দিকপাল

দ্বিতীয় বিয়ের জেরে স্বামীকে টুকরো টুকরো, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড


মোঃ রফিকুল ইসলাম
মোঃ রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫০ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

দ্বিতীয় বিয়ের জেরে স্বামীকে টুকরো টুকরো, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

পাঁচ বছর আগে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় স্বামীকে হত্যার পর তার লাশ ৬ টুকরো করার দায়ে প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ১৬তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপুর আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।


আদালত সূত্রে জানা গেছে, হত্যার দায়ে ফাতেমাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া লাশ গুমের দায়ে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩০ মে রাতে মহাখালীর আমতলী এলাকায় একটি ড্রাম থেকে এক ব্যক্তির মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন রাত ১১টার পর মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের কাছ থেকে একটি ব্যাগের ভেতর উরু ও কাঁধ থেকে খণ্ডিত দুই পা ও দুই হাতের অংশ উদ্ধার করা হয়। দুই দিনে আলাদা আলাদা স্থান থেকে লাশের ৬টি টুকরো উদ্ধার হয়। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে গোয়েন্দা পুলিশ নামে। মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয় ফাতেমাকে।

পুলিশের কাছে ফাতেমা জানান, পারিবারিক কলহ, টাকা-পয়সা বণ্টন ও স্বামী ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের দ্বিতীয় বিবাহকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে তিনি পরিকল্পনা করে তার অটোরিকশাচালক স্বামীকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে নিস্তেজ করেন এবং পরে গলা কেটে লাশ ৬ টুকরো করেন। তিনি লাশের বিভিন্ন অংশ আলাদা আলাদা স্থানে ফেলে দেন। নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর ফাতেমা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। মামলার বিচার চলাকালে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


দ্বিতীয় বিয়ের জেরে স্বামীকে টুকরো টুকরো, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

পাঁচ বছর আগে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় স্বামীকে হত্যার পর তার লাশ ৬ টুকরো করার দায়ে প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ১৬তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপুর আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, হত্যার দায়ে ফাতেমাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া লাশ গুমের দায়ে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩০ মে রাতে মহাখালীর আমতলী এলাকায় একটি ড্রাম থেকে এক ব্যক্তির মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন রাত ১১টার পর মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের কাছ থেকে একটি ব্যাগের ভেতর উরু ও কাঁধ থেকে খণ্ডিত দুই পা ও দুই হাতের অংশ উদ্ধার করা হয়। দুই দিনে আলাদা আলাদা স্থান থেকে লাশের ৬টি টুকরো উদ্ধার হয়। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে গোয়েন্দা পুলিশ নামে। মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয় ফাতেমাকে।

পুলিশের কাছে ফাতেমা জানান, পারিবারিক কলহ, টাকা-পয়সা বণ্টন ও স্বামী ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের দ্বিতীয় বিবাহকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে তিনি পরিকল্পনা করে তার অটোরিকশাচালক স্বামীকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে নিস্তেজ করেন এবং পরে গলা কেটে লাশ ৬ টুকরো করেন। তিনি লাশের বিভিন্ন অংশ আলাদা আলাদা স্থানে ফেলে দেন। নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর ফাতেমা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। মামলার বিচার চলাকালে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল