দিকপাল

ইসরাইলি হামলায় প্রাণ গেল ৯ সিরীয় শরণার্থীর


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ | ১০:০৬ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসরাইলি হামলায় প্রাণ গেল ৯ সিরীয় শরণার্থীর

লেবাননে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বিমান বাহিনী। সর্বশেষ এই নৃশংস হামলায় একই পরিবারের নয়জন সিরীয় শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জনই নিষ্পাপ শিশু। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ-এর পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর সাইদার নিকটবর্তী আদলুন নামক এলাকায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান থেকে আকস্মিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যে ভবনটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে, সেখানে কোনো সামরিক তৎপরতা ছিল না এবং সম্পূর্ণ সাধারণ বেসামরিক মানুষ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে আসা বাস্তুচ্যুত শরণার্থীরা বসবাস করতেন।

এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে যে নয়টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন, তারা সবাই অভিন্ন এক পরিবারের সদস্য। উল্লেখ্য, পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ পরোক্ষ আলোচনার পর গত ১৭ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৭ মে থেকে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিনের জন্য বৃদ্ধি করা হলেও বাস্তবে লেবাননের মাটিতে ইসরাইলি আগ্রাসন ও বিমান হামলা বিন্দুমাত্র কমেনি।


যুদ্ধবিরতির শর্ত বহাল থাকলেও দক্ষিণ লেবানন, বেকা উপত্যকা এবং হিজবুল্লাহর প্রভাবশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় নিয়মিত বিরতিতে এই ধরনের বিমান হামলা ও স্থল সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। তেল আবিবের সামরিক প্রশাসনের দাবি, তারা কেবল হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো, গোপন অস্ত্রভাণ্ডার এবং সশস্ত্র যোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই অভিযানগুলো পরিচালনা করছে।

তবে ইসরাইলের এই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে লেবাননের সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। তাদের স্পষ্ট অভিযোগ, এই ধরনের নির্বিচার ও অন্যায্য হামলার কারণে প্রতিদিন সাধারণ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এবং অবর্ণনীয় বস্তুগত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। বিভিন্ন স্বাধীন মানবাধিকার সংগঠনের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া হামলাগুলোর প্রধান শিকার হচ্ছেন নিরীহ নারী, শিশু এবং সাধারণ কর্মজীবী নাগরিকেরা।


বিগত কয়েক মাসে লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর চালানো ধারাবাহিক হামলায় শত শত নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের এই দীর্ঘ তালিকায় যেমন রয়েছেন সাধারণ নারী ও শিশু, তেমনি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত হয়েছেন বহু ফ্রন্টলাইন চিকিৎসাকর্মী এবং জরুরি সেবাকর্মী। একই সঙ্গে এই তীব্র সংঘাত ও গোলার্ধের কারণে সীমান্ত এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

অন্যদিকে, ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় সামরিক ঘাঁটি ও সীমান্ত শহরগুলোতে নিয়মিত রকেট এবং ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মাঠপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা চরম পর্যায়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অগ্রগতি কেমন হয়, তার ওপরই মূলত লেবানন সীমান্তের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের গতিপথ ও স্থায়ী সমাধান অনেকাংশে নির্ভর করছে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


ইসরাইলি হামলায় প্রাণ গেল ৯ সিরীয় শরণার্থীর

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬

featured Image

লেবাননে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বিমান বাহিনী। সর্বশেষ এই নৃশংস হামলায় একই পরিবারের নয়জন সিরীয় শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জনই নিষ্পাপ শিশু। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ-এর পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর সাইদার নিকটবর্তী আদলুন নামক এলাকায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান থেকে আকস্মিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যে ভবনটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে, সেখানে কোনো সামরিক তৎপরতা ছিল না এবং সম্পূর্ণ সাধারণ বেসামরিক মানুষ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে আসা বাস্তুচ্যুত শরণার্থীরা বসবাস করতেন।

এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে যে নয়টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন, তারা সবাই অভিন্ন এক পরিবারের সদস্য। উল্লেখ্য, পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ পরোক্ষ আলোচনার পর গত ১৭ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৭ মে থেকে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিনের জন্য বৃদ্ধি করা হলেও বাস্তবে লেবাননের মাটিতে ইসরাইলি আগ্রাসন ও বিমান হামলা বিন্দুমাত্র কমেনি।


যুদ্ধবিরতির শর্ত বহাল থাকলেও দক্ষিণ লেবানন, বেকা উপত্যকা এবং হিজবুল্লাহর প্রভাবশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় নিয়মিত বিরতিতে এই ধরনের বিমান হামলা ও স্থল সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। তেল আবিবের সামরিক প্রশাসনের দাবি, তারা কেবল হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো, গোপন অস্ত্রভাণ্ডার এবং সশস্ত্র যোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই অভিযানগুলো পরিচালনা করছে।

তবে ইসরাইলের এই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে লেবাননের সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। তাদের স্পষ্ট অভিযোগ, এই ধরনের নির্বিচার ও অন্যায্য হামলার কারণে প্রতিদিন সাধারণ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এবং অবর্ণনীয় বস্তুগত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। বিভিন্ন স্বাধীন মানবাধিকার সংগঠনের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া হামলাগুলোর প্রধান শিকার হচ্ছেন নিরীহ নারী, শিশু এবং সাধারণ কর্মজীবী নাগরিকেরা।


বিগত কয়েক মাসে লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর চালানো ধারাবাহিক হামলায় শত শত নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের এই দীর্ঘ তালিকায় যেমন রয়েছেন সাধারণ নারী ও শিশু, তেমনি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত হয়েছেন বহু ফ্রন্টলাইন চিকিৎসাকর্মী এবং জরুরি সেবাকর্মী। একই সঙ্গে এই তীব্র সংঘাত ও গোলার্ধের কারণে সীমান্ত এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

অন্যদিকে, ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় সামরিক ঘাঁটি ও সীমান্ত শহরগুলোতে নিয়মিত রকেট এবং ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মাঠপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা চরম পর্যায়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অগ্রগতি কেমন হয়, তার ওপরই মূলত লেবানন সীমান্তের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের গতিপথ ও স্থায়ী সমাধান অনেকাংশে নির্ভর করছে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল