দিকপাল

বাংলাদেশকে কথিত ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ প্রমাণে বিদেশি গোয়েন্দা ও আ.লীগের নীলনকশা


সুমাইয়া জাবির
সুমাইয়া জাবির ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ | ১২:০৪ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশকে কথিত ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ প্রমাণে বিদেশি গোয়েন্দা ও আ.লীগের নীলনকশা

বাংলাদেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করে আন্তর্জাতিক মহলে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসেবে চিত্রায়িত করার একটি বিপজ্জনক নীলনকশা ও চক্রান্তের খবর সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রত্যক্ষ মদদে এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের যোগসাজশে কক্সবাজারের মিয়ানমার সীমান্ত এবং বান্দরবানের দুর্গম পার্বত্য এলাকাকে কেন্দ্র করে এই চক্রান্তের স্ক্রিপ্ট সাজানো হয়েছে।

নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত স্বাধীনতাকামী একটি সশস্ত্র সংগঠনের শাখা বাংলাদেশে সক্রিয় রয়েছে—বিশ্বের কাছে এই সাজানো অপতথ্য (ডিজইনফরমেশন) প্রতিষ্ঠা করাই এই চক্রের মূল লক্ষ্য। চরম রাষ্ট্রবিরোধী এই পরিকল্পনায় দেশীয় সহযোগী হিসেবে পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। সম্প্রতি অনলাইনে অনুষ্ঠিত এক গোপন বৈঠকে গাজীপুরের সাবেক বিতর্কিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এই ‘নাটক’ সফল করতে প্রয়োজনীয় সব অর্থ একাই জোগান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকেও অবগত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা থেকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং ডিজিএফআইয়ের সব কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি এবং মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়কসহ ৬০০ জন সদস্যকে প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটে। সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চলে এই সাময়িক শূন্যতাকেই ষড়যন্ত্রের ‘সুবর্ণ সুযোগ’ হিসেবে বেছে নিয়েছে চক্রটি। মাঠপর্যায়ে এই নাটক বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ শফিউল্লাহকে। তার কাজ হলো রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে দুর্গম অঞ্চলে ছদ্মবেশী ‘প্রশিক্ষণ’-এর ভিডিও ধারণ করা। তবে শফিউল্লাহ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান বিএনপি সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে দুর্বল ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই চক্রান্ত করা হচ্ছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘কলেমার পতাকা’ উত্তোলনের যে হিড়িক দেখা গেছে, তা মূলত সরল ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে আন্তর্জাতিক মহলে ভিন্ন বার্তা দেওয়ার এই বড় ষড়যন্ত্রেরই অংশ। কক্সবাজার বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা এবং সীমান্ত ব্যবহার করে কোনো গোষ্ঠী যেন দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের কোনো অপচেষ্টা বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের মিথ্যা নাটক সাজানো হলে তা অত্যন্ত কঠোরভাবে দমন করা হবে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো দেশকে কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার জন্য ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ বা বানোয়াট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নাটক সাজানো একটি অত্যন্ত পুরোনো ও বিপজ্জনক কৌশল। কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের মতো ভূ-কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এলাকাকে এই কাজের জন্য বেছে নেওয়াটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় রেড অ্যালার্ট। গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আকস্মিক রদবদলের সুযোগ নিয়ে যদি কোনো পক্ষ রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে এমন ভুয়া ভিডিও বা প্রোপাগান্ডা ছড়াতে সফল হয়, তবে তা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তির অপূরণীয় ক্ষতি করবে। এই ধরনের প্রোপাগান্ডা রুখতে কেবল মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারিই যথেষ্ট নয়, বরং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোতেও বাংলাদেশের সঠিক অবস্থান ও তথ্য দ্রুততার সাথে তুলে ধরা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


বাংলাদেশকে কথিত ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ প্রমাণে বিদেশি গোয়েন্দা ও আ.লীগের নীলনকশা

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করে আন্তর্জাতিক মহলে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসেবে চিত্রায়িত করার একটি বিপজ্জনক নীলনকশা ও চক্রান্তের খবর সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রত্যক্ষ মদদে এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের যোগসাজশে কক্সবাজারের মিয়ানমার সীমান্ত এবং বান্দরবানের দুর্গম পার্বত্য এলাকাকে কেন্দ্র করে এই চক্রান্তের স্ক্রিপ্ট সাজানো হয়েছে।

নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত স্বাধীনতাকামী একটি সশস্ত্র সংগঠনের শাখা বাংলাদেশে সক্রিয় রয়েছে—বিশ্বের কাছে এই সাজানো অপতথ্য (ডিজইনফরমেশন) প্রতিষ্ঠা করাই এই চক্রের মূল লক্ষ্য। চরম রাষ্ট্রবিরোধী এই পরিকল্পনায় দেশীয় সহযোগী হিসেবে পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। সম্প্রতি অনলাইনে অনুষ্ঠিত এক গোপন বৈঠকে গাজীপুরের সাবেক বিতর্কিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এই ‘নাটক’ সফল করতে প্রয়োজনীয় সব অর্থ একাই জোগান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকেও অবগত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা থেকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং ডিজিএফআইয়ের সব কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি এবং মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়কসহ ৬০০ জন সদস্যকে প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটে। সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চলে এই সাময়িক শূন্যতাকেই ষড়যন্ত্রের ‘সুবর্ণ সুযোগ’ হিসেবে বেছে নিয়েছে চক্রটি। মাঠপর্যায়ে এই নাটক বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ শফিউল্লাহকে। তার কাজ হলো রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে দুর্গম অঞ্চলে ছদ্মবেশী ‘প্রশিক্ষণ’-এর ভিডিও ধারণ করা। তবে শফিউল্লাহ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান বিএনপি সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে দুর্বল ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই চক্রান্ত করা হচ্ছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘কলেমার পতাকা’ উত্তোলনের যে হিড়িক দেখা গেছে, তা মূলত সরল ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে আন্তর্জাতিক মহলে ভিন্ন বার্তা দেওয়ার এই বড় ষড়যন্ত্রেরই অংশ। কক্সবাজার বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা এবং সীমান্ত ব্যবহার করে কোনো গোষ্ঠী যেন দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের কোনো অপচেষ্টা বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের মিথ্যা নাটক সাজানো হলে তা অত্যন্ত কঠোরভাবে দমন করা হবে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো দেশকে কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার জন্য ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ বা বানোয়াট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নাটক সাজানো একটি অত্যন্ত পুরোনো ও বিপজ্জনক কৌশল। কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের মতো ভূ-কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এলাকাকে এই কাজের জন্য বেছে নেওয়াটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় রেড অ্যালার্ট। গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আকস্মিক রদবদলের সুযোগ নিয়ে যদি কোনো পক্ষ রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে এমন ভুয়া ভিডিও বা প্রোপাগান্ডা ছড়াতে সফল হয়, তবে তা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তির অপূরণীয় ক্ষতি করবে। এই ধরনের প্রোপাগান্ডা রুখতে কেবল মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারিই যথেষ্ট নয়, বরং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোতেও বাংলাদেশের সঠিক অবস্থান ও তথ্য দ্রুততার সাথে তুলে ধরা প্রয়োজন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল