দিকপাল

এল নিনোর তীব্রতায় বিশ্বজুড়ে দুর্যোগের সতর্কতা


ইয়াসরির মাহবুব
ইয়াসরির মাহবুব স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০২:২৯ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

এল নিনোর তীব্রতায় বিশ্বজুড়ে দুর্যোগের সতর্কতা

চলতি ২০২৬ সালে প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে একটি শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’ (বা অতি শক্তিশালী এল নিনো) পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে চরম দাবদাহ, তীব্র খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং ভয়াবহ বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং নোয়া (NOAA) নিশ্চিত করেছে যে, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চলে তাপমাত্রা ঐতিহাসিক গড় থেকে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা এই শতাব্দী বা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো ইভেন্টে রূপ নিতে যাচ্ছে।


এল নিনো এবং লা নিনা হলো ‘এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন’ (এনসো)-এর দুটি বিপরীত পর্যায়। এটি বছরের পর বছর বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রক। এটি একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে ঘটে যাওয়া জলবায়ু প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার কারণে কেন্দ্রীয় এবং পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছরে একবার এল নিনো দেখা দেয় এবং এর স্থায়িত্ব থাকে প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত।

বর্তমান বিশ্ব ইতিমধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে রেকর্ড তাপমাত্রার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার ওপর এই সুপার এল নিনোর প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। এই জলবায়ু সংকটের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন চরম আবহাওয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে:

এল নিনোর প্রভাবে ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার অংশবিশেষ, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মধ্য আমেরিকা এবং আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে গেছে। ফলে এসব অঞ্চলে তীব্র পানির সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আমাজন এবং অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

খরার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, পূর্ব আফ্রিকা এবং ইকুয়েডর ও পেরুর মতো লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে। এসব অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা স্থানীয় অবকাঠামো ও জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, সুপার এল নিনোর কারণে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা সাময়িকভাবে আরও ০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এটি কেবল স্বল্পমেয়াদি দুর্যোগই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর করে দেওয়া এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই এই সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে আগাম প্রস্তুতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬


এল নিনোর তীব্রতায় বিশ্বজুড়ে দুর্যোগের সতর্কতা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

চলতি ২০২৬ সালে প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে একটি শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’ (বা অতি শক্তিশালী এল নিনো) পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়াবিদ ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে চরম দাবদাহ, তীব্র খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং ভয়াবহ বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং নোয়া (NOAA) নিশ্চিত করেছে যে, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চলে তাপমাত্রা ঐতিহাসিক গড় থেকে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা এই শতাব্দী বা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো ইভেন্টে রূপ নিতে যাচ্ছে।


এল নিনো এবং লা নিনা হলো ‘এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন’ (এনসো)-এর দুটি বিপরীত পর্যায়। এটি বছরের পর বছর বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রক। এটি একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে ঘটে যাওয়া জলবায়ু প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার কারণে কেন্দ্রীয় এবং পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছরে একবার এল নিনো দেখা দেয় এবং এর স্থায়িত্ব থাকে প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত।

বর্তমান বিশ্ব ইতিমধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে রেকর্ড তাপমাত্রার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার ওপর এই সুপার এল নিনোর প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। এই জলবায়ু সংকটের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন চরম আবহাওয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে:

এল নিনোর প্রভাবে ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার অংশবিশেষ, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মধ্য আমেরিকা এবং আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে গেছে। ফলে এসব অঞ্চলে তীব্র পানির সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আমাজন এবং অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

খরার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, পূর্ব আফ্রিকা এবং ইকুয়েডর ও পেরুর মতো লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে। এসব অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা স্থানীয় অবকাঠামো ও জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, সুপার এল নিনোর কারণে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা সাময়িকভাবে আরও ০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এটি কেবল স্বল্পমেয়াদি দুর্যোগই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর করে দেওয়া এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই এই সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে আগাম প্রস্তুতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল