দিকপাল

প্রতিরক্ষায় রেকর্ড বিনিয়োগ, ১.৫ লাখ কোটি ডলার ঢালছে যুক্তরাষ্ট্র


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ | ১২:৩২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিরক্ষায় রেকর্ড বিনিয়োগ, ১.৫ লাখ কোটি ডলার ঢালছে যুক্তরাষ্ট্র

চলতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে দেড় লাখ কোটি ডলারের এক বিশাল অংকের আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে যাচ্ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের এই বিশাল পরিকল্পনাকে একটি ‘প্রজন্মভিত্তিক বিনিয়োগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সিঙ্গাপুরে চলমান এশিয়ার শীর্ষ নিরাপত্তা সম্মেলন ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’-এ বিশ্বনেতা ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ওয়াশিংটনের এই নতুন ও সুদূরপ্রসারী সামরিক ভাবনার কথা উন্মোচন করেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই বিপুল পরিমাণ পুঁজিকরণ ও বিনিয়োগের প্রক্রিয়াটিকে আমেরিকার প্রতিরক্ষা শিল্প ঘাঁটির একটি ‘ঐতিহাসিক জাতীয় উৎপাদন গতিশীলতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আগামী দিনে দেশটির সামরিক ও উৎপাদন সক্ষমতাকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বের বিভিন্ন বন্ধু ও মিত্র রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশ্যে এক প্রকার প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে পিট হেগসেথ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রতিটি মিত্র দেশকে তাদের নিজ নিজ মোট দেশজ উৎপাদনের অন্তত সাড়ে তিন শতাংশ অর্থ কেবল প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয়ের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে বরাদ্দ রাখতে হবে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় মার্কিন প্রশাসনের নতুন পররাষ্ট্রনীতির ইঙ্গিত দিয়ে জানান, ওয়াশিংটন এখন থেকে কেবল সেই সব ‘আদর্শ মিত্রদের’ সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে, যারা নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আন্তরিক। আর যেসব মিত্র দেশ প্রতিরক্ষায় মার্কিন করদাতাদের অর্থের ওপর নির্ভর করে এই ধরনের আর্থিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হবে, তাদের ক্ষেত্রে আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে খুব স্পষ্ট ও দৃশ্যমান নেতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

মিত্র দেশগুলোর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই শর্তারোপের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও কঠোর মনোভাব প্রদর্শন করেন। তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমেরিকার দীর্ঘদিনের একক আর্থিক ও সামরিক পৃষ্ঠপোষকতার নীতি পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, যারা মনে করেন মার্কিন সাধারণ করদাতাদের উদারতার ওপর ভর করে বছরের পর বছর বিনামূল্যে নিজেদের নিরাপত্তা সুবিধা ও সামরিক সুরক্ষা নেওয়া অব্যাহত রাখবেন, তারা এখনই কান খুলে শুনে রাখুন, সেই একতরফা সুবিধার দিন এখন পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। আমেরিকার এই নতুন ও সাহসী সামরিক নীতিকে তিনি বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণে একটি ‘কৌশলগত প্রয়োজন’ বলেও শক্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন। এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বে এক বড় ধরনের কাঠামোগত ও নীতিগত পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সুত্র: আল-জাজিরা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


প্রতিরক্ষায় রেকর্ড বিনিয়োগ, ১.৫ লাখ কোটি ডলার ঢালছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬

featured Image

চলতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে দেড় লাখ কোটি ডলারের এক বিশাল অংকের আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে যাচ্ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের এই বিশাল পরিকল্পনাকে একটি ‘প্রজন্মভিত্তিক বিনিয়োগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সিঙ্গাপুরে চলমান এশিয়ার শীর্ষ নিরাপত্তা সম্মেলন ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’-এ বিশ্বনেতা ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ওয়াশিংটনের এই নতুন ও সুদূরপ্রসারী সামরিক ভাবনার কথা উন্মোচন করেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই বিপুল পরিমাণ পুঁজিকরণ ও বিনিয়োগের প্রক্রিয়াটিকে আমেরিকার প্রতিরক্ষা শিল্প ঘাঁটির একটি ‘ঐতিহাসিক জাতীয় উৎপাদন গতিশীলতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আগামী দিনে দেশটির সামরিক ও উৎপাদন সক্ষমতাকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বের বিভিন্ন বন্ধু ও মিত্র রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশ্যে এক প্রকার প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে পিট হেগসেথ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রতিটি মিত্র দেশকে তাদের নিজ নিজ মোট দেশজ উৎপাদনের অন্তত সাড়ে তিন শতাংশ অর্থ কেবল প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয়ের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে বরাদ্দ রাখতে হবে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় মার্কিন প্রশাসনের নতুন পররাষ্ট্রনীতির ইঙ্গিত দিয়ে জানান, ওয়াশিংটন এখন থেকে কেবল সেই সব ‘আদর্শ মিত্রদের’ সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে, যারা নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আন্তরিক। আর যেসব মিত্র দেশ প্রতিরক্ষায় মার্কিন করদাতাদের অর্থের ওপর নির্ভর করে এই ধরনের আর্থিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হবে, তাদের ক্ষেত্রে আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে খুব স্পষ্ট ও দৃশ্যমান নেতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

মিত্র দেশগুলোর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই শর্তারোপের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও কঠোর মনোভাব প্রদর্শন করেন। তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমেরিকার দীর্ঘদিনের একক আর্থিক ও সামরিক পৃষ্ঠপোষকতার নীতি পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, যারা মনে করেন মার্কিন সাধারণ করদাতাদের উদারতার ওপর ভর করে বছরের পর বছর বিনামূল্যে নিজেদের নিরাপত্তা সুবিধা ও সামরিক সুরক্ষা নেওয়া অব্যাহত রাখবেন, তারা এখনই কান খুলে শুনে রাখুন, সেই একতরফা সুবিধার দিন এখন পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। আমেরিকার এই নতুন ও সাহসী সামরিক নীতিকে তিনি বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণে একটি ‘কৌশলগত প্রয়োজন’ বলেও শক্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন। এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বে এক বড় ধরনের কাঠামোগত ও নীতিগত পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সুত্র: আল-জাজিরা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল