বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মূল চেতনাকে ধারণ করে কোনো ধরনের ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বৈষম্য না করে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে সরকারি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। গত শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের ঝাড়ুয়ারহাটে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তাগিদ দেন।
সমাবেশে সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, তিনি নির্বাচনের আগে একটি ওয়াদা করেছিলেন যে তিনি যদি এমপি নির্বাচিত হন, তবে সরকারের যে বরাদ্দগুলো পাবেন এবং অন্য যেখান থেকে আনতে পারবেন, তার একটি পাই হারামের টাকাও তাঁর পেটে ঢুকবে না। তাঁর সচেতন মনে এখন পর্যন্ত এমন কিছু হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিগত ৫৪ বছর কিংবা শেষ ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যার রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কাজগুলো দীর্ঘ সময় ধরে হয়নি, তা চার দিন বা চার মাসে করা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি উত্তরণে তিনি জনগণের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছেন এবং তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
ইসলামি অনুশাসনের আলোকে কেবল দোয়ার ওপর নির্ভর না করে বাস্তব কর্মমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, কাজ বাদ দিয়ে শুধু দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন না। শুধু দোয়া-দরুদ পড়লে রাষ্ট্রীয় আইনের পরিবর্তন হয় না; সমাজে ন্যায়বিচার ও ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হলে আইন পরিবর্তন করতে হবে এবং সেই পরিবর্তন কেবল জাতীয় সংসদেই সম্ভব। তাই সংসদে নীতিগত পরিবর্তন আনার জন্য নিজেদের শক্তি বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি, অসাম্প্রদায়িক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গঠনে অন্য ধর্মাবলম্বীদেরও নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মেও স্বর্গের কথা বলা আছে। তিনি সবাইকে ধর্মের কথা মানার অনুরোধ জানান এবং উল্লেখ করেন যে কোনো ধর্মই খারাপ শিক্ষা দেয় না, বরং সব ধর্মই মানুষকে ভালো কাজ করতে বলে।
এটিএম আজহারুল ইসলাম তাঁর বিগত দিনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করে জানান, এর আগে তিনবার নির্বাচনে পরাজিত হলেও তিনি এলাকায় মসজিদ, এতিমখানা ও ওজুখানা নির্মাণসহ বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ কারাবাস ও ফাঁসির আদেশ হলেও তিনি বিচলিত হননি বলে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্যমতে, অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা তাঁর ছিল। তিনি আরও বলেন, জনগণের দোয়া এবং আল্লাহর ফয়সালায় চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর তিনি মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তি পেয়ে নির্বাচনে দাঁড়ানোর পর সাধারণ মানুষ তাঁকে সর্বোচ্চ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন এবং এর সমস্ত কৃতিত্ব তিনি এলাকার সাধারণ জনগণের বলে উল্লেখ করেন।
দামোদরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান লাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সুধী সমাবেশে বিশেষ বক্তা ও অতিথি হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুজ্জামান কবির, নায়েবে আমীর শাহ মুহাম্মদ রুস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বদরগঞ্জ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি এম এ মতিন সরকারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মূল চেতনাকে ধারণ করে কোনো ধরনের ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বৈষম্য না করে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে সরকারি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। গত শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের ঝাড়ুয়ারহাটে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তাগিদ দেন।
সমাবেশে সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, তিনি নির্বাচনের আগে একটি ওয়াদা করেছিলেন যে তিনি যদি এমপি নির্বাচিত হন, তবে সরকারের যে বরাদ্দগুলো পাবেন এবং অন্য যেখান থেকে আনতে পারবেন, তার একটি পাই হারামের টাকাও তাঁর পেটে ঢুকবে না। তাঁর সচেতন মনে এখন পর্যন্ত এমন কিছু হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিগত ৫৪ বছর কিংবা শেষ ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যার রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কাজগুলো দীর্ঘ সময় ধরে হয়নি, তা চার দিন বা চার মাসে করা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি উত্তরণে তিনি জনগণের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছেন এবং তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
ইসলামি অনুশাসনের আলোকে কেবল দোয়ার ওপর নির্ভর না করে বাস্তব কর্মমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, কাজ বাদ দিয়ে শুধু দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন না। শুধু দোয়া-দরুদ পড়লে রাষ্ট্রীয় আইনের পরিবর্তন হয় না; সমাজে ন্যায়বিচার ও ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হলে আইন পরিবর্তন করতে হবে এবং সেই পরিবর্তন কেবল জাতীয় সংসদেই সম্ভব। তাই সংসদে নীতিগত পরিবর্তন আনার জন্য নিজেদের শক্তি বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি, অসাম্প্রদায়িক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গঠনে অন্য ধর্মাবলম্বীদেরও নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মেও স্বর্গের কথা বলা আছে। তিনি সবাইকে ধর্মের কথা মানার অনুরোধ জানান এবং উল্লেখ করেন যে কোনো ধর্মই খারাপ শিক্ষা দেয় না, বরং সব ধর্মই মানুষকে ভালো কাজ করতে বলে।
এটিএম আজহারুল ইসলাম তাঁর বিগত দিনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করে জানান, এর আগে তিনবার নির্বাচনে পরাজিত হলেও তিনি এলাকায় মসজিদ, এতিমখানা ও ওজুখানা নির্মাণসহ বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ কারাবাস ও ফাঁসির আদেশ হলেও তিনি বিচলিত হননি বলে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্যমতে, অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা তাঁর ছিল। তিনি আরও বলেন, জনগণের দোয়া এবং আল্লাহর ফয়সালায় চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর তিনি মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তি পেয়ে নির্বাচনে দাঁড়ানোর পর সাধারণ মানুষ তাঁকে সর্বোচ্চ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন এবং এর সমস্ত কৃতিত্ব তিনি এলাকার সাধারণ জনগণের বলে উল্লেখ করেন।
দামোদরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান লাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সুধী সমাবেশে বিশেষ বক্তা ও অতিথি হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুজ্জামান কবির, নায়েবে আমীর শাহ মুহাম্মদ রুস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বদরগঞ্জ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি এম এ মতিন সরকারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন