দিকপাল

ইবোলা সংকটে কঙ্গো, শঙ্কা প্রকাশ করল এমএসএফ


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ | ১০:৪৮ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইবোলা সংকটে কঙ্গো, শঙ্কা প্রকাশ করল এমএসএফ

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো বা ডিআর কঙ্গোতে অত্যন্ত প্রাণঘাতী ও মারাত্মক ইবোলা ভাইরাসের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। ইবোলার এই আকস্মিক ও দ্রুত প্রাদুর্ভাব বর্তমান অঞ্চলটিতে এক গভীর উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে বলে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা-মানবামুখী সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস বা এমএসএফ-এর পক্ষ থেকে তীব্র সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটিতে নতুন করে এই ভাইরাসের আক্রমণ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করেছে।

কঙ্গোর উপদ্রুত ইতুরি প্রদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ইবোলার এই প্রাদুর্ভাব ঘোষণার মাত্র দুই সপ্তাহ পার হতে না হতেই গতকাল শনিবার এমএসএফের উপপরিচালক ডক্টর অ্যালান গনজালেস বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অত্যন্ত আশঙ্কার সঙ্গে জানান যে, বর্তমান অবস্থা সত্যিই খুব আশঙ্কাজনক এবং ইতিপূর্বে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে কখনো ‘এত বেশিসংখ্যক রোগী’ একসঙ্গে শনাক্ত হওয়ার নজির দেখা যায়নি। ফলে স্বাস্থ্যকর্মীদেরও পরিস্থিতি সামাল দিতে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি বিশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দেশটিতে ইতিমধ্যে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এমন সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের ছোবলে এখন পর্যন্ত অন্তত দুইশত ছেচল্লিশ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। দিন দিন এই মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কঙ্গোর এই ভয়াবহ সংক্রমণ দ্রুত ঠেকানো এবং আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সহযোগিতা ও তৎপরতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধির জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, আফ্রিকার কঙ্গোতে শুরু হওয়া ইবোলার অত্যন্ত বিরল ও মারাত্মক ‘বুন্দিবুগিও’ নামক ধরন বা স্ট্রেনটি বর্তমানে আর কেবল কঙ্গোর সীমানার মধ্যে আটকে নেই, বরং তা ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উগান্ডা সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলটিতে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন মানুষ এই নতুন ধরনের ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ইবোলার এই নির্দিষ্ট স্ট্রেনটির বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো সুনির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত প্রতিষেধক বা টিকা কিংবা কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি এখন পর্যন্ত আবিষ্কার না হওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও বেশি জটিল ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠছে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


ইবোলা সংকটে কঙ্গো, শঙ্কা প্রকাশ করল এমএসএফ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬

featured Image

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো বা ডিআর কঙ্গোতে অত্যন্ত প্রাণঘাতী ও মারাত্মক ইবোলা ভাইরাসের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। ইবোলার এই আকস্মিক ও দ্রুত প্রাদুর্ভাব বর্তমান অঞ্চলটিতে এক গভীর উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে বলে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা-মানবামুখী সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস বা এমএসএফ-এর পক্ষ থেকে তীব্র সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটিতে নতুন করে এই ভাইরাসের আক্রমণ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করেছে।

কঙ্গোর উপদ্রুত ইতুরি প্রদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ইবোলার এই প্রাদুর্ভাব ঘোষণার মাত্র দুই সপ্তাহ পার হতে না হতেই গতকাল শনিবার এমএসএফের উপপরিচালক ডক্টর অ্যালান গনজালেস বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অত্যন্ত আশঙ্কার সঙ্গে জানান যে, বর্তমান অবস্থা সত্যিই খুব আশঙ্কাজনক এবং ইতিপূর্বে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে কখনো ‘এত বেশিসংখ্যক রোগী’ একসঙ্গে শনাক্ত হওয়ার নজির দেখা যায়নি। ফলে স্বাস্থ্যকর্মীদেরও পরিস্থিতি সামাল দিতে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি বিশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দেশটিতে ইতিমধ্যে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এমন সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের ছোবলে এখন পর্যন্ত অন্তত দুইশত ছেচল্লিশ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। দিন দিন এই মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কঙ্গোর এই ভয়াবহ সংক্রমণ দ্রুত ঠেকানো এবং আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সহযোগিতা ও তৎপরতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধির জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, আফ্রিকার কঙ্গোতে শুরু হওয়া ইবোলার অত্যন্ত বিরল ও মারাত্মক ‘বুন্দিবুগিও’ নামক ধরন বা স্ট্রেনটি বর্তমানে আর কেবল কঙ্গোর সীমানার মধ্যে আটকে নেই, বরং তা ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উগান্ডা সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলটিতে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন মানুষ এই নতুন ধরনের ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ইবোলার এই নির্দিষ্ট স্ট্রেনটির বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো সুনির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত প্রতিষেধক বা টিকা কিংবা কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি এখন পর্যন্ত আবিষ্কার না হওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও বেশি জটিল ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠছে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল