দিকপাল

গুগল আপনার সম্পর্কে কতটা জানে? জানুন, নিয়ন্ত্রণও নিন


তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ০১:৪৪ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

গুগল আপনার সম্পর্কে কতটা জানে? জানুন, নিয়ন্ত্রণও নিন

সকালে ঘুম থেকে উঠে আবহাওয়া দেখা, গুগলে খবর খোঁজা, মানচিত্রে গন্তব্যের পথ পর্যবেক্ষণ কিংবা ইউটিউবে ভিডিও ও অনলাইনে কোনো পণ্যের সন্ধান করা—প্রতিদিনের এসব বিচ্ছিন্ন কাজ আপনার কাছে সাধারণ অভ্যাস মনে হলেও গুগলের কাছে তা আপনার ব্যক্তিত্ব ও রুচির গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সংকেত।

গুগলের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারী কী খুঁজছেন, কী দেখছেন, কোথায় যাচ্ছেন বা কোন বিজ্ঞাপনে সাড়া দিচ্ছেন—এসব তথ্য তাদের সিস্টেমে সংগৃহীত হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীর পছন্দ ও আচরণের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ধারণা তৈরি করে।

গুগল অ্যাকাউন্টে 'ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি' (Web & App Activity) চালু থাকলে ব্যবহারকারীর যাবতীয় অনুসন্ধানের ইতিহাস জমা হতে থাকে। ক্রোমে দেখা ওয়েবসাইট, ব্যবহৃত বিভিন্ন অ্যাপ এবং ডিভাইসের ভৌগোলিক কার্যকলাপও এতে যুক্ত হতে পারে। গুগল অ্যাকাউন্টের 'মাই অ্যাক্টিভিটি' (My Activity) পেজে গিয়ে এসব তথ্য সময় ও তারিখ অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ এবং মুছে ফেলা সম্ভব।

কেউ যদি টানা কয়েকদিন নির্দিষ্ট কোনো ক্যাটাগরির ভিডিও (যেমন—ভ্রমণ বা রান্না) দেখেন, তবে ইউটিউবের অ্যালগরিদম তাঁর সামনে সেই সংক্রান্ত ভিডিওর পরামর্শ বা রেকমেন্ডেশন দিতে শুরু করে। ইউটিউব হিস্টোরির এসব তথ্যকে বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতকরণের (Personalized Ads) কাজেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

গুগলের 'টাইমলাইন ফিচার' চালু থাকলে ব্যবহারকারী কোথায় গেছেন, কোন পথ ব্যবহার করেছেন এবং কতক্ষণ ছিলেন—তার পুরো তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এমনকি ফোনের জিপিএস (GPS) বন্ধ থাকলেও মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ ও আইপি ঠিকানার ওপর ভিত্তি করে আনুমানিক অবস্থান নির্ধারণ করে থাকে সেবাটি।

অনলাইনে কোনো নির্দিষ্ট পণ্য (যেমন—জুতো বা পোশাক) খোঁজার কিছুক্ষণ পর অন্য ওয়েবসাইটে ওই পণ্যের বিজ্ঞাপন চলে আসা মূলত গুগলের ব্যক্তিগত তথ্যনির্ভর বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার অংশ। 'মাই অ্যাড সেন্টার' (My Ad Center) থেকে এসব সেটিংস পরিবর্তন করা যায়।

গুগল মূলত সার্চ, ইউটিউব, ম্যাপস, জিমেইল, গুগল ফটোজ ও অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম—সবগুলোকে একটি একক অ্যাকাউন্টের অধীনে যুক্ত রেখে কাজ করে। যেমন—জিমেইলে আসা ফ্লাইটের টিকিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যালেন্ডার বা ম্যাপসে যুক্ত হওয়া। এতে ব্যবহারিক সুবিধা বাড়লেও ডেটা প্রাইভেসির প্রশ্ন থেকে যায়।

গুগল ব্যবহারকারীর সব তথ্য সরাসরি বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করতে পারে না। তথ্য সংগ্রহের মাত্রা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর দেওয়া পারমিশন ও প্রাইভেসি সেটিংসের ওপর। গুগল অ্যাকাউন্টের ‘ডাটা অ্যান্ড প্রাইভেসি’ (Data & Privacy) অপশনে গিয়ে ব্যবহারকারীরা যেকোনো সময় ৩, ১৮ বা ৩৬ মাস পর সংগৃহীত ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার (Auto-delete) সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারেন।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল বিষয় গুগল আপনার সম্পর্কে কতটা জানে তা নয়; বরং আসল বিষয় হলো আপনি নিজেই জানেন কি না—প্রাইভেসি সেটিংসের মাধ্যমে গুগলকে নিজের সম্পর্কে কতটুকু জানার অনুমতি দিয়ে রেখেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


গুগল আপনার সম্পর্কে কতটা জানে? জানুন, নিয়ন্ত্রণও নিন

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সকালে ঘুম থেকে উঠে আবহাওয়া দেখা, গুগলে খবর খোঁজা, মানচিত্রে গন্তব্যের পথ পর্যবেক্ষণ কিংবা ইউটিউবে ভিডিও ও অনলাইনে কোনো পণ্যের সন্ধান করা—প্রতিদিনের এসব বিচ্ছিন্ন কাজ আপনার কাছে সাধারণ অভ্যাস মনে হলেও গুগলের কাছে তা আপনার ব্যক্তিত্ব ও রুচির গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সংকেত।

গুগলের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারী কী খুঁজছেন, কী দেখছেন, কোথায় যাচ্ছেন বা কোন বিজ্ঞাপনে সাড়া দিচ্ছেন—এসব তথ্য তাদের সিস্টেমে সংগৃহীত হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীর পছন্দ ও আচরণের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ধারণা তৈরি করে।

গুগল অ্যাকাউন্টে 'ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি' (Web & App Activity) চালু থাকলে ব্যবহারকারীর যাবতীয় অনুসন্ধানের ইতিহাস জমা হতে থাকে। ক্রোমে দেখা ওয়েবসাইট, ব্যবহৃত বিভিন্ন অ্যাপ এবং ডিভাইসের ভৌগোলিক কার্যকলাপও এতে যুক্ত হতে পারে। গুগল অ্যাকাউন্টের 'মাই অ্যাক্টিভিটি' (My Activity) পেজে গিয়ে এসব তথ্য সময় ও তারিখ অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ এবং মুছে ফেলা সম্ভব।

কেউ যদি টানা কয়েকদিন নির্দিষ্ট কোনো ক্যাটাগরির ভিডিও (যেমন—ভ্রমণ বা রান্না) দেখেন, তবে ইউটিউবের অ্যালগরিদম তাঁর সামনে সেই সংক্রান্ত ভিডিওর পরামর্শ বা রেকমেন্ডেশন দিতে শুরু করে। ইউটিউব হিস্টোরির এসব তথ্যকে বিজ্ঞাপন ব্যক্তিগতকরণের (Personalized Ads) কাজেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

গুগলের 'টাইমলাইন ফিচার' চালু থাকলে ব্যবহারকারী কোথায় গেছেন, কোন পথ ব্যবহার করেছেন এবং কতক্ষণ ছিলেন—তার পুরো তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এমনকি ফোনের জিপিএস (GPS) বন্ধ থাকলেও মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ ও আইপি ঠিকানার ওপর ভিত্তি করে আনুমানিক অবস্থান নির্ধারণ করে থাকে সেবাটি।

অনলাইনে কোনো নির্দিষ্ট পণ্য (যেমন—জুতো বা পোশাক) খোঁজার কিছুক্ষণ পর অন্য ওয়েবসাইটে ওই পণ্যের বিজ্ঞাপন চলে আসা মূলত গুগলের ব্যক্তিগত তথ্যনির্ভর বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার অংশ। 'মাই অ্যাড সেন্টার' (My Ad Center) থেকে এসব সেটিংস পরিবর্তন করা যায়।

গুগল মূলত সার্চ, ইউটিউব, ম্যাপস, জিমেইল, গুগল ফটোজ ও অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম—সবগুলোকে একটি একক অ্যাকাউন্টের অধীনে যুক্ত রেখে কাজ করে। যেমন—জিমেইলে আসা ফ্লাইটের টিকিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যালেন্ডার বা ম্যাপসে যুক্ত হওয়া। এতে ব্যবহারিক সুবিধা বাড়লেও ডেটা প্রাইভেসির প্রশ্ন থেকে যায়।

গুগল ব্যবহারকারীর সব তথ্য সরাসরি বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করতে পারে না। তথ্য সংগ্রহের মাত্রা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর দেওয়া পারমিশন ও প্রাইভেসি সেটিংসের ওপর। গুগল অ্যাকাউন্টের ‘ডাটা অ্যান্ড প্রাইভেসি’ (Data & Privacy) অপশনে গিয়ে ব্যবহারকারীরা যেকোনো সময় ৩, ১৮ বা ৩৬ মাস পর সংগৃহীত ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার (Auto-delete) সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারেন।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল বিষয় গুগল আপনার সম্পর্কে কতটা জানে তা নয়; বরং আসল বিষয় হলো আপনি নিজেই জানেন কি না—প্রাইভেসি সেটিংসের মাধ্যমে গুগলকে নিজের সম্পর্কে কতটুকু জানার অনুমতি দিয়ে রেখেছেন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল