দিকপাল

শান্তিরক্ষায় অনন্য অবদান, বাংলাদেশকে বিশেষ স্বীকৃতি জাতিসংঘের


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ | ১২:০২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

শান্তিরক্ষায় অনন্য অবদান, বাংলাদেশকে বিশেষ স্বীকৃতি জাতিসংঘের

বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও সংঘাতময় অঞ্চলগুলোতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিয়োজিত চার হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি সদস্যসহ বিশ্বব্যাপী পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি বীর শান্তিরক্ষীকে বিশেষ সম্মান জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষার মহান ব্রত পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গকারী আত্মত্যাগী সৈনিকদের প্রতি গভীর ও বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে এই বিশ্ব সংস্থাটি।

প্রতি বছর ২৯ মে বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে পালিত হয় আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। এই বিশেষ দিনটিতে জাতিসংঘ পৃথিবীর সবচেয়ে অস্থির, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কর্মরত শান্তিরক্ষীদের অদম্য নিষ্ঠা, অসীম সাহস এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। বাংলাদেশে অবস্থিত জাতিসংঘের আবাসিক কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শান্তিরক্ষীদের এই নিরলস ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ মূলত বিশ্বব্যাপী টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরও বেশি বিনিয়োগ করার জরুরি প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিশ্বনেতাদের সামনে অত্যন্ত জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছে। তাদের এই মহান দায়িত্ব পালন বিশ্বজুড়ে শান্তিতে বিনিয়োগের তাগিদকে আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থবহ করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক এই দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বর্তমান বিশ্বের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ৫০ হাজারেরও বেশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের জীবনের তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত নিরপরাধ বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দিচ্ছেন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠার বহুমুখী প্রচেষ্টায় সরাসরি সহায়তা করছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বীর যোদ্ধারা নিজেদের প্রিয় মাতৃভূমি এবং পরিবার থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থান করে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু এলাকায় বিবদমান শত্রু পক্ষগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানো, আর্তমানবতার সেবায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর কাজে সার্বিক তদারকি করা, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে মাঠপর্যায়ে সহায়তা করা এবং দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব তাঁর বাণীতে অতীত ও বর্তমানের সকল শান্তিরক্ষীর বীরত্বপূর্ণ অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সহিংসতায় প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানান। এই দীর্ঘ তালিকায় কেবল গত এক বছরেই বিশ্বশান্তিরক্ষায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৯ জন বীর সদস্য। অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে মহাসচিব বলেন, শান্তির মতো একটি পবিত্র কাজ করতে গিয়ে আর কোনো মানুষের মৃত্যুই কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। শান্তিরক্ষীদের ওপর যেকোনো ধরনের সশস্ত্র হামলা সরাসরি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের এক গুরুতর লঙ্ঘন। তাই মাঠপর্যায়ে কর্মরত জাতিসংঘ কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৃথিবীর সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রকে তাদের নিজস্ব দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করার আহ্বান জানান তিনি।

মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘের এই শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে বিশ্বমঞ্চে স্থিতিশীলতা ও আশার আলো পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত পরীক্ষিত এবং সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে এই কার্যক্রমের সফলতার জন্য বিশ্বনেতাদের টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের এবারের তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। এই প্রতিপাদ্যের আলোকেই শান্তিরক্ষীরা যাতে আরও বেশি কার্যকর ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম ও সম্পদ নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গুতেরেস স্পষ্ট করে বলেন, শান্তিরক্ষায় বিনিয়োগ করা মানেই হলো আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করা। তাই যাঁরা বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠাকে বাস্তবে সম্ভব করে তুলছেন, তাঁদের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সবসময় অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা জানানো উচিত।

জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, মিশনগুলোতে দায়িত্ব পালনের সময় শান্তিরক্ষীরা নিয়মিতভাবে অত্যন্ত বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হন। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সুরক্ষাবলয় ও কাজের কার্যকারিতা বাড়াতে অতীতে গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে আগামী দিনে আরও বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এই বিশ্ব সংস্থাটি। দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদযাপনের অংশ হিসেবে আগামী ৫ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্থাপিত শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মূলত বিশ্বশান্তির জন্য জীবন দেওয়া শহীদ শান্তিরক্ষীদের স্মরণে এই বিশেষ শোক কর্মসূচি পালন করা হবে।

এর পাশাপাশি কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত কর্মীদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তর মর্যাদাপূর্ণ ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পদক প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে স্বয়ং মহাসচিব সভাপতিত্ব করবেন। উক্ত গৌরবময় অনুষ্ঠানে বিশ্বশান্তিরক্ষায় নারীদের বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘জাতিসংঘ মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘জাতিসংঘ ওম্যান পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার’ নামক দুটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক পুরস্কারও যোগ্য কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই আন্তর্জাতিক দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমের সামনে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জাঁ-পিয়েরা লাক্রোয়ার।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


শান্তিরক্ষায় অনন্য অবদান, বাংলাদেশকে বিশেষ স্বীকৃতি জাতিসংঘের

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬

featured Image

বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও সংঘাতময় অঞ্চলগুলোতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিয়োজিত চার হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি সদস্যসহ বিশ্বব্যাপী পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি বীর শান্তিরক্ষীকে বিশেষ সম্মান জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষার মহান ব্রত পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গকারী আত্মত্যাগী সৈনিকদের প্রতি গভীর ও বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে এই বিশ্ব সংস্থাটি।

প্রতি বছর ২৯ মে বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে পালিত হয় আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। এই বিশেষ দিনটিতে জাতিসংঘ পৃথিবীর সবচেয়ে অস্থির, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কর্মরত শান্তিরক্ষীদের অদম্য নিষ্ঠা, অসীম সাহস এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। বাংলাদেশে অবস্থিত জাতিসংঘের আবাসিক কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শান্তিরক্ষীদের এই নিরলস ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ মূলত বিশ্বব্যাপী টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরও বেশি বিনিয়োগ করার জরুরি প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিশ্বনেতাদের সামনে অত্যন্ত জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছে। তাদের এই মহান দায়িত্ব পালন বিশ্বজুড়ে শান্তিতে বিনিয়োগের তাগিদকে আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থবহ করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক এই দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বর্তমান বিশ্বের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ৫০ হাজারেরও বেশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের জীবনের তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত নিরপরাধ বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দিচ্ছেন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠার বহুমুখী প্রচেষ্টায় সরাসরি সহায়তা করছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বীর যোদ্ধারা নিজেদের প্রিয় মাতৃভূমি এবং পরিবার থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থান করে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু এলাকায় বিবদমান শত্রু পক্ষগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানো, আর্তমানবতার সেবায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর কাজে সার্বিক তদারকি করা, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে মাঠপর্যায়ে সহায়তা করা এবং দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব তাঁর বাণীতে অতীত ও বর্তমানের সকল শান্তিরক্ষীর বীরত্বপূর্ণ অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সহিংসতায় প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানান। এই দীর্ঘ তালিকায় কেবল গত এক বছরেই বিশ্বশান্তিরক্ষায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৯ জন বীর সদস্য। অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে মহাসচিব বলেন, শান্তির মতো একটি পবিত্র কাজ করতে গিয়ে আর কোনো মানুষের মৃত্যুই কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। শান্তিরক্ষীদের ওপর যেকোনো ধরনের সশস্ত্র হামলা সরাসরি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের এক গুরুতর লঙ্ঘন। তাই মাঠপর্যায়ে কর্মরত জাতিসংঘ কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৃথিবীর সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রকে তাদের নিজস্ব দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করার আহ্বান জানান তিনি।

মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘের এই শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে বিশ্বমঞ্চে স্থিতিশীলতা ও আশার আলো পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত পরীক্ষিত এবং সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে এই কার্যক্রমের সফলতার জন্য বিশ্বনেতাদের টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তার ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের এবারের তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। এই প্রতিপাদ্যের আলোকেই শান্তিরক্ষীরা যাতে আরও বেশি কার্যকর ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম ও সম্পদ নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গুতেরেস স্পষ্ট করে বলেন, শান্তিরক্ষায় বিনিয়োগ করা মানেই হলো আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করা। তাই যাঁরা বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠাকে বাস্তবে সম্ভব করে তুলছেন, তাঁদের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সবসময় অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা জানানো উচিত।

জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, মিশনগুলোতে দায়িত্ব পালনের সময় শান্তিরক্ষীরা নিয়মিতভাবে অত্যন্ত বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হন। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সুরক্ষাবলয় ও কাজের কার্যকারিতা বাড়াতে অতীতে গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে আগামী দিনে আরও বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এই বিশ্ব সংস্থাটি। দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদযাপনের অংশ হিসেবে আগামী ৫ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্থাপিত শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মূলত বিশ্বশান্তির জন্য জীবন দেওয়া শহীদ শান্তিরক্ষীদের স্মরণে এই বিশেষ শোক কর্মসূচি পালন করা হবে।

এর পাশাপাশি কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত কর্মীদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তর মর্যাদাপূর্ণ ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পদক প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে স্বয়ং মহাসচিব সভাপতিত্ব করবেন। উক্ত গৌরবময় অনুষ্ঠানে বিশ্বশান্তিরক্ষায় নারীদের বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘জাতিসংঘ মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘জাতিসংঘ ওম্যান পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার’ নামক দুটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক পুরস্কারও যোগ্য কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই আন্তর্জাতিক দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমের সামনে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জাঁ-পিয়েরা লাক্রোয়ার।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল