বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ সাংগঠনিক কাঠামোয় এক অবিশ্বাস্য ও দ্রুততম রদবদল ঘটে গেছে। রাজপথের দীর্ঘদিনের লড়াকু নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এখন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদ অর্জনের পর, মাত্র পাঁচ দিন আগে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া এই প্রবীণ নেতাই এখন সামলাচ্ছেন দলটির দ্বিতীয় শীর্ষ পদ।
এই ঐতিহাসিক রদবদলের নেপথ্যে ছিল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ। ২০ আগস্ট সকালে ২৫৫ ভোট পেয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ফখরুল। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী দলীয় পদে থাকার সুযোগ না থাকায় তিনি বিকেলেই পদত্যাগপত্র জমা দেন। ঠিক সেদিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিনিয়র নেতাদের জরুরি বৈঠকে গঠনতন্ত্রের ৭(খ)৬ ধারা অনুযায়ী রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত করা হয়।
কুড়িগ্রামের সন্তান রিজভীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল বামপন্থি ছাত্র সংগঠন থেকে। পরবর্তীতে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি (রাকসু) এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে নিজের রাজপথের নেতৃত্ব শক্ত করেন। ভূগোল, ইতিহাস ও আইনে উচ্চতর ডিগ্রিধারী এই নেতা ২০১৬ সাল থেকে টানা এক দশক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি গত ২০২৬ সালের নির্বাচনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিবের গুরুদায়িত্বও তিনিই সামলেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুততম সময়ে রিজভীকে এই পদে বসানোর সিদ্ধান্তটি একটি সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে পদে তাঁর ধারাবাহিকতা যেমন ছিল, তেমনই সরকার ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পূর্ণ আস্থাও তিনি অর্জন করেছেন। মূলত ১৫ আগস্ট তাঁকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ফখরুলের বিদায়-পরবর্তী রূপান্তর-পরিকল্পনা আগেই সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। তাছাড়া দীর্ঘদিন দলের মুখপাত্র হিসেবে সংবাদ সম্মেলন পরিচালনার কারণে মির্জা ফখরুলের পর সংবাদ মাধ্যম ও জনসাধারণের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখা সহজ হবে।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মহাসচিব হলেন দলীয় প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক মূল চাবিকাঠি। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকায় এখন দল ও সরকারের সমন্বয়ে এই পদের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। যদিও রিজভীকে আপাতত ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী কাউন্সিলে স্থায়ী হতে পারে।
রাজশাহীর ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অবশেষে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব—রুহুল কবির রিজভীর এই পদোন্নতি বিএনপির পরিকল্পিত নেতৃত্ব-হস্তান্তরের এক অনন্য নজির। সিনিয়র নেতাদের সাথে সমন্বয় রেখে সরকারে থাকা অবস্থায় দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করাই এখন তাঁর প্রধান পরীক্ষা। মির্জা ফখরুলের বিদায়ে বিএনপির এক যুগের অধ্যায় শেষ হলো, আর রিজভীর হাতে শুরু হলো নতুন দিগন্ত।

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ সাংগঠনিক কাঠামোয় এক অবিশ্বাস্য ও দ্রুততম রদবদল ঘটে গেছে। রাজপথের দীর্ঘদিনের লড়াকু নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এখন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদ অর্জনের পর, মাত্র পাঁচ দিন আগে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া এই প্রবীণ নেতাই এখন সামলাচ্ছেন দলটির দ্বিতীয় শীর্ষ পদ।
এই ঐতিহাসিক রদবদলের নেপথ্যে ছিল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ। ২০ আগস্ট সকালে ২৫৫ ভোট পেয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ফখরুল। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী দলীয় পদে থাকার সুযোগ না থাকায় তিনি বিকেলেই পদত্যাগপত্র জমা দেন। ঠিক সেদিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিনিয়র নেতাদের জরুরি বৈঠকে গঠনতন্ত্রের ৭(খ)৬ ধারা অনুযায়ী রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত করা হয়।
কুড়িগ্রামের সন্তান রিজভীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল বামপন্থি ছাত্র সংগঠন থেকে। পরবর্তীতে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি (রাকসু) এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে নিজের রাজপথের নেতৃত্ব শক্ত করেন। ভূগোল, ইতিহাস ও আইনে উচ্চতর ডিগ্রিধারী এই নেতা ২০১৬ সাল থেকে টানা এক দশক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি গত ২০২৬ সালের নির্বাচনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিবের গুরুদায়িত্বও তিনিই সামলেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুততম সময়ে রিজভীকে এই পদে বসানোর সিদ্ধান্তটি একটি সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে পদে তাঁর ধারাবাহিকতা যেমন ছিল, তেমনই সরকার ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পূর্ণ আস্থাও তিনি অর্জন করেছেন। মূলত ১৫ আগস্ট তাঁকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ফখরুলের বিদায়-পরবর্তী রূপান্তর-পরিকল্পনা আগেই সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। তাছাড়া দীর্ঘদিন দলের মুখপাত্র হিসেবে সংবাদ সম্মেলন পরিচালনার কারণে মির্জা ফখরুলের পর সংবাদ মাধ্যম ও জনসাধারণের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখা সহজ হবে।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মহাসচিব হলেন দলীয় প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক মূল চাবিকাঠি। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকায় এখন দল ও সরকারের সমন্বয়ে এই পদের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। যদিও রিজভীকে আপাতত ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী কাউন্সিলে স্থায়ী হতে পারে।
রাজশাহীর ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অবশেষে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব—রুহুল কবির রিজভীর এই পদোন্নতি বিএনপির পরিকল্পিত নেতৃত্ব-হস্তান্তরের এক অনন্য নজির। সিনিয়র নেতাদের সাথে সমন্বয় রেখে সরকারে থাকা অবস্থায় দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করাই এখন তাঁর প্রধান পরীক্ষা। মির্জা ফখরুলের বিদায়ে বিএনপির এক যুগের অধ্যায় শেষ হলো, আর রিজভীর হাতে শুরু হলো নতুন দিগন্ত।

আপনার মতামত লিখুন