দিকপাল

দেশজুড়ে ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালনের ঘোষণা


সুমাইয়া জাবির
সুমাইয়া জাবির ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ | ০১:৩৯ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশজুড়ে ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালনের ঘোষণা

আগামী ১৮ জুলাই দেশব্যাপী ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস) পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকাকে স্মরণীয় করে রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার (৫ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন আন্দোলনের স্মৃতি চারণ করে বলেন, “১৬ ও ১৭ জুলাইয়ের বর্বরোচিত ঘটনার পর ১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসেন। ওই দিন আন্দোলনে সম্ভবত চারজন শিক্ষার্থী শহীদ হন, যা মূলত ছাত্র-জনতার এই ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।”

তিনি জানান, দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে একটি বিশাল প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করা হবে। সমাবেশ শেষে সেখানে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিবাদী গানের আসর বসবে।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে হওয়া প্রথম দফার হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, “সেদিন ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অন্যায়ভাবে ঢুকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর তাদের হামলার তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি।”

এই দিনটির ভয়াবহতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের স্মৃতি স্মরণে একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে বলে তিনি জানান। প্রদর্শনীর সম্ভাব্য নাম হিসেবে ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ অথবা ‘প্রতিরোধের সূচনা’ নির্ধারণ করা হয়েছে। চারুকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘরের সামনের প্রাঙ্গণ অথবা শাহবাগ স্কয়ারের উন্মুক্ত স্থানে এই প্রদর্শনীটি আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে।

যাত্রাবাড়ী এলাকার ঐতিহাসিক প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, “২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে শুরু হওয়া গণপ্রতিরোধে স্থানীয় সাধারণ জনগণ, ছাত্র-জনতা এবং অসংখ্য মাদরাসা শিক্ষার্থী বীরত্বের সঙ্গে অংশ নেন। যাত্রাবাড়ী থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে টানা কয়েক দিন এই তীব্র অবরোধ কর্মসূচি চলেছিল। সরকারি বাহিনীর গুলিতে সেখানে কমপক্ষে ৮০ জন মানুষ শহীদ হন।”

ঐতিহাসিক এই স্থানটিকে এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি বিশেষ স্মরণ সমাবেশের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


দেশজুড়ে ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালনের ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

আগামী ১৮ জুলাই দেশব্যাপী ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস) পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকাকে স্মরণীয় করে রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার (৫ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন আন্দোলনের স্মৃতি চারণ করে বলেন, “১৬ ও ১৭ জুলাইয়ের বর্বরোচিত ঘটনার পর ১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসেন। ওই দিন আন্দোলনে সম্ভবত চারজন শিক্ষার্থী শহীদ হন, যা মূলত ছাত্র-জনতার এই ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।”

তিনি জানান, দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে একটি বিশাল প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করা হবে। সমাবেশ শেষে সেখানে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিবাদী গানের আসর বসবে।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে হওয়া প্রথম দফার হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, “সেদিন ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অন্যায়ভাবে ঢুকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর তাদের হামলার তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি।”

এই দিনটির ভয়াবহতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের স্মৃতি স্মরণে একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে বলে তিনি জানান। প্রদর্শনীর সম্ভাব্য নাম হিসেবে ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ অথবা ‘প্রতিরোধের সূচনা’ নির্ধারণ করা হয়েছে। চারুকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘরের সামনের প্রাঙ্গণ অথবা শাহবাগ স্কয়ারের উন্মুক্ত স্থানে এই প্রদর্শনীটি আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে।

যাত্রাবাড়ী এলাকার ঐতিহাসিক প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, “২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে শুরু হওয়া গণপ্রতিরোধে স্থানীয় সাধারণ জনগণ, ছাত্র-জনতা এবং অসংখ্য মাদরাসা শিক্ষার্থী বীরত্বের সঙ্গে অংশ নেন। যাত্রাবাড়ী থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে টানা কয়েক দিন এই তীব্র অবরোধ কর্মসূচি চলেছিল। সরকারি বাহিনীর গুলিতে সেখানে কমপক্ষে ৮০ জন মানুষ শহীদ হন।”

ঐতিহাসিক এই স্থানটিকে এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি বিশেষ স্মরণ সমাবেশের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল