দিকপাল

নেদারল্যান্ডসে মসজিদে হামলা, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ | ০৫:১০ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

নেদারল্যান্ডসে মসজিদে হামলা, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নেদারল্যান্ডসের রটারডাম শহরে অবস্থিত ঐতিহাসিক মেভলানা মসজিদে একটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দাজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাতের অন্ধকারে একদল দুর্বৃত্ত মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং পবিত্র এই ধর্মীয় উপাসনালয়ের চরম অবমাননা করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় এবং ইসলামি সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের শীর্ষস্থানীয় মুসলিম অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংস্থা ইসলামিক ফাউন্ডেশন নেদারল্যান্ডস এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই পুরো বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছে।

সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে এগারোটার দিকে হঠাৎ করেই ছয়জন উগ্রপন্থী ও উচ্ছৃঙ্খল যুবকের একটি দল মেভলানা মসজিদ প্রাঙ্গণে চড়াও হয়। হামলাকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মসজিদের বাইরের একটি সুন্দর মোজাইক দেয়াল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। শুধু ভাঙচুরেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, বরং মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ভবনের দিকে একের পর এক বিয়ারের বোতল ছুড়ে মারতে থাকে। একই সাথে তারা মসজিদের সামনের অংশে চরম অশোভন ও নোংরা আচরণ করে, যা যেকোনো সভ্য সমাজের জন্য লজ্জাজনক।

এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সাথে সাথেই মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের বারবার ফোন করে সেখানে দ্রুত আসার অনুরোধ জানানো হলেও, পুলিশের পক্ষ থেকে সময়মতো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে অপরাধীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে সেখানে তাণ্ডব চালিয়ে খুব সহজেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। হামলাকারীরা সম্পূর্ণভাবে চলে যাওয়ার অনেক পর অলস গতিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। প্রশাসনের এমন উদাসীন ও ধীরগতির ভূমিকা নিয়ে এখন চারদিকে নানা প্রশ্ন উঠছে।

সবচেয়ে দুঃখজনক ও আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা এই পুরো ঘটনাটিকে অত্যন্ত হালকাভাবে নিয়েছেন। তাদের মতে, এটি কোনো ‘সরাসরি হস্তক্ষেপ করার মতো জরুরি পরিস্থিতি বা বড় কোনো নিরাপত্তা হুমকি’ ছিল না। পুলিশের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও একচোখা মূল্যায়নের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন নেদারল্যান্ডস। সংস্থাটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, প্রশাসনের এই ধরনের অদ্ভুত মনোভাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন নাগরিকের যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্তিতে এবং কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়া নিজের ধর্মপালন করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। উপাসনালয়ে হামলার পরও পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তা সাধারণ মুসল্লিদের মনে এক ধরনের গভীর নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে।

ইউরোপের দেশগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম সমাজ এবং তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে এই ধরনের উগ্র ও বিদ্বেষমূলক হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। রটারডামের এই ঘটনাটি তারই একটি ধারাবাহিক অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন নেদারল্যান্ডস চুপ করে বসে থাকেনি। তারা ইতিমধ্যেই এই বর্বরোচিত হামলার বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একটি আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে। একই সাথে পুরো বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


নেদারল্যান্ডসে মসজিদে হামলা, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬

featured Image

নেদারল্যান্ডসের রটারডাম শহরে অবস্থিত ঐতিহাসিক মেভলানা মসজিদে একটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দাজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাতের অন্ধকারে একদল দুর্বৃত্ত মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং পবিত্র এই ধর্মীয় উপাসনালয়ের চরম অবমাননা করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় এবং ইসলামি সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের শীর্ষস্থানীয় মুসলিম অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংস্থা ইসলামিক ফাউন্ডেশন নেদারল্যান্ডস এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই পুরো বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছে।

সংস্থার পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে এগারোটার দিকে হঠাৎ করেই ছয়জন উগ্রপন্থী ও উচ্ছৃঙ্খল যুবকের একটি দল মেভলানা মসজিদ প্রাঙ্গণে চড়াও হয়। হামলাকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মসজিদের বাইরের একটি সুন্দর মোজাইক দেয়াল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। শুধু ভাঙচুরেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, বরং মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ভবনের দিকে একের পর এক বিয়ারের বোতল ছুড়ে মারতে থাকে। একই সাথে তারা মসজিদের সামনের অংশে চরম অশোভন ও নোংরা আচরণ করে, যা যেকোনো সভ্য সমাজের জন্য লজ্জাজনক।

এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সাথে সাথেই মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের বারবার ফোন করে সেখানে দ্রুত আসার অনুরোধ জানানো হলেও, পুলিশের পক্ষ থেকে সময়মতো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে অপরাধীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে সেখানে তাণ্ডব চালিয়ে খুব সহজেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। হামলাকারীরা সম্পূর্ণভাবে চলে যাওয়ার অনেক পর অলস গতিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। প্রশাসনের এমন উদাসীন ও ধীরগতির ভূমিকা নিয়ে এখন চারদিকে নানা প্রশ্ন উঠছে।

সবচেয়ে দুঃখজনক ও আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা এই পুরো ঘটনাটিকে অত্যন্ত হালকাভাবে নিয়েছেন। তাদের মতে, এটি কোনো ‘সরাসরি হস্তক্ষেপ করার মতো জরুরি পরিস্থিতি বা বড় কোনো নিরাপত্তা হুমকি’ ছিল না। পুলিশের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও একচোখা মূল্যায়নের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন নেদারল্যান্ডস। সংস্থাটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, প্রশাসনের এই ধরনের অদ্ভুত মনোভাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন নাগরিকের যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্তিতে এবং কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়া নিজের ধর্মপালন করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। উপাসনালয়ে হামলার পরও পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তা সাধারণ মুসল্লিদের মনে এক ধরনের গভীর নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে।

ইউরোপের দেশগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম সমাজ এবং তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে এই ধরনের উগ্র ও বিদ্বেষমূলক হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। রটারডামের এই ঘটনাটি তারই একটি ধারাবাহিক অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন নেদারল্যান্ডস চুপ করে বসে থাকেনি। তারা ইতিমধ্যেই এই বর্বরোচিত হামলার বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একটি আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে। একই সাথে পুরো বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল