মধ্যপ্রাচ্যের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইরানের ব্যাপারে নিজেদের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। আগের কট্টর অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি এখন তেহরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের মেয়াদে রিয়াদ ওয়াশিংটনকে ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) প্রয়োগের জন্য ক্রমাগত অনুরোধ করত, যাতে তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব ও অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া যায়। তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের ওলটপালট ঘটার পর ক্রাউন প্রিন্স তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেন। তীব্র উত্তেজনার মুখে তিনি প্রথমে দুই পক্ষকেই যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান এবং বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ইরানের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সৌদির এই সুর নরম করার পেছনে রয়েছে তাদের অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’। এই মেগা প্রজেক্টগুলো সফল করতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ টানতে সৌদি আরবের জন্য একটি শান্ত ও যুদ্ধমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। ওয়াশিংটনের পরিবর্তনশীল মধ্যপ্রাচ্য নীতির ওপর পুরোপুরি ভরসা না করে, রিয়াদ এখন সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসে নিজেদের সীমানা ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার কৌশল নিয়েছে।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের এই ইউ-টার্ন মূলত বাস্তবসম্মত রাজনীতির (Realpolitik) একটি বড় উদাহরণ। রিয়াদ বুঝতে পেরেছে যে ইরানের সাথে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের চড়া মূল্য দিতে হবে তাদের নিজেদের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে। আমেরিকার সামরিক ছত্রছায়ায় থাকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, সৌদি আরব এখন নিজেই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। একদিকে ওয়াশিংটনের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা, অন্যদিকে বেইজিং ও তেহরানের সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে এমবিএস মূলত মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের একক আধিপত্য ও সার্বভৌম স্বার্থ নিশ্চিত করছেন।

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইরানের ব্যাপারে নিজেদের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। আগের কট্টর অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি এখন তেহরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের মেয়াদে রিয়াদ ওয়াশিংটনকে ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) প্রয়োগের জন্য ক্রমাগত অনুরোধ করত, যাতে তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব ও অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া যায়। তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের ওলটপালট ঘটার পর ক্রাউন প্রিন্স তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেন। তীব্র উত্তেজনার মুখে তিনি প্রথমে দুই পক্ষকেই যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান এবং বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ইরানের সাথে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সৌদির এই সুর নরম করার পেছনে রয়েছে তাদের অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’। এই মেগা প্রজেক্টগুলো সফল করতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ টানতে সৌদি আরবের জন্য একটি শান্ত ও যুদ্ধমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। ওয়াশিংটনের পরিবর্তনশীল মধ্যপ্রাচ্য নীতির ওপর পুরোপুরি ভরসা না করে, রিয়াদ এখন সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসে নিজেদের সীমানা ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার কৌশল নিয়েছে।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের এই ইউ-টার্ন মূলত বাস্তবসম্মত রাজনীতির (Realpolitik) একটি বড় উদাহরণ। রিয়াদ বুঝতে পেরেছে যে ইরানের সাথে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের চড়া মূল্য দিতে হবে তাদের নিজেদের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে। আমেরিকার সামরিক ছত্রছায়ায় থাকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, সৌদি আরব এখন নিজেই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। একদিকে ওয়াশিংটনের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা, অন্যদিকে বেইজিং ও তেহরানের সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে এমবিএস মূলত মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের একক আধিপত্য ও সার্বভৌম স্বার্থ নিশ্চিত করছেন।

আপনার মতামত লিখুন