যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধনী ও প্রভাবশালী দেশগুলোর পক্ষ থেকে শত কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত বিশেষ শান্তি বোর্ডের আনুষ্ঠানিক তহবিলে এখন পর্যন্ত কোনো বাস্তব নগদ অর্থ জমা পড়েনি। গত বুধবার আন্তর্জাতিক একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্যটি প্রকাশ্যে এনেছে বৈশ্বিক বার্তা সংস্থা এএফপি।
দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলা ভয়াবহ ও বিধ্বংসী যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে গত অক্টোবর মাসে ইসরাইল এবং হামাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা ও সমর্থনে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল। ট্রাম্পের ঘোষিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনারই একটি অংশ ছিল এই চুক্তি, আর এর ধারাবাহিকতাতেই গাজার সার্বিক অবকাঠামো পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার জন্য ট্রাম্প এই বিশেষ পিস বোর্ড বা শান্তি বোর্ডটি গঠন করেন। তবে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের কাছে ট্রাম্প যেভাবে একতরফা আমন্ত্রণ পাঠিয়েছিলেন, তা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বেশ বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেয়। বোর্ডটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হওয়ার পর বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও, দাতা দেশগুলোর কাছ থেকে এখনো কোনো বাস্তব অর্থ এই তহবিলে এসে পৌঁছায়নি।
অবশ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই তহবিলটি মূলত গাজা উপত্যকার স্থায়ী পুনর্গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। যেহেতু মাঠপর্যায়ে এখনো সেই আনুষ্ঠানিক পুনর্গঠন ও টেকসই উন্নয়নের কাজগুলো শুরু করা সম্ভব হয়নি, তাই দাতা দেশগুলোও তাদের প্রতিশ্রুত অর্থ এখনো চূড়ান্তভাবে ছাড় বা জমা করেনি।
কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও গাজার বাস্তব পরিস্থিতি এখনো বেশ থমথমে। চুক্তি হওয়ার পরেও উপত্যকাটিতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অভিযান ও হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গাজার স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় নতুন করে আরও অন্তত ৯১০ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু তাই নয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকার অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি এলাকা এখনো ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সরাসরি দখল ও কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা সেখানে যেকোনো ধরনের বেসামরিক পুনর্গঠন কাজের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে তহবিলের অর্থ জমা হওয়া নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্যও সামনে এসেছে। গত বুধবার আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমস উক্ত শান্তি বোর্ডের একজন মুখপাত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, বোর্ডটি সরাসরি বিশ্বখ্যাত মার্কিন ব্যাংক জেপিমরগ্যানের একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে কিছু অনুদানের অর্থ গ্রহণ করতে শুরু করেছে।
তবে এই শান্তি বোর্ডের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যেই বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ইউরোপের প্রধান ও প্রভাবশালী দেশগুলো ট্রাম্পের গঠিত এই বোর্ডকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করেছে। বিশেষ করে ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য এই বোর্ডে যোগ দিতে বা কোনো ধরনের অংশীদার হতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, গাজা পুনর্গঠনের এই ঐতিহাসিক উদ্যোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশ কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রত্যেকে এই তহবিলে অন্তত এক বিলিয়ন ডলার করে অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই বোর্ডের অভ্যন্তরীণ নিয়ম ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো দেশকে যদি এই বোর্ডের স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করতে হয়, তবে তাদের আবশ্যিকভাবে তহবিলে ন্যূনতম এক বিলিয়ন ডলারের আর্থিক অবদান রাখতে হবে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইউরোপীয় মিত্রদের বর্জনের কারণে এই বিশাল তহবিলের ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
মূল তথ্যসূত্র: ফ্রান্স২৪ (France 24)

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধনী ও প্রভাবশালী দেশগুলোর পক্ষ থেকে শত কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত বিশেষ শান্তি বোর্ডের আনুষ্ঠানিক তহবিলে এখন পর্যন্ত কোনো বাস্তব নগদ অর্থ জমা পড়েনি। গত বুধবার আন্তর্জাতিক একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্যটি প্রকাশ্যে এনেছে বৈশ্বিক বার্তা সংস্থা এএফপি।
দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলা ভয়াবহ ও বিধ্বংসী যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে গত অক্টোবর মাসে ইসরাইল এবং হামাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা ও সমর্থনে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল। ট্রাম্পের ঘোষিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনারই একটি অংশ ছিল এই চুক্তি, আর এর ধারাবাহিকতাতেই গাজার সার্বিক অবকাঠামো পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার জন্য ট্রাম্প এই বিশেষ পিস বোর্ড বা শান্তি বোর্ডটি গঠন করেন। তবে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের কাছে ট্রাম্প যেভাবে একতরফা আমন্ত্রণ পাঠিয়েছিলেন, তা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বেশ বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেয়। বোর্ডটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হওয়ার পর বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও, দাতা দেশগুলোর কাছ থেকে এখনো কোনো বাস্তব অর্থ এই তহবিলে এসে পৌঁছায়নি।
অবশ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই তহবিলটি মূলত গাজা উপত্যকার স্থায়ী পুনর্গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। যেহেতু মাঠপর্যায়ে এখনো সেই আনুষ্ঠানিক পুনর্গঠন ও টেকসই উন্নয়নের কাজগুলো শুরু করা সম্ভব হয়নি, তাই দাতা দেশগুলোও তাদের প্রতিশ্রুত অর্থ এখনো চূড়ান্তভাবে ছাড় বা জমা করেনি।
কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও গাজার বাস্তব পরিস্থিতি এখনো বেশ থমথমে। চুক্তি হওয়ার পরেও উপত্যকাটিতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অভিযান ও হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গাজার স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় নতুন করে আরও অন্তত ৯১০ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু তাই নয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকার অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি এলাকা এখনো ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সরাসরি দখল ও কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা সেখানে যেকোনো ধরনের বেসামরিক পুনর্গঠন কাজের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে তহবিলের অর্থ জমা হওয়া নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্যও সামনে এসেছে। গত বুধবার আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমস উক্ত শান্তি বোর্ডের একজন মুখপাত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, বোর্ডটি সরাসরি বিশ্বখ্যাত মার্কিন ব্যাংক জেপিমরগ্যানের একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে কিছু অনুদানের অর্থ গ্রহণ করতে শুরু করেছে।
তবে এই শান্তি বোর্ডের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যেই বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ইউরোপের প্রধান ও প্রভাবশালী দেশগুলো ট্রাম্পের গঠিত এই বোর্ডকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করেছে। বিশেষ করে ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য এই বোর্ডে যোগ দিতে বা কোনো ধরনের অংশীদার হতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, গাজা পুনর্গঠনের এই ঐতিহাসিক উদ্যোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশ কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রত্যেকে এই তহবিলে অন্তত এক বিলিয়ন ডলার করে অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই বোর্ডের অভ্যন্তরীণ নিয়ম ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো দেশকে যদি এই বোর্ডের স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করতে হয়, তবে তাদের আবশ্যিকভাবে তহবিলে ন্যূনতম এক বিলিয়ন ডলারের আর্থিক অবদান রাখতে হবে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইউরোপীয় মিত্রদের বর্জনের কারণে এই বিশাল তহবিলের ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
মূল তথ্যসূত্র: ফ্রান্স২৪ (France 24)

আপনার মতামত লিখুন