যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর হাতে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংসের পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে। প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানে অবস্থিত কৌশলগত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে জর্ডানের ওই মার্কিন ঘাঁটিতে এটি তেহরানের দ্বিতীয় সরাসরি হামলা।
হামলাটি চালানো হয়েছে জর্ডানের ঐতিহ্যবাহী ‘আল-আজরাক’ বিমানঘাঁটিতে (যার প্রাতিষ্ঠানিক নাম ‘মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি’)। রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্রটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা যৌথভাবে ব্যবহার করে থাকে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'ইরনা' এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের ‘শাস্তিমূলক অভিযানে’ ঘাঁটির মোট মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, যুদ্ধবিমান মোতায়েন এলাকা এবং এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্গারগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জর্ডান সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা ইরান থেকে আসা অন্তত ১৮টি ধাবমান ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই সফলভাবে ভূপাতিত করতে পেরেছে।
হামলার ঠিক পূর্বমুহূর্তে আইআরজিসি এক জরুরি সতর্কবার্তায় কুয়েত ও বাহরাইন উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ও তাদের মিত্র দেশের তেলবাহী ট্যাংকারের নাবিকদের জাহাজ ছেড়ে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপরই ওই অঞ্চলে মার্কিন সংশ্লিষ্ট যেকোনো সামরিক বা বাণিজ্যিক জলযানে সরাসরি আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। মূলত চলতি সপ্তাহে ইরানের উন্নত ‘কাসেম বাসির’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার পর জবাবে ওয়াশিংটন মঙ্গলবারে পাঁচটি ইরানি ট্যাংকার ধ্বংস করেছিল। আজকের এই হামলাকে সেই ধারাবাহিকতারই পাল্টা জবাব হিসেবে দেখছে বিশ্ব।
দীর্ঘ ছয় মাস ধরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের তীব্রতায় বৈশ্বিক জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে তেহরান। বিপরীতে ওয়াশিংটন কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ ও বন্দর অবরোধ বহাল রেখেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং এই নিত্যনতুন সামরিক উস্কানির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা এখন চরম হুমকির মুখে বলে সতর্ক করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর হাতে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংসের পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে। প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানে অবস্থিত কৌশলগত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে জর্ডানের ওই মার্কিন ঘাঁটিতে এটি তেহরানের দ্বিতীয় সরাসরি হামলা।
হামলাটি চালানো হয়েছে জর্ডানের ঐতিহ্যবাহী ‘আল-আজরাক’ বিমানঘাঁটিতে (যার প্রাতিষ্ঠানিক নাম ‘মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি’)। রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্রটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা যৌথভাবে ব্যবহার করে থাকে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'ইরনা' এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের ‘শাস্তিমূলক অভিযানে’ ঘাঁটির মোট মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, যুদ্ধবিমান মোতায়েন এলাকা এবং এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্গারগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জর্ডান সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা ইরান থেকে আসা অন্তত ১৮টি ধাবমান ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই সফলভাবে ভূপাতিত করতে পেরেছে।
হামলার ঠিক পূর্বমুহূর্তে আইআরজিসি এক জরুরি সতর্কবার্তায় কুয়েত ও বাহরাইন উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ও তাদের মিত্র দেশের তেলবাহী ট্যাংকারের নাবিকদের জাহাজ ছেড়ে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপরই ওই অঞ্চলে মার্কিন সংশ্লিষ্ট যেকোনো সামরিক বা বাণিজ্যিক জলযানে সরাসরি আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। মূলত চলতি সপ্তাহে ইরানের উন্নত ‘কাসেম বাসির’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার পর জবাবে ওয়াশিংটন মঙ্গলবারে পাঁচটি ইরানি ট্যাংকার ধ্বংস করেছিল। আজকের এই হামলাকে সেই ধারাবাহিকতারই পাল্টা জবাব হিসেবে দেখছে বিশ্ব।
দীর্ঘ ছয় মাস ধরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের তীব্রতায় বৈশ্বিক জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে তেহরান। বিপরীতে ওয়াশিংটন কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ ও বন্দর অবরোধ বহাল রেখেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং এই নিত্যনতুন সামরিক উস্কানির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা এখন চরম হুমকির মুখে বলে সতর্ক করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

আপনার মতামত লিখুন