ পর্যন্ত চব্বিশ জন নিয়মিত সেনা সদস্য এবং চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের সাম্প্রতিক অভিযানের মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। প্রায় নয়শত বছরের পুরোনো এই প্রাচীন দুর্গটি একটি অত্যন্ত উঁচু পাহাড়ি স্থানে অবস্থিত, যেখান থেকে ভৌগোলিক সুবিধার কারণে দক্ষিণ লেবানন এবং উত্তর ইসরায়েলের এক বিশাল ও বিস্তীর্ণ এলাকা খুব সহজেই নজরদারি করা সম্ভব। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর শীর্ষ সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিউফোর্ট দুর্গ দখলের পর তাদের অগ্রগামী দলগুলো এখন লিতানি নদীর অববাহিকা পেরিয়ে আরও উত্তর দিকে অবস্থিত জাহরানি নদীর দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গত রবিবারই জাহরানি নদীর দক্ষিণ তীরে বসবাসকারী স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দাদের অনতিবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ এলাকায় চলে যাওয়ার জন্য ইসরায়েলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
এদিকে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার গভীর রাতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দেইর আল-জাহরানি গ্রামে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী এক বিধ্বংসী ও ভয়াবহ হামলা চালায়, যাতে অন্তত আটজন স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, গত রবিবারও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে চল্লিশটিরও বেশি বোমাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের মানবিক সংকটকে আরও বেশি ঘনীভূত করে তুলেছে। মাঠপর্যায়ের এই চরম অবনতিশীল পরিস্থিতির কারণে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে ফ্রান্স ইতিমধ্যেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক ডাকার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েলের নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন যে, সদ্য দখলকৃত ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গটি এখন থেকে ইসরায়েলের নতুন ও বর্ধিত নিরাপত্তা বলয়ের একটি প্রধান কৌশলগত অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে আরও উল্লেখ করেন যে, এই সামরিক অভিযান এখনো শেষ হয়ে যায়নি এবং হিজবুল্লাহর সামগ্রিক সামরিক শক্তি ও মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে দিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। অথচ মাঠের এই চরম যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির সমান্তরালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে পর্দার আড়ালে এক ধরনের শান্তি আলোচনাও সচল রয়েছে। এমনকি গত পনেরোই মে উভয় পক্ষ চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও পঁয়তাল্লিশ দিন বাড়িয়ে নিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সীমান্তের বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা, সেখানে শান্তি চুক্তির শর্ত তোয়াক্কা না করে সংঘর্ষ থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এই নতুন অভিযানে আরও একজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে বলে সামরিক দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, তবে এই সুনির্দিষ্ট বিষয়ে লেবানন সরকার বা হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা বলবৎ থাকার পরেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ক্রমাগত সংঘর্ষ চলতে থাকায়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের ভূখণ্ডের আরও গভীরে সামরিক অভিযান বিস্তৃত করার এক কঠোর ও নতুন নির্দেশ জারি করেছেন। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন উত্তেজনার তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এই নির্দেশ প্রদান করেন এবং লেবাননের মাটিতে চলমান স্থল অভিযানকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে নিজের দেশের সেনাবাহিনীকে সবুজ সংকেত দেন। নেতানিয়াহুর দাবি অনুযায়ী, আগে যেসব কৌশলগত এলাকা হিজবুল্লাহর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেখানে এখন ইসরায়েলি বাহিনীর দখল ও সামগ্রিক সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো ও নিবিড় করা হবে।
দুই পক্ষের মধ্যকার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল গত মার্চ মাসে, যখন ইরানের সরাসরি সমর্থনে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ সীমান্ত লক্ষ্য করে একযোগে ব্যাপক রকেট ও ড্রোন হামলা শুরু করে। এরপর থেকেই দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় সংঘাতের তীব্রতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে, যার জেরে সীমান্ত অঞ্চলের লাখ লাখ সাধারণ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্পত্তি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। লেবানন সরকারের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ সামরিক সংঘাতে এ পর্যন্ত দেশটির তিন হাজার তিনশত সত্তরেরও বেশি নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি মতে, হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় তাদের এ পর্যন্ত চব্বিশ জন নিয়মিত সেনা সদস্য এবং চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের সাম্প্রতিক অভিযানের মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। প্রায় নয়শত বছরের পুরোনো এই প্রাচীন দুর্গটি একটি অত্যন্ত উঁচু পাহাড়ি স্থানে অবস্থিত, যেখান থেকে ভৌগোলিক সুবিধার কারণে দক্ষিণ লেবানন এবং উত্তর ইসরায়েলের এক বিশাল ও বিস্তীর্ণ এলাকা খুব সহজেই নজরদারি করা সম্ভব। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর শীর্ষ সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিউফোর্ট দুর্গ দখলের পর তাদের অগ্রগামী দলগুলো এখন লিতানি নদীর অববাহিকা পেরিয়ে আরও উত্তর দিকে অবস্থিত জাহরানি নদীর দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গত রবিবারই জাহরানি নদীর দক্ষিণ তীরে বসবাসকারী স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দাদের অনতিবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ এলাকায় চলে যাওয়ার জন্য ইসরায়েলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
এদিকে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার গভীর রাতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দেইর আল-জাহরানি গ্রামে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী এক বিধ্বংসী ও ভয়াবহ হামলা চালায়, যাতে অন্তত আটজন স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, গত রবিবারও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে চল্লিশটিরও বেশি বোমাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের মানবিক সংকটকে আরও বেশি ঘনীভূত করে তুলেছে। মাঠপর্যায়ের এই চরম অবনতিশীল পরিস্থিতির কারণে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে ফ্রান্স ইতিমধ্যেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক ডাকার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েলের নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন যে, সদ্য দখলকৃত ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গটি এখন থেকে ইসরায়েলের নতুন ও বর্ধিত নিরাপত্তা বলয়ের একটি প্রধান কৌশলগত অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে আরও উল্লেখ করেন যে, এই সামরিক অভিযান এখনো শেষ হয়ে যায়নি এবং হিজবুল্লাহর সামগ্রিক সামরিক শক্তি ও মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে দিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। অথচ মাঠের এই চরম যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির সমান্তরালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে পর্দার আড়ালে এক ধরনের শান্তি আলোচনাও সচল রয়েছে। এমনকি গত পনেরোই মে উভয় পক্ষ চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও পঁয়তাল্লিশ দিন বাড়িয়ে নিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সীমান্তের বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা, সেখানে শান্তি চুক্তির শর্ত তোয়াক্কা না করে সংঘর্ষ থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এই নতুন অভিযানে আরও একজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে বলে সামরিক দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, তবে এই সুনির্দিষ্ট বিষয়ে লেবানন সরকার বা হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন