গেল ফেব্রুয়ারির শেষ ভাগে শুরু হওয়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধটি মাঝে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও তা নতুন করে শুরু হওয়ার তীব্র শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুই পক্ষই ইতিমধ্যে একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চালিয়েছে। ইরান সংঘাত যখন চরম রূপ ধারণ করেছিল, তখন পারমাণবিক হামলার এক প্রচ্ছন্ন চোখরাঙানিও বেশ ভালোভাবেই টের পাওয়া যাচ্ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো একপর্যায়ে পুরো মানবসভ্যতা উড়িয়ে দেওয়ার মতো চরম হুমকিও দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই এই যুদ্ধ যখন আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আভাস দিচ্ছে, তখন পারমাণবিক সংঘাতের পুরোনো শঙ্কাটি নতুন করে ফিরে আসার কথা। কিন্তু আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকে পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞের মুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য কেবল ইরান সংকটই একমাত্র কারণ নয়, বরং এর চেয়েও বড় অন্য এক সংঘাতের মেঘ জমছে বিশ্ব রাজনীতিতে।
লন্ডনভিত্তিক স্বনামধন্য প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ তাদের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে জানিয়েছে, ইরান নয়, বরং তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যদি কোনো যুদ্ধ বাধে, তবে তা খুব দ্রুতই একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। সিঙ্গাপুরে এশিয়ার সবচেয়ে বড় বার্ষিক প্রতিরক্ষা সম্মেলন বা শাংগ্রি-লা ডায়ালগ শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই গবেষণা সংস্থার মতে, বিশ্ব এখন অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে এবং এই প্রতিযোগিতার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। এই অঞ্চলের দেশগুলো এবং এখানে যাদের কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে, তারা প্রত্যেকেই গোপনে ও প্রকাশ্যে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়িয়ে চলেছে। এমনকি যেসব দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র নেই, তারাও প্রতিরক্ষার নামে দূরপাল্লার সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আক্রমণের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাড়াচ্ছে, যা এই অঞ্চলের সামগ্রিক কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
অবশ্য ওয়াশিংটন ও লন্ডনের এমন মূল্যায়নকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে বেইজিং। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং বিন অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেছেন যে, এই প্রতিবেদনের তথ্যগুলো বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে একেবারেই সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে তাইওয়ান বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এখানে বাইরের কোনো দেশের নাক গলানো বেইজিং কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। একই সুর শোনা গেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিংয়ের কণ্ঠেও। তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, তাইওয়ান ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের অত্যন্ত সাবধানে এবং সতর্কতার সঙ্গে পা বাড়ানো উচিত।
দেড় শতাধিক পাতার এই দীর্ঘ প্রতিরক্ষা মূল্যায়নে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তাইওয়ান নিয়ে যদি কোনো কারণে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ বেঁধে যায়, তবে দুই দেশের সেনাবাহিনীই শুরুতেই একে অপরের সামরিক কমান্ড, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নজরদারি কাঠামোর ওপর বড় ধরনের সাইবার ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে। চীনের কাছে তাইওয়ানের ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলো হুমকির মুখে পড়লে চীন যেকোনো মুহূর্তে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। প্রতিবেদনে আরও একটি ভয়ংকর তথ্য সামনে আনা হয়েছে, তা হলো এই দুই পরাশক্তির সামরিক বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধকালীন সময়ে একে অপরের যোগাযোগ কেন্দ্রে হামলা চালানো বা তা সীমিত রাখার ব্যাপারে আগে থেকে কোনো অলিখিত নিয়ম বা সমঝোতা নেই। ফলে যেকোনো সাধারণ সামরিক সংঘাতও মুহূর্তের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে এবং এই চরম ঝুঁকির বিষয়টি সব সময়ই ঝুলে থাকবে।
এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানিয়েল সলসবেরি বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন যে, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো ধরনের কার্যকর আলোচনা হয়নি। বর্তমানে পরমাণু প্রশ্নে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার সম্পর্ককে অত্যন্ত জটিল ও কঠিন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। সলসবেরি অতীতে স্নায়ুযুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং পারমাণবিক ঝুঁকি কমানোর বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সংলাপ ও আলোচনার একটি চেইন ব্যবস্থা চালু ছিল। কিন্তু বর্তমান চীনের ক্ষেত্রে এই ধরনের আলোচনা আরও বেশি জটিল, কারণ বেইজিং তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের একটি বড় অংশ অত্যন্ত গোপন স্থানে লুকিয়ে রেখেছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, দুই দেশের মধ্যে এখন এই জাতীয় স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোচনার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিই গড়ে ওঠেনি, ফলে যেকোনো সংকট নিরসনের ভিত্তি খুবই নড়বড়ে।
যদিও সংখ্যার দিক থেকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডার এখনও চীনের চেয়ে বহুগুণ বড়, কিন্তু মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশ্লেষকদের মাথাব্যথার প্রধান কারণ হলো, বেইজিং পৃথিবীর যেকোনো পারমাণবিক শক্তির চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে তাদের অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াচ্ছে এবং প্রযুক্তির আধুনিকায়ন করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের এক পূর্বাভাস অনুযায়ী, চীন আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ১,০০০টি সক্রিয় পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করতে সক্ষম হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু বিজ্ঞানীদের ফেডারেশনের দেওয়া তথ্যমতে, এই মুহূর্তে রাশিয়ার কাছে ৪,৪০০টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩,৭০০টি সক্রিয় পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, যেখানে চীনের বর্তমান মজুদ দাঁড়িয়েছে ৬২০টিতে। চলমান তাইওয়ান সংকট, ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এশীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক প্রতিশ্রুতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা—এই সমস্ত জ্বলন্ত ইস্যুগুলোই সিঙ্গাপুরের তিন দিনব্যাপী শাংগ্রি-লা ডায়ালগ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু হতে যাচ্ছে।
সূত্র: আইআইএসএস

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬
গেল ফেব্রুয়ারির শেষ ভাগে শুরু হওয়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধটি মাঝে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও তা নতুন করে শুরু হওয়ার তীব্র শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুই পক্ষই ইতিমধ্যে একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চালিয়েছে। ইরান সংঘাত যখন চরম রূপ ধারণ করেছিল, তখন পারমাণবিক হামলার এক প্রচ্ছন্ন চোখরাঙানিও বেশ ভালোভাবেই টের পাওয়া যাচ্ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো একপর্যায়ে পুরো মানবসভ্যতা উড়িয়ে দেওয়ার মতো চরম হুমকিও দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই এই যুদ্ধ যখন আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আভাস দিচ্ছে, তখন পারমাণবিক সংঘাতের পুরোনো শঙ্কাটি নতুন করে ফিরে আসার কথা। কিন্তু আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকে পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞের মুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য কেবল ইরান সংকটই একমাত্র কারণ নয়, বরং এর চেয়েও বড় অন্য এক সংঘাতের মেঘ জমছে বিশ্ব রাজনীতিতে।
লন্ডনভিত্তিক স্বনামধন্য প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ তাদের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে জানিয়েছে, ইরান নয়, বরং তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যদি কোনো যুদ্ধ বাধে, তবে তা খুব দ্রুতই একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। সিঙ্গাপুরে এশিয়ার সবচেয়ে বড় বার্ষিক প্রতিরক্ষা সম্মেলন বা শাংগ্রি-লা ডায়ালগ শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই গবেষণা সংস্থার মতে, বিশ্ব এখন অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে এবং এই প্রতিযোগিতার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। এই অঞ্চলের দেশগুলো এবং এখানে যাদের কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে, তারা প্রত্যেকেই গোপনে ও প্রকাশ্যে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়িয়ে চলেছে। এমনকি যেসব দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র নেই, তারাও প্রতিরক্ষার নামে দূরপাল্লার সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আক্রমণের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাড়াচ্ছে, যা এই অঞ্চলের সামগ্রিক কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
অবশ্য ওয়াশিংটন ও লন্ডনের এমন মূল্যায়নকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে বেইজিং। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং বিন অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেছেন যে, এই প্রতিবেদনের তথ্যগুলো বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে একেবারেই সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে তাইওয়ান বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এখানে বাইরের কোনো দেশের নাক গলানো বেইজিং কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। একই সুর শোনা গেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিংয়ের কণ্ঠেও। তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, তাইওয়ান ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের অত্যন্ত সাবধানে এবং সতর্কতার সঙ্গে পা বাড়ানো উচিত।
দেড় শতাধিক পাতার এই দীর্ঘ প্রতিরক্ষা মূল্যায়নে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তাইওয়ান নিয়ে যদি কোনো কারণে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ বেঁধে যায়, তবে দুই দেশের সেনাবাহিনীই শুরুতেই একে অপরের সামরিক কমান্ড, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নজরদারি কাঠামোর ওপর বড় ধরনের সাইবার ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে। চীনের কাছে তাইওয়ানের ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলো হুমকির মুখে পড়লে চীন যেকোনো মুহূর্তে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। প্রতিবেদনে আরও একটি ভয়ংকর তথ্য সামনে আনা হয়েছে, তা হলো এই দুই পরাশক্তির সামরিক বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধকালীন সময়ে একে অপরের যোগাযোগ কেন্দ্রে হামলা চালানো বা তা সীমিত রাখার ব্যাপারে আগে থেকে কোনো অলিখিত নিয়ম বা সমঝোতা নেই। ফলে যেকোনো সাধারণ সামরিক সংঘাতও মুহূর্তের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে এবং এই চরম ঝুঁকির বিষয়টি সব সময়ই ঝুলে থাকবে।
এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানিয়েল সলসবেরি বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন যে, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো ধরনের কার্যকর আলোচনা হয়নি। বর্তমানে পরমাণু প্রশ্নে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার সম্পর্ককে অত্যন্ত জটিল ও কঠিন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। সলসবেরি অতীতে স্নায়ুযুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং পারমাণবিক ঝুঁকি কমানোর বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সংলাপ ও আলোচনার একটি চেইন ব্যবস্থা চালু ছিল। কিন্তু বর্তমান চীনের ক্ষেত্রে এই ধরনের আলোচনা আরও বেশি জটিল, কারণ বেইজিং তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের একটি বড় অংশ অত্যন্ত গোপন স্থানে লুকিয়ে রেখেছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, দুই দেশের মধ্যে এখন এই জাতীয় স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোচনার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিই গড়ে ওঠেনি, ফলে যেকোনো সংকট নিরসনের ভিত্তি খুবই নড়বড়ে।
যদিও সংখ্যার দিক থেকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডার এখনও চীনের চেয়ে বহুগুণ বড়, কিন্তু মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশ্লেষকদের মাথাব্যথার প্রধান কারণ হলো, বেইজিং পৃথিবীর যেকোনো পারমাণবিক শক্তির চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে তাদের অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াচ্ছে এবং প্রযুক্তির আধুনিকায়ন করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের এক পূর্বাভাস অনুযায়ী, চীন আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ১,০০০টি সক্রিয় পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করতে সক্ষম হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু বিজ্ঞানীদের ফেডারেশনের দেওয়া তথ্যমতে, এই মুহূর্তে রাশিয়ার কাছে ৪,৪০০টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩,৭০০টি সক্রিয় পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, যেখানে চীনের বর্তমান মজুদ দাঁড়িয়েছে ৬২০টিতে। চলমান তাইওয়ান সংকট, ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এশীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক প্রতিশ্রুতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা—এই সমস্ত জ্বলন্ত ইস্যুগুলোই সিঙ্গাপুরের তিন দিনব্যাপী শাংগ্রি-লা ডায়ালগ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু হতে যাচ্ছে।
সূত্র: আইআইএসএস

আপনার মতামত লিখুন