দিকপাল

নিরাপত্তা সহযোগিতায় আরও ঘনিষ্ঠ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ | ১২:৩৪ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

নিরাপত্তা সহযোগিতায় আরও ঘনিষ্ঠ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার সামরিক সম্পর্ককে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যেতে মার্কিন কংগ্রেসে একটি নতুন বিলের বিধান উত্থাপন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং সামরিক প্রযুক্তির আদান-প্রদান বাড়ানো। প্রস্তাবিত এই আইনি বিধানের ফলে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের গবেষণা, যৌথ উৎপাদন এবং উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সুদূরপ্রসারী ও গভীর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনের প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির সংস্করণে ‘সেকশন ২২৪’-এর অধীনে এই বিশেষ প্রস্তাবটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতা উদ্যোগ’।


বর্তমানে এই পদক্ষেপটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি নির্ধারণ, প্রতিরক্ষা কর্মসূচি এবং সামগ্রিক ব্যয় বরাদ্দের মাত্রা অনুমোদনের জন্য কংগ্রেসে এই জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন পাস করা হয়ে থাকে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিলটি যদি চূড়ান্তভাবে আইন হিসেবে পাস হয়, তবে তা বিশ্বের অন্যতম ঘনিষ্ঠ এই দুটি দেশের সামরিক সম্পর্কের সমীকরণে একটি ঐতিহাসিক ও বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এর ফলে দুই দেশের অংশীদারিত্ব কেবল মার্কিন আর্থিক বা সামরিক সহায়তার চিরাচরিত কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সরাসরি দুই দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা শিল্পের একটি গভীর ও স্থায়ী মেলবন্ধনে রূপ নেবে।


প্রস্তাবিত এই সেকশন ২২৪-এর নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে একজন বিশেষ কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে, যার প্রধান দায়িত্ব হবে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার সার্বিক বিষয়টি তদারকি ও সমন্বয় করা। এই সমন্বিত কার্যক্রমের আওতায় থাকবে যৌথ সামরিক গবেষণা ও উন্নয়ন, অত্যাধুনিক অস্ত্র উৎপাদন এবং দুই দেশের সামরিক ব্যবস্থা ও ডেটা বা তথ্যের পারস্পরিক সংযোগ স্থাপন।

এই অত্যন্ত বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর বিধানের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা এবং একটি সুপরিচিত অ্যাডভোকেসি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জশ পল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, কংগ্রেস এখন দুই দেশের এই সামরিক সম্পর্ককে আমেরিকার নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তির এত গভীরে স্থায়ীভাবে গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা ভবিষ্যতে কোনো প্রশাসনের পক্ষেই উপড়ে ফেলা বা পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, এই আইন পাস হলে ইসরাইল মার্কিন প্রযুক্তির ওপর নজিরবিহীন অধিকার পেয়ে যাবে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের নিজস্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি একীভূত করতে বাধ্য হবে। এটি আমেরিকার নিজস্ব প্রতিরক্ষার অগ্রাধিকারের ওপর ইসরাইলকে একটি অবিশ্বাস্য ও অন্যায্য সুবিধা দেবে।


ইতিমধ্যেই উভয় দেশ ‘আয়রন ডোম’-এর মতো অত্যন্ত কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যৌথভাবে তৈরি করে সফল হয়েছে। তবে নতুন এই বিলের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন এবং সাইবার অপারেশনের মতো আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের আরও বহু ক্ষেত্রে তাদের যৌথ কাজের পরিধি ব্যাপক হারে প্রসারিত হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও অস্থিরতার মধ্যেই এই বিশেষ আইনি বিধানটি সামনে এলো। এর আগে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছিল, যার জেরে দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহের একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। পরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে ইরানও ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হেনেছিল। এর পাশাপাশি গাজা যুদ্ধের কারণে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত তথা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা একটি মামলায় ইসরাইল বর্তমানে গণহত্যার গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি রয়েছে।

আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন এবং সিনেটে পাস হওয়ার আগে জুনের শুরুতে সশস্ত্র পরিষেবা কমিটিতে অনুমোদিত হতে হবে। কমিটির শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের নেতারাই এটি যৌথভাবে প্রস্তাব করেছেন। ফলে বিলটিতে মার্কিন প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলেরই জোরালো সমর্থন রয়েছে, যদিও সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন জনমত জরিপ অনুযায়ী ইসরাইলকে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান নেতার মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক দশক ধরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ইসরাইলের সামরিক বাহিনীকে ঢাল হিসেবে সাহায্য করে আসছে। ২০০৮ সাল থেকে মার্কিন আইন অনুযায়ী ওয়াশিংটনের জন্য ইসরাইলের গুণগত সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষা করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক, যেন মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের চেয়ে ইসরাইলি বাহিনী সব সময় শক্তিশালী ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত থাকে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত ১০ বছর মেয়াদী বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী ওয়াশিংটন ইসরাইলকে প্রতি বছর প্রায় তিনশো আশি কোটি ডলারের বিশাল সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে, যার মেয়াদ আগামী ২০২৮ সাল পর্যন্ত রয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটি মার্কিন বৈদেশিক সহায়তার সবচেয়ে বড় গ্রহীতা, যার প্রায় পুরোটাই ব্যয় হয় সামরিক খাতে। মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করলে আজ পর্যন্ত এই সহায়তার মোট মূল্যমান দাঁড়ায় তিনশত বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

তবে ঐতিহাসিক এই সহায়তার ধরন ও চরিত্র এখন অনেকটাই বদলে যেতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি আগামী এক দশকের মধ্যে মার্কিন সরাসরি সামরিক সহায়তার ওপর ইসরাইলের একক নির্ভরতার অবসান ঘটাতে চান। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি নগদ অর্থের পরিবর্তে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যকার এই গভীর ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্ভবত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সেই দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের সঙ্গেই পুরোপুরি মিলে যায়।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


নিরাপত্তা সহযোগিতায় আরও ঘনিষ্ঠ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার সামরিক সম্পর্ককে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যেতে মার্কিন কংগ্রেসে একটি নতুন বিলের বিধান উত্থাপন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং সামরিক প্রযুক্তির আদান-প্রদান বাড়ানো। প্রস্তাবিত এই আইনি বিধানের ফলে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের গবেষণা, যৌথ উৎপাদন এবং উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সুদূরপ্রসারী ও গভীর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনের প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির সংস্করণে ‘সেকশন ২২৪’-এর অধীনে এই বিশেষ প্রস্তাবটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতা উদ্যোগ’।


বর্তমানে এই পদক্ষেপটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি নির্ধারণ, প্রতিরক্ষা কর্মসূচি এবং সামগ্রিক ব্যয় বরাদ্দের মাত্রা অনুমোদনের জন্য কংগ্রেসে এই জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইন পাস করা হয়ে থাকে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিলটি যদি চূড়ান্তভাবে আইন হিসেবে পাস হয়, তবে তা বিশ্বের অন্যতম ঘনিষ্ঠ এই দুটি দেশের সামরিক সম্পর্কের সমীকরণে একটি ঐতিহাসিক ও বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এর ফলে দুই দেশের অংশীদারিত্ব কেবল মার্কিন আর্থিক বা সামরিক সহায়তার চিরাচরিত কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সরাসরি দুই দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা শিল্পের একটি গভীর ও স্থায়ী মেলবন্ধনে রূপ নেবে।


প্রস্তাবিত এই সেকশন ২২৪-এর নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে একজন বিশেষ কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে, যার প্রধান দায়িত্ব হবে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার সার্বিক বিষয়টি তদারকি ও সমন্বয় করা। এই সমন্বিত কার্যক্রমের আওতায় থাকবে যৌথ সামরিক গবেষণা ও উন্নয়ন, অত্যাধুনিক অস্ত্র উৎপাদন এবং দুই দেশের সামরিক ব্যবস্থা ও ডেটা বা তথ্যের পারস্পরিক সংযোগ স্থাপন।

এই অত্যন্ত বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর বিধানের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা এবং একটি সুপরিচিত অ্যাডভোকেসি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জশ পল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, কংগ্রেস এখন দুই দেশের এই সামরিক সম্পর্ককে আমেরিকার নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তির এত গভীরে স্থায়ীভাবে গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা ভবিষ্যতে কোনো প্রশাসনের পক্ষেই উপড়ে ফেলা বা পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, এই আইন পাস হলে ইসরাইল মার্কিন প্রযুক্তির ওপর নজিরবিহীন অধিকার পেয়ে যাবে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের নিজস্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি একীভূত করতে বাধ্য হবে। এটি আমেরিকার নিজস্ব প্রতিরক্ষার অগ্রাধিকারের ওপর ইসরাইলকে একটি অবিশ্বাস্য ও অন্যায্য সুবিধা দেবে।


ইতিমধ্যেই উভয় দেশ ‘আয়রন ডোম’-এর মতো অত্যন্ত কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যৌথভাবে তৈরি করে সফল হয়েছে। তবে নতুন এই বিলের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন এবং সাইবার অপারেশনের মতো আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের আরও বহু ক্ষেত্রে তাদের যৌথ কাজের পরিধি ব্যাপক হারে প্রসারিত হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও অস্থিরতার মধ্যেই এই বিশেষ আইনি বিধানটি সামনে এলো। এর আগে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছিল, যার জেরে দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহের একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। পরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে ইরানও ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হেনেছিল। এর পাশাপাশি গাজা যুদ্ধের কারণে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত তথা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা একটি মামলায় ইসরাইল বর্তমানে গণহত্যার গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি রয়েছে।

আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন এবং সিনেটে পাস হওয়ার আগে জুনের শুরুতে সশস্ত্র পরিষেবা কমিটিতে অনুমোদিত হতে হবে। কমিটির শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের নেতারাই এটি যৌথভাবে প্রস্তাব করেছেন। ফলে বিলটিতে মার্কিন প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলেরই জোরালো সমর্থন রয়েছে, যদিও সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন জনমত জরিপ অনুযায়ী ইসরাইলকে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান নেতার মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক দশক ধরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ইসরাইলের সামরিক বাহিনীকে ঢাল হিসেবে সাহায্য করে আসছে। ২০০৮ সাল থেকে মার্কিন আইন অনুযায়ী ওয়াশিংটনের জন্য ইসরাইলের গুণগত সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষা করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক, যেন মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের চেয়ে ইসরাইলি বাহিনী সব সময় শক্তিশালী ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত থাকে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত ১০ বছর মেয়াদী বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী ওয়াশিংটন ইসরাইলকে প্রতি বছর প্রায় তিনশো আশি কোটি ডলারের বিশাল সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে, যার মেয়াদ আগামী ২০২৮ সাল পর্যন্ত রয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটি মার্কিন বৈদেশিক সহায়তার সবচেয়ে বড় গ্রহীতা, যার প্রায় পুরোটাই ব্যয় হয় সামরিক খাতে। মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করলে আজ পর্যন্ত এই সহায়তার মোট মূল্যমান দাঁড়ায় তিনশত বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

তবে ঐতিহাসিক এই সহায়তার ধরন ও চরিত্র এখন অনেকটাই বদলে যেতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি আগামী এক দশকের মধ্যে মার্কিন সরাসরি সামরিক সহায়তার ওপর ইসরাইলের একক নির্ভরতার অবসান ঘটাতে চান। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি নগদ অর্থের পরিবর্তে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যকার এই গভীর ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্ভবত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সেই দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের সঙ্গেই পুরোপুরি মিলে যায়।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল