মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ওপর সামরিক অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা অ্যাডাম ক্লেমেন্টস। যিনি অতীতে জর্ডান ও ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইরানের মতো একটি শক্তিশালী ও কৌশলগত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র আকাশপথে বিমান হামলা চালিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিজয় লাভ করা বা নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্য অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি মন্তব্য করেন, ওয়াশিংটনের এই সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ মূলত আকাশযুদ্ধের সীমাবদ্ধতা ও এর দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতাকেই আবার নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
সাবেক এই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলা হয়তো সাময়িকভাবে ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ব্যাহত করতে পেরেছে, তবে একে কোনোভাবেই দেশটির স্থায়ী সামরিক পঙ্গুত্ব বলা যাবে না। ইরান অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তাদের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির একটি বড় অংশ নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। অথবা তারা কৌশলী সিদ্ধান্ত হিসেবে এই যুদ্ধাস্ত্রগুলোর বড় একটি অংশকে পরবর্তী সময়ে বড় কোনো সংঘাত বা মোক্ষম জবাব দেওয়ার জন্য জমা করে রেখেছে। ফলে কেবল দূরপাল্লার বোমাবর্ষণ করে ইরানের সামগ্রিক সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া মার্কিন প্রশাসনের জন্য একটি অলীক কল্পনামাত্র।
অ্যাডাম ক্লেমেন্টস এই যুদ্ধের বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সংঘাতের আঁচ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব এখন বিশ্বের দূর-দূরান্তেও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়া কিংবা দূরপ্রাচ্যের বিভিন্ন এশীয় রাষ্ট্র, যারা এই চলমান সামরিক সংঘাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনোভাবেই জড়িত নয়, তারাও এখন এর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ধাক্কায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। জ্বালানি তেলের বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে এই অঞ্চলের দেশগুলো এক ধরনের পরোক্ষ সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। তাই বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের খাঁটি সামরিক হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি এই সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বিষয়গুলোকে সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ওপর সামরিক অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা অ্যাডাম ক্লেমেন্টস। যিনি অতীতে জর্ডান ও ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইরানের মতো একটি শক্তিশালী ও কৌশলগত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র আকাশপথে বিমান হামলা চালিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিজয় লাভ করা বা নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্য অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি মন্তব্য করেন, ওয়াশিংটনের এই সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ মূলত আকাশযুদ্ধের সীমাবদ্ধতা ও এর দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতাকেই আবার নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
সাবেক এই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলা হয়তো সাময়িকভাবে ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ব্যাহত করতে পেরেছে, তবে একে কোনোভাবেই দেশটির স্থায়ী সামরিক পঙ্গুত্ব বলা যাবে না। ইরান অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তাদের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির একটি বড় অংশ নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। অথবা তারা কৌশলী সিদ্ধান্ত হিসেবে এই যুদ্ধাস্ত্রগুলোর বড় একটি অংশকে পরবর্তী সময়ে বড় কোনো সংঘাত বা মোক্ষম জবাব দেওয়ার জন্য জমা করে রেখেছে। ফলে কেবল দূরপাল্লার বোমাবর্ষণ করে ইরানের সামগ্রিক সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া মার্কিন প্রশাসনের জন্য একটি অলীক কল্পনামাত্র।
অ্যাডাম ক্লেমেন্টস এই যুদ্ধের বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সংঘাতের আঁচ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব এখন বিশ্বের দূর-দূরান্তেও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়া কিংবা দূরপ্রাচ্যের বিভিন্ন এশীয় রাষ্ট্র, যারা এই চলমান সামরিক সংঘাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনোভাবেই জড়িত নয়, তারাও এখন এর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ধাক্কায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। জ্বালানি তেলের বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে এই অঞ্চলের দেশগুলো এক ধরনের পরোক্ষ সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। তাই বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের খাঁটি সামরিক হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি এই সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বিষয়গুলোকে সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

আপনার মতামত লিখুন