দিকপাল

হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে শিল্প বিপর্যয়ের আশঙ্কা কাতারের


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৩:১১ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে শিল্প বিপর্যয়ের আশঙ্কা কাতারের

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইরান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে চলমান নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিশ্বব্যাপী এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। এ সংকট দীর্ঘ হলে এশিয়া ও ইউরোপজুড়ে বড় ধরনের শিল্প বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে কাতার। কাতার সরকারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী সায়েদ শেরিদা আল-কাবী সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আইসিআইএস (ICIS) ও রয়টার্সের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র কাতার থেকে গ্যাস রপ্তানি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। সংঘাতের প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো পাঠাতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে সরবরাহ করা হয়েছিল ৫০৯টি কার্গো। এছাড়া কাতারএনার্জির ১৭ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইতালিসহ একাধিক দেশের জন্য ঘোষিত 'ফোর্স মেজার' (অপরিহার্য সংকটকালীন স্থগিতাদেশ)-এর মেয়াদ সেপ্টেম্বর পার হয়ে নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা এই কৌশলগত জলপথটি অবরুদ্ধ বা অনিরাপদ থাকায় বিকল্প উপায়ে গ্যাস সরবরাহ অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প কারখানাগুলোতে গ্যাস সংকট তীব্রতর হচ্ছে। পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক না হলে সার কারখানা, বস্ত্র খাত এবং ভারি শিল্পে উৎপাদন ধস নামার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে শিল্প বিপর্যয়ের আশঙ্কা কাতারের

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইরান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে চলমান নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিশ্বব্যাপী এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। এ সংকট দীর্ঘ হলে এশিয়া ও ইউরোপজুড়ে বড় ধরনের শিল্প বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে কাতার। কাতার সরকারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী সায়েদ শেরিদা আল-কাবী সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আইসিআইএস (ICIS) ও রয়টার্সের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র কাতার থেকে গ্যাস রপ্তানি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। সংঘাতের প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো পাঠাতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে সরবরাহ করা হয়েছিল ৫০৯টি কার্গো। এছাড়া কাতারএনার্জির ১৭ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইতালিসহ একাধিক দেশের জন্য ঘোষিত 'ফোর্স মেজার' (অপরিহার্য সংকটকালীন স্থগিতাদেশ)-এর মেয়াদ সেপ্টেম্বর পার হয়ে নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা এই কৌশলগত জলপথটি অবরুদ্ধ বা অনিরাপদ থাকায় বিকল্প উপায়ে গ্যাস সরবরাহ অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প কারখানাগুলোতে গ্যাস সংকট তীব্রতর হচ্ছে। পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক না হলে সার কারখানা, বস্ত্র খাত এবং ভারি শিল্পে উৎপাদন ধস নামার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল