দিকপাল

গ্রিন কার্ড ইস্যুতে নতুন নিয়ম!


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ | ০১:৫৭ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রিন কার্ড ইস্যুতে নতুন নিয়ম!

গ্রিন কার্ড বা দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে সম্প্রতি ঘোষিত একটি কঠোর নীতি থেকে শেষ পর্যন্ত কিছুটা পিছু হটেছে মার্কিন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারী সব বিদেশি অভিবাসীকে আর আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে না।

প্রশাসনের নতুন ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদনের এই নিয়মটি সবার জন্য ঢালাওভাবে কার্যকর না হয়ে কেবল বিশেষ বিশেষ ব্যক্তি বা সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। উল্লেখ্য, গ্রিন কার্ড হলো যেকোনো বিদেশি নাগরিকের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও জীবিকা নির্বাহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আইনি পরিচয়পত্র। এর মাধ্যমে কোনো বিদেশি সরাসরি আমেরিকার পূর্ণ নাগরিকত্ব না পেলেও, তিনি দেশটিতে স্থায়ীভাবে থাকা এবং যেকোনো বৈধ পেশায় কাজ করার আইনি অধিকার লাভ করেন।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের ওই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, পূর্বে ঘোষিত সিদ্ধান্তটি আসলে কোনো নতুন আইন ছিল না, বরং তা ছিল অভিবাসন কর্মকর্তাদের ‘একচ্ছত্র বিবেচনামূলক ক্ষমতার’ একটি অনুস্মারক মাত্র। তবে এই নীতির কারণে মূলত তারাই সবচেয়ে বেশি প্রভাব বা ঝামেলার মুখোমুখি হতে পারেন, যারা অনুমোদিত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অতিরিক্ত সময় ধরে আমেরিকায় অবস্থান করছেন কিংবা যেসব দেশের নাগরিকেরা মার্কিন সরকারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার ওপর অনেক বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল।

আমেরিকার প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন অবস্থানকে একটি বড় ধরনের ‘ইউ-টার্ন’ বা সিদ্ধান্ত বদল হিসেবে বর্ণনা করেছে। কারণ এর আগে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, যারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক, তাদের অবশ্যই নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে এবং সেখান থেকেই চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।


অভিবাসন দপ্তরের সেই আগের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পরপরই মার্কিন বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা, মানবাধিকার কর্মী এবং অভিবাসন আইনজীবীদের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা ও তীব্র প্রতিক্রিয়া ধেয়ে আসে। তাদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল, এই অমানবিক পদক্ষেপের কারণে হাজার হাজার অভিবাসী পরিবার একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, আবেদনকারীদের যাতায়াত ও আইনি খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং সামগ্রিকভাবে পুরো অভিবাসন ব্যবস্থায় এক চরম বিশৃঙ্খলা ও স্থবিরতা তৈরি হবে।

ব্যাপক সমালোচনার মুখে এখন মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ বিষয়টি পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা দিয়েছে যে, গত ২২ মে জারি করা অভিবাসন পরিষেবা কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্তটি কোনো ঢালাও নীতিগত পরিবর্তন ছিল না। কোনো নির্দিষ্ট আবেদনকারীকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য তার নিজের দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।


অবশ্য কিছু অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, মাঠপর্যায়ে অভিবাসন কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই আবেদনকারীদের বেশ কড়া জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করে দিয়েছেন। ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকারের সময় তারা আবেদনকারীদের কাছে জানতে চাইছেন যে, কেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থান করেই গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন জমা দিচ্ছেন এবং নিজ দেশে ফিরে গিয়ে দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদনের ক্ষেত্রে তাদের ঠিক কী ধরনের আইনি বা ব্যক্তিগত বাধা রয়েছে।


এদিকে মার্কিন শিল্প খাতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই নতুন ও অস্পষ্ট নীতিমালার কারণে আমেরিকার বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে বড় ধরনের বিপর্যয় বা স্থবিরতা তৈরি হতে পারে। কারণ সিলিকন ভ্যালিসহ আমেরিকার অধিকাংশ নামী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সাময়িক বা অস্থায়ী ভিসায় আসা দক্ষ বিদেশি প্রকৌশলী ও পেশাদারদের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। এই বিদেশি কর্মীদের একটি বড় অংশই পরবর্তীতে গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাস এবং একসময় মার্কিন নাগরিক হওয়ার স্বপ্ন বুক বেঁধে কাজ করে যান, যা এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।

মূল সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


গ্রিন কার্ড ইস্যুতে নতুন নিয়ম!

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬

featured Image

গ্রিন কার্ড বা দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে সম্প্রতি ঘোষিত একটি কঠোর নীতি থেকে শেষ পর্যন্ত কিছুটা পিছু হটেছে মার্কিন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারী সব বিদেশি অভিবাসীকে আর আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে না।

প্রশাসনের নতুন ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদনের এই নিয়মটি সবার জন্য ঢালাওভাবে কার্যকর না হয়ে কেবল বিশেষ বিশেষ ব্যক্তি বা সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। উল্লেখ্য, গ্রিন কার্ড হলো যেকোনো বিদেশি নাগরিকের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও জীবিকা নির্বাহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আইনি পরিচয়পত্র। এর মাধ্যমে কোনো বিদেশি সরাসরি আমেরিকার পূর্ণ নাগরিকত্ব না পেলেও, তিনি দেশটিতে স্থায়ীভাবে থাকা এবং যেকোনো বৈধ পেশায় কাজ করার আইনি অধিকার লাভ করেন।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের ওই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, পূর্বে ঘোষিত সিদ্ধান্তটি আসলে কোনো নতুন আইন ছিল না, বরং তা ছিল অভিবাসন কর্মকর্তাদের ‘একচ্ছত্র বিবেচনামূলক ক্ষমতার’ একটি অনুস্মারক মাত্র। তবে এই নীতির কারণে মূলত তারাই সবচেয়ে বেশি প্রভাব বা ঝামেলার মুখোমুখি হতে পারেন, যারা অনুমোদিত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অতিরিক্ত সময় ধরে আমেরিকায় অবস্থান করছেন কিংবা যেসব দেশের নাগরিকেরা মার্কিন সরকারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার ওপর অনেক বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল।

আমেরিকার প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন অবস্থানকে একটি বড় ধরনের ‘ইউ-টার্ন’ বা সিদ্ধান্ত বদল হিসেবে বর্ণনা করেছে। কারণ এর আগে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, যারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক, তাদের অবশ্যই নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে এবং সেখান থেকেই চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।


অভিবাসন দপ্তরের সেই আগের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পরপরই মার্কিন বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা, মানবাধিকার কর্মী এবং অভিবাসন আইনজীবীদের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা ও তীব্র প্রতিক্রিয়া ধেয়ে আসে। তাদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল, এই অমানবিক পদক্ষেপের কারণে হাজার হাজার অভিবাসী পরিবার একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, আবেদনকারীদের যাতায়াত ও আইনি খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং সামগ্রিকভাবে পুরো অভিবাসন ব্যবস্থায় এক চরম বিশৃঙ্খলা ও স্থবিরতা তৈরি হবে।

ব্যাপক সমালোচনার মুখে এখন মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ বিষয়টি পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা দিয়েছে যে, গত ২২ মে জারি করা অভিবাসন পরিষেবা কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্তটি কোনো ঢালাও নীতিগত পরিবর্তন ছিল না। কোনো নির্দিষ্ট আবেদনকারীকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য তার নিজের দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।


অবশ্য কিছু অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, মাঠপর্যায়ে অভিবাসন কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই আবেদনকারীদের বেশ কড়া জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করে দিয়েছেন। ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকারের সময় তারা আবেদনকারীদের কাছে জানতে চাইছেন যে, কেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থান করেই গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন জমা দিচ্ছেন এবং নিজ দেশে ফিরে গিয়ে দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদনের ক্ষেত্রে তাদের ঠিক কী ধরনের আইনি বা ব্যক্তিগত বাধা রয়েছে।


এদিকে মার্কিন শিল্প খাতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই নতুন ও অস্পষ্ট নীতিমালার কারণে আমেরিকার বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে বড় ধরনের বিপর্যয় বা স্থবিরতা তৈরি হতে পারে। কারণ সিলিকন ভ্যালিসহ আমেরিকার অধিকাংশ নামী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সাময়িক বা অস্থায়ী ভিসায় আসা দক্ষ বিদেশি প্রকৌশলী ও পেশাদারদের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। এই বিদেশি কর্মীদের একটি বড় অংশই পরবর্তীতে গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাস এবং একসময় মার্কিন নাগরিক হওয়ার স্বপ্ন বুক বেঁধে কাজ করে যান, যা এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।

মূল সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল