ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রধান সমরাস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কমপক্ষে তিন বছর সময় লেগে যাবে। এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানের কারণে ভবিষ্যতে পূর্ব এশিয়ায় বিশেষ করে চীনের সাথে কোনো ধরনের সম্ভাব্য যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু হলে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা ও রণপ্রস্তুতি মারাত্মকভাবে সীমিত বা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
তীব্র সংকটের মুখে পড়া এই সমরাস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা সাধারণত প্রতিপক্ষের ভূখণ্ডের একেবারে গভীরে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত ও দূরপাল্লার আঘাত হানার জন্য বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া এই তালিকায় রয়েছে প্যাট্রিয়ট এবং থাড ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যা শত্রুপক্ষের দিক থেকে ধেয়ে আসা যেকোনো ধরনের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোনকে মাঝআকাশেই নিখুঁতভাবে ধ্বংস করে দিয়ে নিজেদের ঘাঁটি ও বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা প্রদান করে থাকে। ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহারের ফলেই আমেরিকার অস্ত্রাগারে এখন টান পড়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের কাছে মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ এই অস্ত্রসংকট নিয়ে একটি বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে, বর্তমান ইরান যুদ্ধের যেকোনো ধরনের জরুরি ও সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণ গোলাবারুদ বা অস্ত্র রয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যেভাবে অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে, তা পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার বৈশ্বিক সামরিক আধিপত্যের ক্ষেত্রে একটি সাময়িক দুর্বলতার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে চীনের সম্ভাব্য কোনো আগ্রাসন বা সংঘাতের মুখে মার্কিন বাহিনীর তাত্ক্ষণিক প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা হলেও শিথিল হতে পারে এবং এই শূন্য হওয়া মজুত পুনরায় আগের মতো শক্তিশালী পর্যায়ে গড়ে তুলতে যে দীর্ঘ সময় লাগবে, সেটিই এখন ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কূটনৈতিক ও সামরিক মহলে এই উদ্বেগের বড় কারণ হলো তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক তত্পরতা। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে প্রয়োজনে চূড়ান্ত শক্তি বা সামরিক বাহিনী প্রয়োগ করে হলেও স্বশাসিত দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করার মতো সক্ষমতা অর্জন করা চীনের একটি অন্যতম প্রধান ও ঘোষিত লক্ষ্য। কিন্তু বেইজিংয়ের এই লক্ষ্যের বিপরীতে চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই মাসেই ওয়াশিংটনকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, হোয়াইট হাউস যদি এই স্বশাসিত দ্বীপটির সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক সঠিকভাবে এবং সতর্কতার সাথে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ বা এমনকি সরাসরি প্রকাশ্য সংঘাতও শুরু হয়ে যেতে পারে।
প্রকাশিত সামরিক প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধরনের আধুনিক ও অত্যন্ত সংবেদনশীল অস্ত্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়, কারণ এই জটিল প্রযুক্তিগত সমরাস্ত্র ব্যবস্থাগুলো নিখুঁতভাবে তৈরি করতে অনেক দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং প্রচুর সময়ের প্রয়োজন পড়ে। ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের পরেও মার্কিন প্রতিরক্ষা কারখানাগুলোর পক্ষে এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং অস্ত্রের মজুত আগের শক্তিশালী ও নিরাপদ পর্যায়ে ফিরে আসতে নিশ্চিতভাবেই আরও কয়েক বছর সময় লেগে যাবে, যা আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে ওয়াশিংটনকে একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: পিবিএস নিউজ (PBS News)

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রধান সমরাস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কমপক্ষে তিন বছর সময় লেগে যাবে। এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানের কারণে ভবিষ্যতে পূর্ব এশিয়ায় বিশেষ করে চীনের সাথে কোনো ধরনের সম্ভাব্য যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু হলে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা ও রণপ্রস্তুতি মারাত্মকভাবে সীমিত বা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
তীব্র সংকটের মুখে পড়া এই সমরাস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা সাধারণত প্রতিপক্ষের ভূখণ্ডের একেবারে গভীরে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত ও দূরপাল্লার আঘাত হানার জন্য বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া এই তালিকায় রয়েছে প্যাট্রিয়ট এবং থাড ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যা শত্রুপক্ষের দিক থেকে ধেয়ে আসা যেকোনো ধরনের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোনকে মাঝআকাশেই নিখুঁতভাবে ধ্বংস করে দিয়ে নিজেদের ঘাঁটি ও বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা প্রদান করে থাকে। ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহারের ফলেই আমেরিকার অস্ত্রাগারে এখন টান পড়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের কাছে মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ এই অস্ত্রসংকট নিয়ে একটি বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে, বর্তমান ইরান যুদ্ধের যেকোনো ধরনের জরুরি ও সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণ গোলাবারুদ বা অস্ত্র রয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যেভাবে অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে, তা পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার বৈশ্বিক সামরিক আধিপত্যের ক্ষেত্রে একটি সাময়িক দুর্বলতার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে চীনের সম্ভাব্য কোনো আগ্রাসন বা সংঘাতের মুখে মার্কিন বাহিনীর তাত্ক্ষণিক প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা হলেও শিথিল হতে পারে এবং এই শূন্য হওয়া মজুত পুনরায় আগের মতো শক্তিশালী পর্যায়ে গড়ে তুলতে যে দীর্ঘ সময় লাগবে, সেটিই এখন ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কূটনৈতিক ও সামরিক মহলে এই উদ্বেগের বড় কারণ হলো তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক তত্পরতা। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে প্রয়োজনে চূড়ান্ত শক্তি বা সামরিক বাহিনী প্রয়োগ করে হলেও স্বশাসিত দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করার মতো সক্ষমতা অর্জন করা চীনের একটি অন্যতম প্রধান ও ঘোষিত লক্ষ্য। কিন্তু বেইজিংয়ের এই লক্ষ্যের বিপরীতে চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই মাসেই ওয়াশিংটনকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, হোয়াইট হাউস যদি এই স্বশাসিত দ্বীপটির সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক সঠিকভাবে এবং সতর্কতার সাথে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ বা এমনকি সরাসরি প্রকাশ্য সংঘাতও শুরু হয়ে যেতে পারে।
প্রকাশিত সামরিক প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধরনের আধুনিক ও অত্যন্ত সংবেদনশীল অস্ত্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়, কারণ এই জটিল প্রযুক্তিগত সমরাস্ত্র ব্যবস্থাগুলো নিখুঁতভাবে তৈরি করতে অনেক দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং প্রচুর সময়ের প্রয়োজন পড়ে। ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের পরেও মার্কিন প্রতিরক্ষা কারখানাগুলোর পক্ষে এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং অস্ত্রের মজুত আগের শক্তিশালী ও নিরাপদ পর্যায়ে ফিরে আসতে নিশ্চিতভাবেই আরও কয়েক বছর সময় লেগে যাবে, যা আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে ওয়াশিংটনকে একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: পিবিএস নিউজ (PBS News)

আপনার মতামত লিখুন