দিকপাল

পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটে বড় সাফল্যের দাবি চীনের


তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ | ১২:০৭ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটে বড় সাফল্যের দাবি চীনের

মহাকাশ প্রযুক্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হওয়ার দৌড়ে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে চিন। একটি অরবিটাল লঞ্চ টেস্টের (কক্ষপথীয় উৎক্ষেপণ পরীক্ষা) সময় চিনের একটি ক্যারিয়ার রকেটের প্রথম স্তর বা বুস্টারকে সফলভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে গত শুক্রবার চিনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। পুনঃব্যবহারযোগ্য বা রিইউজেবল রকেট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চিনের এই সাফল্যকে একটি বিশাল ব্রেকথ্রু হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত শুক্রবার চিনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান দ্বীপ থেকে ‘লং মার্চ ১০বি’ (Long March 10B) রকেটটি মহাকাশের উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করা হয়। চিনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি (CCTV)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, রকেটের প্রথম স্তর এবং ওপরের স্তরটি একে অপরের থেকে আলাদা হওয়ার ঠিক ছয় মিনিট পর, প্রথম স্তরের বুস্টারটি সফলভাবে সমুদ্রের ওপর ভাসমান একটি প্ল্যাটফর্মে অবতরণ করে। সিসিটিভি অনুমোদিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বুস্টারটির ওপরের অংশ থেকে ধোঁয়া নির্গত হওয়া অবস্থায় এটি উলম্বভাবে (Vertically) ভাসমান প্ল্যাটফর্মের ওপর নেমে আসছে। চিনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, এই মিশনের মাধ্যমে মহাকাশের নির্দিষ্ট কক্ষপথে সফলভাবে একটি স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহও স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।

রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘চিনা অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কর্পোরেশন’ (CASC) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানায়, “এই মিশনটি চিনের পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ব্রেকথ্রু এবং চিনের মহাকাশ সক্ষমতা বৃদ্ধির গতিকে ত্বরান্বিত করার জন্য একটি শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছে।” সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চিনের অন্যান্য বাণিজ্যিক রকেট কোম্পানির বেশ কিছু পরীক্ষা ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে এই বড় ধরনের সাফল্য এলো।

পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি মহাকাশ অনুসন্ধান, মহাকাশ ভ্রমণ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট অবকাঠামো তৈরির জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই প্রযুক্তি রকেট উৎক্ষেপণের খরচ এবং সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে। মহাকাশ বাজার ও সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে একে একটি বড় কৌশলগত সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বর্তমানে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান ‘স্পেসএক্স’ (SpaceX) প্রায় এক দশক আগে রকেট বুস্টার সফলভাবে অবতরণ করানোর প্রযুক্তি আয়ত্ত করে বিশ্বব্যাপী রকেট উৎক্ষেপণ বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। এছাড়া আমেরিকার আরেকটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ‘ব্লু অরিজিন’ (Blue Origin) গত নভেম্বরে তাদের ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের প্রথম স্তর সফলভাবে অবতরণ করাতে সক্ষম হয়। চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের তৈরি এই ‘লং মার্চ-১০’ সিরিজের রকেটগুলো মূলত চাঁদে চিনের মানববাহী মহাকাশ মিশন প্রেরণের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬


পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটে বড় সাফল্যের দাবি চীনের

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

মহাকাশ প্রযুক্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হওয়ার দৌড়ে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে চিন। একটি অরবিটাল লঞ্চ টেস্টের (কক্ষপথীয় উৎক্ষেপণ পরীক্ষা) সময় চিনের একটি ক্যারিয়ার রকেটের প্রথম স্তর বা বুস্টারকে সফলভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে গত শুক্রবার চিনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। পুনঃব্যবহারযোগ্য বা রিইউজেবল রকেট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চিনের এই সাফল্যকে একটি বিশাল ব্রেকথ্রু হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত শুক্রবার চিনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান দ্বীপ থেকে ‘লং মার্চ ১০বি’ (Long March 10B) রকেটটি মহাকাশের উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করা হয়। চিনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি (CCTV)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, রকেটের প্রথম স্তর এবং ওপরের স্তরটি একে অপরের থেকে আলাদা হওয়ার ঠিক ছয় মিনিট পর, প্রথম স্তরের বুস্টারটি সফলভাবে সমুদ্রের ওপর ভাসমান একটি প্ল্যাটফর্মে অবতরণ করে। সিসিটিভি অনুমোদিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বুস্টারটির ওপরের অংশ থেকে ধোঁয়া নির্গত হওয়া অবস্থায় এটি উলম্বভাবে (Vertically) ভাসমান প্ল্যাটফর্মের ওপর নেমে আসছে। চিনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, এই মিশনের মাধ্যমে মহাকাশের নির্দিষ্ট কক্ষপথে সফলভাবে একটি স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহও স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।

রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘চিনা অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কর্পোরেশন’ (CASC) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানায়, “এই মিশনটি চিনের পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ব্রেকথ্রু এবং চিনের মহাকাশ সক্ষমতা বৃদ্ধির গতিকে ত্বরান্বিত করার জন্য একটি শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছে।” সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চিনের অন্যান্য বাণিজ্যিক রকেট কোম্পানির বেশ কিছু পরীক্ষা ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে এই বড় ধরনের সাফল্য এলো।

পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি মহাকাশ অনুসন্ধান, মহাকাশ ভ্রমণ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট অবকাঠামো তৈরির জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই প্রযুক্তি রকেট উৎক্ষেপণের খরচ এবং সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে। মহাকাশ বাজার ও সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে একে একটি বড় কৌশলগত সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বর্তমানে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান ‘স্পেসএক্স’ (SpaceX) প্রায় এক দশক আগে রকেট বুস্টার সফলভাবে অবতরণ করানোর প্রযুক্তি আয়ত্ত করে বিশ্বব্যাপী রকেট উৎক্ষেপণ বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। এছাড়া আমেরিকার আরেকটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ‘ব্লু অরিজিন’ (Blue Origin) গত নভেম্বরে তাদের ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের প্রথম স্তর সফলভাবে অবতরণ করাতে সক্ষম হয়। চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের তৈরি এই ‘লং মার্চ-১০’ সিরিজের রকেটগুলো মূলত চাঁদে চিনের মানববাহী মহাকাশ মিশন প্রেরণের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল