বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত দীর্ঘদিনের কঠোর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি উভয় দিক থেকেই সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। গত শুক্রবার (২৯ মে) নিজের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক সুদীর্ঘ পোস্টে এই সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির রূপরেখা এবং এর পেছনে থাকা বেশ কয়েকটি কঠোর শর্তের কথা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত শর্তাবলীর মধ্যে সবচেয়ে প্রধান এবং অলোচনামূলক বিষয়টি হলো পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। তাঁর শর্ত অনুযায়ী, ইরানকে সুনির্দিষ্টভাবে এই অঙ্গীকার করতে হবে যে তারা কখনোই কোনো ধরনের পারমাণবিক বা পরমাণু অস্ত্র তৈরি কিংবা মজুত করবে না। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের অতিরিক্ত শুল্ক বা টোল আদায় ছাড়াই উভয় দিক থেকে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাম্প তাঁর ওই পোস্টে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, এই কৌশলগত নৌপথে যদি এখনও কোনো ধরনের সামুদ্রিক মাইন পাতা থাকে, তবে সেগুলোও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে। এই প্রসঙ্গে নিজের সামরিক বাহিনীর সাফল্য দাবি করে তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন নৌবাহিনী ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলের জলসীমায় তল্লাশি চালিয়ে অনেক মাইন চিহ্নিত করেছে এবং সেগুলো বিস্ফোরণের মাধ্যমে সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর বিবৃতিতে দুই দেশের চলমান বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা দূর করার একটি বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যে কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক নৌ অবরোধ আরোপ করা হয়েছিল, তা খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়া হবে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বন্দরে বা সাগরে আটকে থাকা মালবাহী ও পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো বিনা বাধায় পুনরায় তাদের নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারবে। এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা।
বিবৃতিতে সামরিক ও কৌশলগত আরেকটি চাঞ্চল্যকর দাবি উত্থাপন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেন, আজ থেকে প্রায় এগারো মাস আগে মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক বি-২ বোমারু বিমানের নিখুঁত ও বিধ্বংসী হামলায় ইরানের যে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেখানে থাকা অবশিষ্টাংশ নিয়ে একটি বড় পরিকল্পনা রয়েছে। ওই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়ামের মজুত ও উপাদানগুলো আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এবং তত্ত্বাবধানে উদ্ধার করা হবে এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনায় সেগুলো সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় ও ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সম্ভাব্য চুক্তি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা হ্রাস করার পাশাপাশি বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দেবে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত দীর্ঘদিনের কঠোর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি উভয় দিক থেকেই সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। গত শুক্রবার (২৯ মে) নিজের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক সুদীর্ঘ পোস্টে এই সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির রূপরেখা এবং এর পেছনে থাকা বেশ কয়েকটি কঠোর শর্তের কথা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত শর্তাবলীর মধ্যে সবচেয়ে প্রধান এবং অলোচনামূলক বিষয়টি হলো পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। তাঁর শর্ত অনুযায়ী, ইরানকে সুনির্দিষ্টভাবে এই অঙ্গীকার করতে হবে যে তারা কখনোই কোনো ধরনের পারমাণবিক বা পরমাণু অস্ত্র তৈরি কিংবা মজুত করবে না। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের অতিরিক্ত শুল্ক বা টোল আদায় ছাড়াই উভয় দিক থেকে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাম্প তাঁর ওই পোস্টে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, এই কৌশলগত নৌপথে যদি এখনও কোনো ধরনের সামুদ্রিক মাইন পাতা থাকে, তবে সেগুলোও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে। এই প্রসঙ্গে নিজের সামরিক বাহিনীর সাফল্য দাবি করে তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন নৌবাহিনী ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলের জলসীমায় তল্লাশি চালিয়ে অনেক মাইন চিহ্নিত করেছে এবং সেগুলো বিস্ফোরণের মাধ্যমে সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর বিবৃতিতে দুই দেশের চলমান বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা দূর করার একটি বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যে কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক নৌ অবরোধ আরোপ করা হয়েছিল, তা খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়া হবে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বন্দরে বা সাগরে আটকে থাকা মালবাহী ও পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো বিনা বাধায় পুনরায় তাদের নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারবে। এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা।
বিবৃতিতে সামরিক ও কৌশলগত আরেকটি চাঞ্চল্যকর দাবি উত্থাপন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেন, আজ থেকে প্রায় এগারো মাস আগে মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক বি-২ বোমারু বিমানের নিখুঁত ও বিধ্বংসী হামলায় ইরানের যে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেখানে থাকা অবশিষ্টাংশ নিয়ে একটি বড় পরিকল্পনা রয়েছে। ওই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়ামের মজুত ও উপাদানগুলো আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এবং তত্ত্বাবধানে উদ্ধার করা হবে এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনায় সেগুলো সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় ও ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সম্ভাব্য চুক্তি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা হ্রাস করার পাশাপাশি বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দেবে।

আপনার মতামত লিখুন