দিকপাল

গাজার অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ ইসরাইলের


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬ | ০৮:০৮ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজার অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ ইসরাইলের

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আগ্রাসনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে এবার ভূখণ্ডের ৭০ শতাংশ এলাকার ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি ইসরাইলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত তার নিজস্ব বক্তব্য থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা অবরুদ্ধ এই অবহেলিত জনপদে চলমান মানবিক সংকটকে আরও বেশি ঘনীভূত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরাইলের গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর রেকর্ড করা এবং বৃহস্পতিবার প্রচারিত একটি ভিডিও ফুটেজে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলতে শোনা যায় যে, বর্তমান সময়ে গাজা ভূখণ্ডের অন্তত ৬০ শতাংশ এলাকা তাদের সামরিক বাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর পরপরই তিনি ঘোষণা দেন, তার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ হলো এই দখলের পরিধি খুব দ্রুত ৭০ শতাংশে উন্নীত করা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু যখন এই বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে একজন পুরো গাজা উপত্যকা একবারে নিজেদের দখলে নেওয়ার জন্য চিৎকার করে ওঠেন। সেই আহ্বানের জবাবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী কৌশলগত অবস্থান প্রকাশ করে বলেন, তারা আসলে একটি ক্রমানুসার পদ্ধতি মেনে এগোচ্ছেন। প্রথমে ৭০ শতাংশ এলাকা দখল করা হবে এবং এটি দিয়েই তাদের পরবর্তী ধাপের সূচনা ঘটবে। তার এমন বক্তব্য থেকে এটি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, পুরো গাজা উপত্যকাকে সম্পূর্ণভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দূরভীসন্ধিমূলক পরিকল্পনা তিনি মোটেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেখানে ইসরাইলি সৈন্যদের সাময়িক দখলে থাকা এলাকাগুলো নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ হলুদ রেখা চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর কাছে গোপনে কিছু মানচিত্র পাঠায়। সেই মানচিত্রগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইসরাইল ইতোমধ্যেই ওই নির্ধারিত রেখা লঙ্ঘন করে আরও প্রায় ১১ শতাংশ ফিলিস্তিনি এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারিত করেছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের এই নিজস্ব ভূখণ্ডের ৫৩ শতাংশের পরিবর্তে ৬৪ শতাংশ এলাকাই তখন ইসরাইলের বুটের তলায় চলে যায়। সামরিক বাহিনীর এই ক্রমাগত আগ্রাসনের কারণে গাজার সাধারণ ফিলিস্তিনিরা এখন তাদের নিজেদের ভূখণ্ডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় প্রবেশ করার অধিকার হারিয়েছে। এমতাবস্থায় যদি আরও নতুন এলাকা দখল করা হয়, তবে দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ভয়াবহ যুদ্ধ সহ্য করা এবং ইতোমধ্যেই চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হওয়া ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক আরও সংকীর্ণ ও ছোট একটি অঞ্চলের মধ্যে বন্দি জীবন কাটাতে বাধ্য হবেন।

কাগুজে কলমে গত বছর একটি নামমাত্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও বাস্তবে গাজা উপত্যকায় প্রায় প্রতিদিনই নির্বিচারে ইসরাইলি বোমাবর্ষণ চলছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, গত অক্টোবর থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যবর্তী সময়ে ইসরাইল অন্তত ২ হাজার ৪০০ বার যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি সরাসরি লঙ্ঘন করেছে। এমনকি গত বৃহস্পতিবারও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরাইলি বিমান হামলায় চারজন নিষ্পাপ শিশুসহ অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২০ জন।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কের কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় বেসামরিক মানুষের বেঁচে থাকার ন্যূনতম মানবিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত নাজুক ও শোচনীয়। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো গাদাগাদি করে অস্থায়ী তাঁবু, স্কুল কিংবা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের নিচে অত্যন্ত অমানবিক পরিবেশে দিন কাটাচ্ছে। পুরো উপত্যকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবের কারণে ইঁদুর ও নানা ধরনের পোকামাকড় ছড়িয়ে পড়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। আবাসিক এলাকার কাছাকাছি বা ভেতরে ঘন ঘন বিমান হামলা, তীব্র শেলিং ও অতর্কিত গুলির কারণে গাজার অধিকাংশ এলাকাই সাধারণ মানুষের জন্য এখনো অত্যন্ত বিপজ্জনক ও মৃত্যুফাঁদ হয়ে রয়েছে।

সম্প্রতি গাজার পরিস্থিতি নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ শান্তি বোর্ডের উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলে ম্লাদেনভ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন যে, উপত্যকার এই ক্রমাগত অবনতিশীল পরিস্থিতি এখন স্থায়ী রূপ নেওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক ভাষণে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরাইলকে অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে বাধ্য করার জন্য উপলব্ধ সব ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায় ব্যবহার করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি ইসরাইলের অব্যাহত বেসামরিক হত্যাকাণ্ড এবং গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দেশটির আরোপিত অন্যায্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো বিশ্বনেতাদের সামনে কঠোরভাবে তুলে ধরেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর আকস্মিক হামলার পর ইসরাইল গাজায় যে সর্বাত্মক ও নৃশংস যুদ্ধ শুরু করেছিল, তাতে এ পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৭৫ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের বড় অংশই নারী ও শিশু। যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারীরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে সতর্ক করেছেন যে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান এবং মার্কিন-ইসরাইল উত্তেজনা ও সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বোমাবর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞের গতি আরও বহুগুণ ত্বরান্বিত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


গাজার অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ ইসরাইলের

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬

featured Image

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আগ্রাসনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে এবার ভূখণ্ডের ৭০ শতাংশ এলাকার ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি ইসরাইলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত তার নিজস্ব বক্তব্য থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা অবরুদ্ধ এই অবহেলিত জনপদে চলমান মানবিক সংকটকে আরও বেশি ঘনীভূত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরাইলের গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর রেকর্ড করা এবং বৃহস্পতিবার প্রচারিত একটি ভিডিও ফুটেজে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলতে শোনা যায় যে, বর্তমান সময়ে গাজা ভূখণ্ডের অন্তত ৬০ শতাংশ এলাকা তাদের সামরিক বাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর পরপরই তিনি ঘোষণা দেন, তার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ হলো এই দখলের পরিধি খুব দ্রুত ৭০ শতাংশে উন্নীত করা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু যখন এই বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে একজন পুরো গাজা উপত্যকা একবারে নিজেদের দখলে নেওয়ার জন্য চিৎকার করে ওঠেন। সেই আহ্বানের জবাবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী কৌশলগত অবস্থান প্রকাশ করে বলেন, তারা আসলে একটি ক্রমানুসার পদ্ধতি মেনে এগোচ্ছেন। প্রথমে ৭০ শতাংশ এলাকা দখল করা হবে এবং এটি দিয়েই তাদের পরবর্তী ধাপের সূচনা ঘটবে। তার এমন বক্তব্য থেকে এটি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, পুরো গাজা উপত্যকাকে সম্পূর্ণভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দূরভীসন্ধিমূলক পরিকল্পনা তিনি মোটেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেখানে ইসরাইলি সৈন্যদের সাময়িক দখলে থাকা এলাকাগুলো নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ হলুদ রেখা চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর কাছে গোপনে কিছু মানচিত্র পাঠায়। সেই মানচিত্রগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইসরাইল ইতোমধ্যেই ওই নির্ধারিত রেখা লঙ্ঘন করে আরও প্রায় ১১ শতাংশ ফিলিস্তিনি এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারিত করেছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের এই নিজস্ব ভূখণ্ডের ৫৩ শতাংশের পরিবর্তে ৬৪ শতাংশ এলাকাই তখন ইসরাইলের বুটের তলায় চলে যায়। সামরিক বাহিনীর এই ক্রমাগত আগ্রাসনের কারণে গাজার সাধারণ ফিলিস্তিনিরা এখন তাদের নিজেদের ভূখণ্ডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় প্রবেশ করার অধিকার হারিয়েছে। এমতাবস্থায় যদি আরও নতুন এলাকা দখল করা হয়, তবে দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ভয়াবহ যুদ্ধ সহ্য করা এবং ইতোমধ্যেই চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হওয়া ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক আরও সংকীর্ণ ও ছোট একটি অঞ্চলের মধ্যে বন্দি জীবন কাটাতে বাধ্য হবেন।

কাগুজে কলমে গত বছর একটি নামমাত্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও বাস্তবে গাজা উপত্যকায় প্রায় প্রতিদিনই নির্বিচারে ইসরাইলি বোমাবর্ষণ চলছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, গত অক্টোবর থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যবর্তী সময়ে ইসরাইল অন্তত ২ হাজার ৪০০ বার যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি সরাসরি লঙ্ঘন করেছে। এমনকি গত বৃহস্পতিবারও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরাইলি বিমান হামলায় চারজন নিষ্পাপ শিশুসহ অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২০ জন।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কের কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় বেসামরিক মানুষের বেঁচে থাকার ন্যূনতম মানবিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত নাজুক ও শোচনীয়। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো গাদাগাদি করে অস্থায়ী তাঁবু, স্কুল কিংবা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের নিচে অত্যন্ত অমানবিক পরিবেশে দিন কাটাচ্ছে। পুরো উপত্যকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবের কারণে ইঁদুর ও নানা ধরনের পোকামাকড় ছড়িয়ে পড়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। আবাসিক এলাকার কাছাকাছি বা ভেতরে ঘন ঘন বিমান হামলা, তীব্র শেলিং ও অতর্কিত গুলির কারণে গাজার অধিকাংশ এলাকাই সাধারণ মানুষের জন্য এখনো অত্যন্ত বিপজ্জনক ও মৃত্যুফাঁদ হয়ে রয়েছে।

সম্প্রতি গাজার পরিস্থিতি নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ শান্তি বোর্ডের উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলে ম্লাদেনভ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন যে, উপত্যকার এই ক্রমাগত অবনতিশীল পরিস্থিতি এখন স্থায়ী রূপ নেওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক ভাষণে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরাইলকে অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে বাধ্য করার জন্য উপলব্ধ সব ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায় ব্যবহার করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি ইসরাইলের অব্যাহত বেসামরিক হত্যাকাণ্ড এবং গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দেশটির আরোপিত অন্যায্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো বিশ্বনেতাদের সামনে কঠোরভাবে তুলে ধরেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর আকস্মিক হামলার পর ইসরাইল গাজায় যে সর্বাত্মক ও নৃশংস যুদ্ধ শুরু করেছিল, তাতে এ পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৭৫ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের বড় অংশই নারী ও শিশু। যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারীরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে সতর্ক করেছেন যে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান এবং মার্কিন-ইসরাইল উত্তেজনা ও সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বোমাবর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞের গতি আরও বহুগুণ ত্বরান্বিত হয়েছে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল