বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের লক্ষ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে মোট সাতশত একুশ হেক্টর জমি হস্তান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই বড় পদক্ষেপের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গত বৃহস্পতিবার ভারতের গুজরাট অঙ্গরাজ্যের গান্ধীনগর শহরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রকাশ করেন।
সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের প্রশংসা করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কার্যভার ও শপথ গ্রহণের মাত্র সাত দিনের মাথায় শুভেন্দু অধিকারীর সরকার সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে এই বিশাল পরিমাণ ভূমি বুঝিয়ে দিয়েছে। হস্তান্তরিত সাতশত একুশ হেক্টর জমির ভৌগোলিক বিন্যাস তুলে ধরে তিনি জানান, এর মধ্যে প্রায় ছয়শত হেক্টর জমি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অরক্ষিত অঞ্চলের অন্তর্গত। আর বাকি একশত একুশ হেক্টর জমি অত্যন্ত কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন্স নেক এলাকার সুরক্ষায় ব্যবহার করা হবে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এখন পুরো গঙ্গা নদী অববাহিকা জুড়েই ভারতীয় জনতা পার্টির শাসন ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
অনুপ্রবেশের বিষয়ে বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠন করার পর সেখানে আটকন কেন্দ্র স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কঠোর পদক্ষেপের ফলেই তথাকথিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এখন সম্পূর্ণ নিজস্ব ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন আগের রাজ্য সরকারের আমলে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটত, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি ছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে এবং অবৈধভাবে বসবাসকারীরা এখন কোনো প্রকার বলপ্রয়োগ ছাড়াই নিজেরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, যেসব অভিবাসী নিজ উদ্যোগে বা স্বেচ্ছায় চলে যেতে চান, তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের লজিস্টিক বা প্রশাসনিক সহায়তা দিতে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি একটি বিশেষ সতর্কবার্তা ও সুযোগের কথা উল্লেখ করে প্রতিশ্রুতি দেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিহ্নিতকরণ বা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ার আগেই যদি তারা সীমান্ত পার হয়ে ফিরে যান, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে না।
ভৌগোলিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও মিজোরামের সুদীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এই রাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সীমান্ত এলাকা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে, যার সীমান্ত ছুয়েছে বাংলাদেশের মোট দশটি জেলাকে। দুই দেশের এই সীমান্তের অধিকাংশ এলাকাজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া আগে থেকেই নির্মিত থাকলেও ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক কারণে কিছু কিছু অংশ দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল। অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ সেসব অংশে স্থায়ী বেড়া নির্মাণের জন্য পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বহুবার জমি চেয়েছিল ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ নীতি এবং স্থানীয় নানা রাজনৈতিক জটিলতার কারণে মমতার দীর্ঘ শাসন আমলে কেন্দ্রীয় সরকারের সেই দাবি বারবার উপেক্ষিত ও অপূর্ণ থেকে যায়।
তবে অতি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে এক বিশাল রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আর এই নতুন সরকারের প্রধান বা মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, যিনি একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী ও শীর্ষ স্তরের নেতা ছিলেন। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে সমন্বয় করে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা সীমান্ত সমস্যার সমাধানে এই তাৎক্ষণিক ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যা দুই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের লক্ষ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে মোট সাতশত একুশ হেক্টর জমি হস্তান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই বড় পদক্ষেপের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গত বৃহস্পতিবার ভারতের গুজরাট অঙ্গরাজ্যের গান্ধীনগর শহরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রকাশ করেন।
সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের প্রশংসা করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কার্যভার ও শপথ গ্রহণের মাত্র সাত দিনের মাথায় শুভেন্দু অধিকারীর সরকার সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে এই বিশাল পরিমাণ ভূমি বুঝিয়ে দিয়েছে। হস্তান্তরিত সাতশত একুশ হেক্টর জমির ভৌগোলিক বিন্যাস তুলে ধরে তিনি জানান, এর মধ্যে প্রায় ছয়শত হেক্টর জমি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অরক্ষিত অঞ্চলের অন্তর্গত। আর বাকি একশত একুশ হেক্টর জমি অত্যন্ত কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন্স নেক এলাকার সুরক্ষায় ব্যবহার করা হবে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এখন পুরো গঙ্গা নদী অববাহিকা জুড়েই ভারতীয় জনতা পার্টির শাসন ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
অনুপ্রবেশের বিষয়ে বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠন করার পর সেখানে আটকন কেন্দ্র স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কঠোর পদক্ষেপের ফলেই তথাকথিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এখন সম্পূর্ণ নিজস্ব ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন আগের রাজ্য সরকারের আমলে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটত, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি ছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে এবং অবৈধভাবে বসবাসকারীরা এখন কোনো প্রকার বলপ্রয়োগ ছাড়াই নিজেরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, যেসব অভিবাসী নিজ উদ্যোগে বা স্বেচ্ছায় চলে যেতে চান, তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের লজিস্টিক বা প্রশাসনিক সহায়তা দিতে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি একটি বিশেষ সতর্কবার্তা ও সুযোগের কথা উল্লেখ করে প্রতিশ্রুতি দেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিহ্নিতকরণ বা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ার আগেই যদি তারা সীমান্ত পার হয়ে ফিরে যান, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে না।
ভৌগোলিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও মিজোরামের সুদীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এই রাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সীমান্ত এলাকা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে, যার সীমান্ত ছুয়েছে বাংলাদেশের মোট দশটি জেলাকে। দুই দেশের এই সীমান্তের অধিকাংশ এলাকাজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া আগে থেকেই নির্মিত থাকলেও ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক কারণে কিছু কিছু অংশ দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল। অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ সেসব অংশে স্থায়ী বেড়া নির্মাণের জন্য পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বহুবার জমি চেয়েছিল ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ নীতি এবং স্থানীয় নানা রাজনৈতিক জটিলতার কারণে মমতার দীর্ঘ শাসন আমলে কেন্দ্রীয় সরকারের সেই দাবি বারবার উপেক্ষিত ও অপূর্ণ থেকে যায়।
তবে অতি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে এক বিশাল রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আর এই নতুন সরকারের প্রধান বা মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, যিনি একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী ও শীর্ষ স্তরের নেতা ছিলেন। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে সমন্বয় করে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা সীমান্ত সমস্যার সমাধানে এই তাৎক্ষণিক ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যা দুই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

আপনার মতামত লিখুন