দিকপাল

গ্যাসের চাপ কম, গাজীপুরে পোশাক উৎপাদন কমেছে ৩৫%


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০১:২৮ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

গ্যাসের চাপ কম, গাজীপুরে পোশাক উৎপাদন কমেছে ৩৫%

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের অপ্রতুল চাপের কারণে বাধ্য হয়ে অনেক কারখানা ব্যয়বহুল ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে, গ্যাসনির্ভর ইউনিট বন্ধ রাখছে এবং মেশিনের পরিবর্তে হাতে পোশাক প্রেসিং ও ফিনিশিংয়ের কাজ চালাচ্ছে।

পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে স্প্যারো অ্যাপারেলস লিমিটেডের মতো কারখানায় ডেনিম প্রেসিংয়ের কাজ ম্যানুয়ালি করতে হচ্ছে। গাজীপুরে টেক্সটাইল, ডাইং, নিটিং ও ফিনিশিং ইউনিটগুলোতে ৭-৮ পিএসআই চাপের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে চাপ নেমে এসেছে ২ পিএসআইয়ের নিচে। দৈনিক ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) চাহিদার বিপরীতে তিতাস গ্যাস সরবরাহ করছে মাত্র ৩০০ এমএমসিএফডি, অর্থাৎ চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশই ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

ডিজেল জেনারেটরের অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ডাইং ও টেক্সটাইল ইউনিট বন্ধ থাকায় সার্বিক ব্যাকওয়ার্ড-লিংকেজ সরবরাহ শৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পেরে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ৫০ হাজার ডলার ব্যয়ে এয়ার ফ্রেইটে বা বিমানে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে, পাশাপাশি শিপমেন্টে বিলম্বের জন্য ক্রেতাদের ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়ও দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে সার্বিক উৎপাদন ৩০-৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ব্যবসা বন্ধ বা উৎপাদন ব্যাহত হলেও শ্রমিকদের বেতন নিয়মিত পরিশোধ করে যেতে হচ্ছে, যার ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আর্থিক লোকসান গুনছেন মালিকেরা। দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিলে দেশি পোশাকশিল্প মারাত্মক ঝুঁকি এবং শ্রমিকরা চাকরি হারানোর মুখে পড়তে পারেন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


গ্যাসের চাপ কম, গাজীপুরে পোশাক উৎপাদন কমেছে ৩৫%

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের অপ্রতুল চাপের কারণে বাধ্য হয়ে অনেক কারখানা ব্যয়বহুল ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে, গ্যাসনির্ভর ইউনিট বন্ধ রাখছে এবং মেশিনের পরিবর্তে হাতে পোশাক প্রেসিং ও ফিনিশিংয়ের কাজ চালাচ্ছে।

পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে স্প্যারো অ্যাপারেলস লিমিটেডের মতো কারখানায় ডেনিম প্রেসিংয়ের কাজ ম্যানুয়ালি করতে হচ্ছে। গাজীপুরে টেক্সটাইল, ডাইং, নিটিং ও ফিনিশিং ইউনিটগুলোতে ৭-৮ পিএসআই চাপের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে চাপ নেমে এসেছে ২ পিএসআইয়ের নিচে। দৈনিক ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) চাহিদার বিপরীতে তিতাস গ্যাস সরবরাহ করছে মাত্র ৩০০ এমএমসিএফডি, অর্থাৎ চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশই ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

ডিজেল জেনারেটরের অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ডাইং ও টেক্সটাইল ইউনিট বন্ধ থাকায় সার্বিক ব্যাকওয়ার্ড-লিংকেজ সরবরাহ শৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পেরে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ৫০ হাজার ডলার ব্যয়ে এয়ার ফ্রেইটে বা বিমানে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে, পাশাপাশি শিপমেন্টে বিলম্বের জন্য ক্রেতাদের ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়ও দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে সার্বিক উৎপাদন ৩০-৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ব্যবসা বন্ধ বা উৎপাদন ব্যাহত হলেও শ্রমিকদের বেতন নিয়মিত পরিশোধ করে যেতে হচ্ছে, যার ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আর্থিক লোকসান গুনছেন মালিকেরা। দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিলে দেশি পোশাকশিল্প মারাত্মক ঝুঁকি এবং শ্রমিকরা চাকরি হারানোর মুখে পড়তে পারেন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল