দিকপাল

লেবাননে ইসরাইলি হামলা ‘অসহনীয়’: কড়া হুঁশিয়ারি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬ | ১২:১০ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

লেবাননে ইসরাইলি হামলা ‘অসহনীয়’: কড়া হুঁশিয়ারি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর চলমান নৃশংস ও বিধ্বংসী সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধের জন্য অত্যন্ত জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ইসরাইলের এই নির্মম সামরিক হামলাকে সম্পূর্ণ ‘নির্বিচার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ‘অসহনীয় এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে তীব্র ক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ঐতিহ্যবাহী এলিসি প্রাসাদে সফররত ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কঠোর মন্তব্য করেন। বৈশ্বিক রাজনীতির এই দুই প্রভাবশালী নেতা লেবাননে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গভীর আলোচনা করতে এক বিশেষ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন।

প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য যে, লেবাননে শান্তি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নিয়োজিত জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিরক্ষী বাহিনীর অধীনে ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশেরই বিপুল সংখ্যক দক্ষ সেনা সদস্য বর্তমানে সেখানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় মোতায়েন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন যে, তারা আবারো লেবাননের মাটিতে এই অন্যায্য হামলা পুরোপুরি বন্ধের, সেখানে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি পুনরুদ্ধার করার, কূটনৈতিক আলোচনা নতুন করে শুরু করার এবং একটি চিরস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছেন। একই সাথে তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, লেবাননের বেসামরিক জনগণের ওপর ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এই চলমান বর্বরোচিত হামলার বিন্দুমাত্র কোনো যৌক্তিকতা বা বৈধতা নেই।

চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝে নিজেদের দুই দেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তার সরাসরি যোগসূত্র টেনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর অধীনে লেবাননে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশই অতীতে তাদের বেশ কয়েকজন বীর সেনা সদস্যকে হারিয়েছে। তিনি অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেন যে, লেবাননের সাধারণ মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা রক্ষা করতে গিয়ে নিজেদের দেশের সেনা হারানোর এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা তাদের উভয় দেশেরই রয়েছে। ম্যাক্রোঁ আরও জোর দিয়ে পুনরুল্লেখ করেন যে, ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়া শুরু থেকেই লেবাননের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের শান্তিরক্ষী দলগুলো বর্তমানে চরম প্রতিকূলতার মাঝেও অত্যন্ত চমৎকার সমন্বয়ের মাধ্যমে সেখানে নিজেদের কার্যক্রম সফলভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৭৮ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক লেবাননের সুরক্ষায় এই বিশেষ শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালের ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের পর এই বাহিনীর ক্ষমতা ও পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করা হয়। বর্তমানে লেবানন ও ইসরাইলকে ভৌগোলিকভাবে বিভক্তকারী অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘ব্লু লাইন’ বা নীল রেখা বরাবর জাতিসংঘের হাজার হাজার শান্তিরক্ষী সেনা মোতায়েন রয়েছে, যাদের মধ্যে ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়া হলো এই বাহিনীতে সেনা পাঠানো অন্যতম প্রধান দুটি দেশ। গত ১৭ এপ্রিল আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক চাপের মুখে সেখানে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল এবং গত ১৭ মে থেকে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানো হয়। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক আইন এবং এই বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সম্পূর্ণ অমান্য ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লেবাননের মাটিতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অবৈধ অভিযান ও বোমাবর্ষণ অবিরামভাবে চলছে।

লেবাননের সরকারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান ও তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি বিমান ও স্থল হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩২৪ জন নিরীহ ফিলিস্তিনি ও লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা আরও ৫৫ জন বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের স্পষ্ট প্রমাণ। লেবাননে চলমান এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে এবং অবিলম্বে সব ধরনের শত্রুতা ও রক্তপাত বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে ম্যাক্রোঁ বলেন, লেবাননে ইতোমধ্যেই ৩ হাজারেরও বেশি নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়ে সম্পূর্ণ বাস্তুচ্যুত হয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

একটি তাত্ক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ফরাসি প্রেসিডেন্ট আলোচনার টেবিল পুনরায় চালু করা এবং একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধান তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। লেবাননের পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করার জন্য বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়ার এই যৌথ কূটনৈতিক অবস্থানকে তিনি বিশ্বমঞ্চে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেন। বিদ্যমান শান্তি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলের এই অব্যাহত ও একগুঁয়ে সামরিক অভিযানের কারণে বিশ্বজুড়ে দেশটির ওপর নানামুখী চাপ ও নিন্দা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এমন এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলে সক্রিয় শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়টিই মূলত ম্যাক্রোঁ ও সুবিয়ান্তোর এই জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


লেবাননে ইসরাইলি হামলা ‘অসহনীয়’: কড়া হুঁশিয়ারি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬

featured Image

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর চলমান নৃশংস ও বিধ্বংসী সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধের জন্য অত্যন্ত জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ইসরাইলের এই নির্মম সামরিক হামলাকে সম্পূর্ণ ‘নির্বিচার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ‘অসহনীয় এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে তীব্র ক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ঐতিহ্যবাহী এলিসি প্রাসাদে সফররত ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কঠোর মন্তব্য করেন। বৈশ্বিক রাজনীতির এই দুই প্রভাবশালী নেতা লেবাননে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গভীর আলোচনা করতে এক বিশেষ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন।

প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য যে, লেবাননে শান্তি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নিয়োজিত জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিরক্ষী বাহিনীর অধীনে ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশেরই বিপুল সংখ্যক দক্ষ সেনা সদস্য বর্তমানে সেখানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় মোতায়েন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন যে, তারা আবারো লেবাননের মাটিতে এই অন্যায্য হামলা পুরোপুরি বন্ধের, সেখানে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি পুনরুদ্ধার করার, কূটনৈতিক আলোচনা নতুন করে শুরু করার এবং একটি চিরস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছেন। একই সাথে তিনি অত্যন্ত জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, লেবাননের বেসামরিক জনগণের ওপর ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এই চলমান বর্বরোচিত হামলার বিন্দুমাত্র কোনো যৌক্তিকতা বা বৈধতা নেই।

চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝে নিজেদের দুই দেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তার সরাসরি যোগসূত্র টেনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর অধীনে লেবাননে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশই অতীতে তাদের বেশ কয়েকজন বীর সেনা সদস্যকে হারিয়েছে। তিনি অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেন যে, লেবাননের সাধারণ মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা রক্ষা করতে গিয়ে নিজেদের দেশের সেনা হারানোর এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা তাদের উভয় দেশেরই রয়েছে। ম্যাক্রোঁ আরও জোর দিয়ে পুনরুল্লেখ করেন যে, ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়া শুরু থেকেই লেবাননের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের শান্তিরক্ষী দলগুলো বর্তমানে চরম প্রতিকূলতার মাঝেও অত্যন্ত চমৎকার সমন্বয়ের মাধ্যমে সেখানে নিজেদের কার্যক্রম সফলভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৭৮ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক লেবাননের সুরক্ষায় এই বিশেষ শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালের ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের পর এই বাহিনীর ক্ষমতা ও পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করা হয়। বর্তমানে লেবানন ও ইসরাইলকে ভৌগোলিকভাবে বিভক্তকারী অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘ব্লু লাইন’ বা নীল রেখা বরাবর জাতিসংঘের হাজার হাজার শান্তিরক্ষী সেনা মোতায়েন রয়েছে, যাদের মধ্যে ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়া হলো এই বাহিনীতে সেনা পাঠানো অন্যতম প্রধান দুটি দেশ। গত ১৭ এপ্রিল আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক চাপের মুখে সেখানে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল এবং গত ১৭ মে থেকে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানো হয়। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক আইন এবং এই বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সম্পূর্ণ অমান্য ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লেবাননের মাটিতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অবৈধ অভিযান ও বোমাবর্ষণ অবিরামভাবে চলছে।

লেবাননের সরকারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান ও তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি বিমান ও স্থল হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩২৪ জন নিরীহ ফিলিস্তিনি ও লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা আরও ৫৫ জন বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের স্পষ্ট প্রমাণ। লেবাননে চলমান এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে এবং অবিলম্বে সব ধরনের শত্রুতা ও রক্তপাত বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে ম্যাক্রোঁ বলেন, লেবাননে ইতোমধ্যেই ৩ হাজারেরও বেশি নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়ে সম্পূর্ণ বাস্তুচ্যুত হয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

একটি তাত্ক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ফরাসি প্রেসিডেন্ট আলোচনার টেবিল পুনরায় চালু করা এবং একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধান তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। লেবাননের পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করার জন্য বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ফ্রান্স ও ইন্দোনেশিয়ার এই যৌথ কূটনৈতিক অবস্থানকে তিনি বিশ্বমঞ্চে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেন। বিদ্যমান শান্তি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলের এই অব্যাহত ও একগুঁয়ে সামরিক অভিযানের কারণে বিশ্বজুড়ে দেশটির ওপর নানামুখী চাপ ও নিন্দা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এমন এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলে সক্রিয় শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়টিই মূলত ম্যাক্রোঁ ও সুবিয়ান্তোর এই জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল