অতিরিক্ত মাত্রার ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত মাদক কোকেন সেবনের পর নিজ শিশুসন্তানকে নিয়ে লন্ডনের রাস্তায় প্রায় আধাঘণ্টা অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজবধূ মেহরা আল নাহিয়ান (৩২)। এ সময় তাঁর শিশুসন্তানটি অভিভাবকহীন অবস্থায় ব্যস্ত রাস্তায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরছিল।
গত ১৩ জুন গভীর রাতে পশ্চিম লন্ডনের একটি রাস্তায় ঘটা এই ঘটনায় মামলা গড়ায় লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে। মঙ্গলবার মামলায় সন্তানের প্রতি গুরুতর অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন এই ইউএই রাজবধূ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ ও ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ১৩ জুন রাত পৌনে দুইটার দিকে পুলিশ পৌঁছানোর আগপর্যন্ত পথচারীরা শিশুটিকে দ্রুতগতির যানবাহনের হাত থেকে রক্ষা করেন এবং তাঁর দেখাশোনা করেন। প্রায় ৩০ মিনিট অচেতন থাকার পর জ্ঞান ফিরলে আশপাশের মানুষের উদ্বেগের জবাবে উল্টো বিরক্তি প্রকাশ করেন মেহরা।
ঘটনার পর পুলিশ মেহরাকে তল্লাশি করে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পেলেও কোনো অবৈধ মাদক উদ্ধার করতে পারেনি। তবে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর তাঁকে মাদকাসক্তির চিকিৎসার জন্য দ্রুত এক নিরাময়কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
আদালতে শুনানিকালে মেহরার আইনজীবী স্টিফেন ভুলো কেসি দাবি করেন, ঘটনার দিন সরাসরি কোকেন সেবন না করলেও আগের কয়েক দিনে মাত্রাতিরিক্ত মাদক সেবনের প্রভাবে তিনি চরম ক্লান্ত ও অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। আইনজীবী আরও জানান, মেহরা তাঁর ভুলের জন্য মারাত্মক অনুতপ্ত এবং মাদকাসক্তি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বদ্ধপরিকর।
মামলার রায় ঘোষণাকালে বিচারক জাস্টিস জনসন কেসি মন্তব্য করেন, সেদিন সচেতন পথচারীরা এগিয়ে না এলে শিশুটির অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারত। যানবাহনের ধাক্কা, হারিয়ে যাওয়া কিংবা কোনো অপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে ক্ষতির মুখোমুখি হওয়ার চরম ঝুঁকিতে ছিল শিশুটি।
সব দিক বিবেচনা করে আদালত ৩২ বছর বয়সী মেহরা আল নাহিয়ানকে দুই বছরের 'কমিউনিটি অর্ডার'-এর আওতায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁকে পুনর্বাসন কার্যক্রমে বাধ্যতামূলক অংশ নেওয়ার নির্দেশসহ ৬ হাজার ১১৪ পাউন্ড জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আদালতে উপস্থাপন করা নথিতে দেখা যায়—মেহরা বিবাহের সূত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবশালী রাজপরিবারের সদস্য এবং তিনি যুক্তরাজ্য সরকার থেকে প্রতি মাসে ৮ হাজার পাউন্ড ভাতা পেয়ে থাকেন।
সূত্র: দ্য টাইমস / দ্য টেলিগ্রাফ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
অতিরিক্ত মাত্রার ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত মাদক কোকেন সেবনের পর নিজ শিশুসন্তানকে নিয়ে লন্ডনের রাস্তায় প্রায় আধাঘণ্টা অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজবধূ মেহরা আল নাহিয়ান (৩২)। এ সময় তাঁর শিশুসন্তানটি অভিভাবকহীন অবস্থায় ব্যস্ত রাস্তায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরছিল।
গত ১৩ জুন গভীর রাতে পশ্চিম লন্ডনের একটি রাস্তায় ঘটা এই ঘটনায় মামলা গড়ায় লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে। মঙ্গলবার মামলায় সন্তানের প্রতি গুরুতর অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন এই ইউএই রাজবধূ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ ও ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ১৩ জুন রাত পৌনে দুইটার দিকে পুলিশ পৌঁছানোর আগপর্যন্ত পথচারীরা শিশুটিকে দ্রুতগতির যানবাহনের হাত থেকে রক্ষা করেন এবং তাঁর দেখাশোনা করেন। প্রায় ৩০ মিনিট অচেতন থাকার পর জ্ঞান ফিরলে আশপাশের মানুষের উদ্বেগের জবাবে উল্টো বিরক্তি প্রকাশ করেন মেহরা।
ঘটনার পর পুলিশ মেহরাকে তল্লাশি করে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পেলেও কোনো অবৈধ মাদক উদ্ধার করতে পারেনি। তবে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর তাঁকে মাদকাসক্তির চিকিৎসার জন্য দ্রুত এক নিরাময়কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
আদালতে শুনানিকালে মেহরার আইনজীবী স্টিফেন ভুলো কেসি দাবি করেন, ঘটনার দিন সরাসরি কোকেন সেবন না করলেও আগের কয়েক দিনে মাত্রাতিরিক্ত মাদক সেবনের প্রভাবে তিনি চরম ক্লান্ত ও অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। আইনজীবী আরও জানান, মেহরা তাঁর ভুলের জন্য মারাত্মক অনুতপ্ত এবং মাদকাসক্তি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বদ্ধপরিকর।
মামলার রায় ঘোষণাকালে বিচারক জাস্টিস জনসন কেসি মন্তব্য করেন, সেদিন সচেতন পথচারীরা এগিয়ে না এলে শিশুটির অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারত। যানবাহনের ধাক্কা, হারিয়ে যাওয়া কিংবা কোনো অপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে ক্ষতির মুখোমুখি হওয়ার চরম ঝুঁকিতে ছিল শিশুটি।
সব দিক বিবেচনা করে আদালত ৩২ বছর বয়সী মেহরা আল নাহিয়ানকে দুই বছরের 'কমিউনিটি অর্ডার'-এর আওতায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁকে পুনর্বাসন কার্যক্রমে বাধ্যতামূলক অংশ নেওয়ার নির্দেশসহ ৬ হাজার ১১৪ পাউন্ড জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আদালতে উপস্থাপন করা নথিতে দেখা যায়—মেহরা বিবাহের সূত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবশালী রাজপরিবারের সদস্য এবং তিনি যুক্তরাজ্য সরকার থেকে প্রতি মাসে ৮ হাজার পাউন্ড ভাতা পেয়ে থাকেন।
সূত্র: দ্য টাইমস / দ্য টেলিগ্রাফ

আপনার মতামত লিখুন