দিকপাল

দীর্ঘক্ষণ হিল ব্যবহারে পায়ে ব্যথা ও অস্বস্তি? ক্লান্তি মেটাতে সহজ ৫ ঘরোয়া টিপস


প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:২১ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘক্ষণ হিল ব্যবহারে পায়ে ব্যথা ও অস্বস্তি? ক্লান্তি মেটাতে সহজ ৫ ঘরোয়া টিপস

শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ কিংবা আধুনিক পাশ্চাত্য পোশাক—যেকোনো সাজপোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায় হিল জুতা। তবে দীর্ঘ সময় হিল পরে চলাফেরা বা হাঁটাহাঁটি করা পায়ের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ উঁচু হিল ব্যবহারের ফলে পায়ের পাতার ‘প্লান্টার ফ্যাসিয়া’ টিস্যু ও গোড়ালিতে অতিরিক্ত চাপের বৈষম্য তৈরি হয়, যার ফলে বাড়ি ফেরার পর শুরু হয় তীব্র ব্যথা ও পেশির অস্বস্তি। এই যন্ত্রণা কমাতে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ঘরেই নেওয়া যেতে পারে কিছু কার্যকর ও সহজ পদক্ষেপ।

১. লবণ-পানিতে পা ভিজিয়ে রাখা:

সারাদিন হিল পরা শেষে বাড়ি ফিরে একটি পাত্রে আরামদায়ক ঈষদুষ্ণ পানি নিয়ে তাতে সামান্য লবণ মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখা যেতে পারে। এতে পেশির ক্লান্তি দূর হয়। পানিতে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েলও মেশানো যায়। তবে পানি যেন অতিরিক্ত গরম না হয় এবং পায়ে ক্ষত থাকলে বিষয়টি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

২. বরফের সেঁক বা আইস থেরাপি:

গোড়ালিতে অতিরিক্ত ব্যথা বা ফোলাভাব দেখা দিলে বরফের সেঁক দারুণ কার্যকর। একটি পাতলা তোয়ালে বা কাপড়ে বরফ মুড়ে ব্যথার স্থানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট চেপে রাখলে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক হয় এবং দ্রুত ফোলাভাব কমে। সরাসরি ত্বকে কখনো বরফ লাগানো যাবে না।

৩. পা উঁচু স্থানে তুলে বিশ্রাম নেওয়া:

হিল পরে কাজ শেষে পা বিশ্রাম দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সোফা বা চেয়ারে বসে পা অন্য একটি উঁচু চেয়ারে রাখা কিংবা শোয়ার সময় পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে সামান্য উঁচুতে রাখলে পায়ে জমে থাকা ফ্লুইড বা ফোলাভাব কমে আসে।

৪. হালকা তেল দিয়ে আলতো মালিশ:

পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে সামান্য নারকেল বা সরিষার তেল দিয়ে আলতো হাতে মালিশ করলে ক্লান্ত পেশি শিথিল হয়। তবে তীব্র ব্যথা, স্থানটি লাল বা গরম হয়ে থাকলে কিংবা পা অতিরিক্ত ফুলে গেলে কোনো অবস্থাতেই মালিশ করা উচিত নয়।

৫. সহজ স্ট্রেচিং ব্যায়াম:

হিল ব্যবহারের কারণে পায়ের পাতা ও কাফ মাসলে টান ধরে। মেঝেতে বসে পায়ের আঙুলগুলো নিজের শরীরের দিকে টেনে ধরে রাখা বা দেওয়ালের ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে কাফ মাসলের স্ট্রেচিং করলে দ্রুত আরাম মেলে।

প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

ভবিষ্যতে এ ধরনের যন্ত্রণা এড়াতে নিয়মিত খুব উঁচু বা সরু হিলের বদলে কম উঁচু ও আরামদায়ক সোলের জুতা নির্বাচন করা উচিত। প্রয়োজনে দীর্ঘ পথ হাঁটার জন্য ব্যাগে একটি বিকল্প ফ্ল্যাট জুতা রাখা যেতে পারে। তবে ঘরোয়া উপায়ের পরও ব্যথা না কমলে বা হাঁটতে সমস্যা হলে দ্রুত অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


দীর্ঘক্ষণ হিল ব্যবহারে পায়ে ব্যথা ও অস্বস্তি? ক্লান্তি মেটাতে সহজ ৫ ঘরোয়া টিপস

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ কিংবা আধুনিক পাশ্চাত্য পোশাক—যেকোনো সাজপোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায় হিল জুতা। তবে দীর্ঘ সময় হিল পরে চলাফেরা বা হাঁটাহাঁটি করা পায়ের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ উঁচু হিল ব্যবহারের ফলে পায়ের পাতার ‘প্লান্টার ফ্যাসিয়া’ টিস্যু ও গোড়ালিতে অতিরিক্ত চাপের বৈষম্য তৈরি হয়, যার ফলে বাড়ি ফেরার পর শুরু হয় তীব্র ব্যথা ও পেশির অস্বস্তি। এই যন্ত্রণা কমাতে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ঘরেই নেওয়া যেতে পারে কিছু কার্যকর ও সহজ পদক্ষেপ।

১. লবণ-পানিতে পা ভিজিয়ে রাখা:

সারাদিন হিল পরা শেষে বাড়ি ফিরে একটি পাত্রে আরামদায়ক ঈষদুষ্ণ পানি নিয়ে তাতে সামান্য লবণ মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখা যেতে পারে। এতে পেশির ক্লান্তি দূর হয়। পানিতে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েলও মেশানো যায়। তবে পানি যেন অতিরিক্ত গরম না হয় এবং পায়ে ক্ষত থাকলে বিষয়টি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

২. বরফের সেঁক বা আইস থেরাপি:

গোড়ালিতে অতিরিক্ত ব্যথা বা ফোলাভাব দেখা দিলে বরফের সেঁক দারুণ কার্যকর। একটি পাতলা তোয়ালে বা কাপড়ে বরফ মুড়ে ব্যথার স্থানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট চেপে রাখলে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক হয় এবং দ্রুত ফোলাভাব কমে। সরাসরি ত্বকে কখনো বরফ লাগানো যাবে না।

৩. পা উঁচু স্থানে তুলে বিশ্রাম নেওয়া:

হিল পরে কাজ শেষে পা বিশ্রাম দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সোফা বা চেয়ারে বসে পা অন্য একটি উঁচু চেয়ারে রাখা কিংবা শোয়ার সময় পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে সামান্য উঁচুতে রাখলে পায়ে জমে থাকা ফ্লুইড বা ফোলাভাব কমে আসে।

৪. হালকা তেল দিয়ে আলতো মালিশ:

পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে সামান্য নারকেল বা সরিষার তেল দিয়ে আলতো হাতে মালিশ করলে ক্লান্ত পেশি শিথিল হয়। তবে তীব্র ব্যথা, স্থানটি লাল বা গরম হয়ে থাকলে কিংবা পা অতিরিক্ত ফুলে গেলে কোনো অবস্থাতেই মালিশ করা উচিত নয়।

৫. সহজ স্ট্রেচিং ব্যায়াম:

হিল ব্যবহারের কারণে পায়ের পাতা ও কাফ মাসলে টান ধরে। মেঝেতে বসে পায়ের আঙুলগুলো নিজের শরীরের দিকে টেনে ধরে রাখা বা দেওয়ালের ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে কাফ মাসলের স্ট্রেচিং করলে দ্রুত আরাম মেলে।

প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

ভবিষ্যতে এ ধরনের যন্ত্রণা এড়াতে নিয়মিত খুব উঁচু বা সরু হিলের বদলে কম উঁচু ও আরামদায়ক সোলের জুতা নির্বাচন করা উচিত। প্রয়োজনে দীর্ঘ পথ হাঁটার জন্য ব্যাগে একটি বিকল্প ফ্ল্যাট জুতা রাখা যেতে পারে। তবে ঘরোয়া উপায়ের পরও ব্যথা না কমলে বা হাঁটতে সমস্যা হলে দ্রুত অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল