মূলত মিত্রদেশ ইসরাইলের অস্তিত্ব রক্ষা এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল বলে অত্যন্ত খোলামেলাভাবে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ ও একান্ত সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং ইরান প্রসঙ্গে নিজের প্রশাসনের ভবিষ্যৎ ও পরবর্তী কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনাকালে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন।
নিজের আগের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, বিগত প্রায় নয় মাস আগে যদি মার্কিন দূরপাল্লার বিশেষ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের কৌশলগত ও সামরিক অবস্থানগুলোর ওপর জোরালো হামলা চালানো না হতো, তবে এই মুহূর্তের মধ্যে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়ে যেত। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, ইরান যদি পারমাণবিক শক্তি অর্জন করে ফেলত, তবে বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং মারাত্মক এক রূপ নিত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তেমনটি ঘটলে হয়তো আজ মানচিত্রে ইসরাইল রাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্বই থাকত না, এমনকি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের চেনা ভূ-রাজনীতিও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেত। আর মধ্যপ্রাচ্য গ্রাস করার পর ইরান যে পরবর্তীতে কোন দিকে অগ্রসর হতো, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তবে পূর্বের এই সামরিক সংঘাতের ইতিহাস টেনেও ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ইরানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের সমঝোতায় আসতে চান। ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলার সময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে একটি দারুণ ও কার্যকর আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে যাচ্ছে। এই সম্ভাব্য চুক্তিটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিই ফেরাবে না, বরং তা বহু সাধারণ মানুষের মূল্যবান জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত বড় ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে ট্রাম্প এটিও উল্লেখ করেন যে, এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে অবিলম্বে সব দেশের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে।
আলোচনার টেবিলে ইরানের কূটনীতিক ও শীর্ষ নেতৃত্বকে অত্যন্ত কঠিন এবং শক্ত আলোচক হিসেবে বর্ণনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা নিজেদের স্বার্থ আদায়ে বেশ অনড় অবস্থান বজায় রাখে। তবে এত কিছুর পরও যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং সফলতা পাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল সমীকরণ ব্যাখ্যা করে ট্রাম্প বলেন যে, যেকোনো বড় ও স্থায়ী চুক্তির ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করতে গেলে কখনোই ভালো বা ফলপ্রসূ কোনো ফলাফল আশা করা যায় না। এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে স্বভাবতই দীর্ঘ সময় লাগে। তাই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাড়তি তাড়াহুড়ো নেই। মার্কিন প্রশাসন অত্যন্ত ধীরগতিতে হলেও নিশ্চিতভাবে নিজেদের দাবি ও লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারছে বলে তিনি মনে করেন। তবে এর পাশাপাশি তিনি একটি পরোক্ষ হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, দীর্ঘ আলোচনার পরও যদি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে এই ইরান সংকটের অবসান ঘটাতে তারা ভিন্ন কোনো কঠোর পথ বা সামরিক উপায় বেছে নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬
মূলত মিত্রদেশ ইসরাইলের অস্তিত্ব রক্ষা এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল বলে অত্যন্ত খোলামেলাভাবে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ ও একান্ত সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং ইরান প্রসঙ্গে নিজের প্রশাসনের ভবিষ্যৎ ও পরবর্তী কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনাকালে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন।
নিজের আগের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, বিগত প্রায় নয় মাস আগে যদি মার্কিন দূরপাল্লার বিশেষ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের কৌশলগত ও সামরিক অবস্থানগুলোর ওপর জোরালো হামলা চালানো না হতো, তবে এই মুহূর্তের মধ্যে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়ে যেত। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, ইরান যদি পারমাণবিক শক্তি অর্জন করে ফেলত, তবে বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং মারাত্মক এক রূপ নিত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তেমনটি ঘটলে হয়তো আজ মানচিত্রে ইসরাইল রাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্বই থাকত না, এমনকি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের চেনা ভূ-রাজনীতিও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেত। আর মধ্যপ্রাচ্য গ্রাস করার পর ইরান যে পরবর্তীতে কোন দিকে অগ্রসর হতো, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তবে পূর্বের এই সামরিক সংঘাতের ইতিহাস টেনেও ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ইরানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের সমঝোতায় আসতে চান। ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলার সময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে একটি দারুণ ও কার্যকর আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে যাচ্ছে। এই সম্ভাব্য চুক্তিটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিই ফেরাবে না, বরং তা বহু সাধারণ মানুষের মূল্যবান জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত বড় ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে ট্রাম্প এটিও উল্লেখ করেন যে, এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে অবিলম্বে সব দেশের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে।
আলোচনার টেবিলে ইরানের কূটনীতিক ও শীর্ষ নেতৃত্বকে অত্যন্ত কঠিন এবং শক্ত আলোচক হিসেবে বর্ণনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা নিজেদের স্বার্থ আদায়ে বেশ অনড় অবস্থান বজায় রাখে। তবে এত কিছুর পরও যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং সফলতা পাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল সমীকরণ ব্যাখ্যা করে ট্রাম্প বলেন যে, যেকোনো বড় ও স্থায়ী চুক্তির ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করতে গেলে কখনোই ভালো বা ফলপ্রসূ কোনো ফলাফল আশা করা যায় না। এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে স্বভাবতই দীর্ঘ সময় লাগে। তাই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাড়তি তাড়াহুড়ো নেই। মার্কিন প্রশাসন অত্যন্ত ধীরগতিতে হলেও নিশ্চিতভাবে নিজেদের দাবি ও লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারছে বলে তিনি মনে করেন। তবে এর পাশাপাশি তিনি একটি পরোক্ষ হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, দীর্ঘ আলোচনার পরও যদি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে এই ইরান সংকটের অবসান ঘটাতে তারা ভিন্ন কোনো কঠোর পথ বা সামরিক উপায় বেছে নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না।

আপনার মতামত লিখুন