দিকপাল

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল, সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত মেয়র মামদানির


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ | ০১:৪৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল, সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত মেয়র মামদানির

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে দেশটিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বহাল রেখেছে. একই সাথে বৈধ কাগজপত্রবিহীন কিংবা অস্থায়ী ভিসাধারী অভিবাসী বাবা-মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা বিতর্কিত নির্বাহী আদেশটি বাতিল ঘোষণা করেছে আদালত. সুপ্রিম কোর্টের এই যুগান্তকারী রায়কে স্বাগত জানিয়ে এক আবেগঘন বিবৃতি দিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি।

গত ৩০ জুন দেওয়া এক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় মূলত মার্কিন সংবিধানে দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় আগে অন্তর্ভুক্ত হওয়া একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতিকেই পুনর্ব্যক্ত করেছে—যা স্পষ্ট করে যে, যে কেউ আমেরিকার মাটিতে জন্ম নিলে সে একজন পূর্ণাঙ্গ মার্কিন নাগরিক. নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির ত্বকের রঙ, বাবা-মায়ের জন্মস্থান, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা সে বাড়িতে কোন ভাষায় কথা বলে—এসব বিষয় কোনো ধরনের প্রভাব ফেলে না এবং ফেলতে পারে না।

মেয়র মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, এই বিষয়টি আসলে কখনোই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ছিল না. ফেডারেল প্রশাসন মূলত সংবিধানের অন্যতম স্পষ্ট একটি নিশ্চয়তাকে পরিবর্তন করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল, যাতে তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে নির্ধারণ করতে পারে কে এই দেশের অন্তর্ভুক্ত আর কে নয়. আজ সুপ্রিম কোর্ট তাদের সেই সংকীর্ণ রাজনৈতিক প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

নিউইয়র্ক সিটির উদাহরণ টেনে মেয়র আরও বলেন, এই শহরটি নিজেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের শক্তির এক জীবন্ত উদাহরণ. অভিবাসী পরিবারের সন্তানেরাই আজ এই শহরের শিক্ষক, নার্স, নির্মাণ শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিল্পী ও সরকারি কর্মচারী হিসেবে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অবদান রাখছেন।

শহরের পাঁচটি বরোতে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর উদ্দেশ্যে মেয়র মামদানি স্পষ্ট আশ্বস্ত করে বলেন, "আপনারা এবং আপনাদের সন্তানেরা এই শহরেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ. কোনো আদালত আপনাদের মানবিক মর্যাদা কেড়ে নিতে পারে না এবং কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডাও এই সত্যকে পরিবর্তন করতে পারবে না যে, এই দেশের বৈচিত্র্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি". তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন যে, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তাঁর শহর সর্বদা অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা করবে এবং তাদের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে পাশে থাকবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কট্টর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রের বহুমাত্রিক সংস্কৃতির একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্কের মতো মেগাসিটিগুলো, যা বহুলাংশে অভিবাসীদের শ্রম ও মেধার ওপর নির্ভরশীল, সেখানে এই রায় এক স্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, চতুর্দশ সংশোধনীর (14th Amendment) আলোকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের যে আইনি সুরক্ষা মার্কিন সংবিধানে রয়েছে, তা নির্বাহী আদেশ দিয়ে রদ করার চেষ্টা ছিল অসাংবিধানিক। আদালতের এই কঠোর অবস্থানের ফলে নির্বাচনী বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী প্রচারণায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগল, যা আগামী দিনে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে আরও মেরুকরণের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল, সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত মেয়র মামদানির

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে দেশটিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বহাল রেখেছে. একই সাথে বৈধ কাগজপত্রবিহীন কিংবা অস্থায়ী ভিসাধারী অভিবাসী বাবা-মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা বিতর্কিত নির্বাহী আদেশটি বাতিল ঘোষণা করেছে আদালত. সুপ্রিম কোর্টের এই যুগান্তকারী রায়কে স্বাগত জানিয়ে এক আবেগঘন বিবৃতি দিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি।

গত ৩০ জুন দেওয়া এক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় মূলত মার্কিন সংবিধানে দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় আগে অন্তর্ভুক্ত হওয়া একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতিকেই পুনর্ব্যক্ত করেছে—যা স্পষ্ট করে যে, যে কেউ আমেরিকার মাটিতে জন্ম নিলে সে একজন পূর্ণাঙ্গ মার্কিন নাগরিক. নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির ত্বকের রঙ, বাবা-মায়ের জন্মস্থান, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা সে বাড়িতে কোন ভাষায় কথা বলে—এসব বিষয় কোনো ধরনের প্রভাব ফেলে না এবং ফেলতে পারে না।

মেয়র মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, এই বিষয়টি আসলে কখনোই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ছিল না. ফেডারেল প্রশাসন মূলত সংবিধানের অন্যতম স্পষ্ট একটি নিশ্চয়তাকে পরিবর্তন করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল, যাতে তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে নির্ধারণ করতে পারে কে এই দেশের অন্তর্ভুক্ত আর কে নয়. আজ সুপ্রিম কোর্ট তাদের সেই সংকীর্ণ রাজনৈতিক প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

নিউইয়র্ক সিটির উদাহরণ টেনে মেয়র আরও বলেন, এই শহরটি নিজেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের শক্তির এক জীবন্ত উদাহরণ. অভিবাসী পরিবারের সন্তানেরাই আজ এই শহরের শিক্ষক, নার্স, নির্মাণ শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিল্পী ও সরকারি কর্মচারী হিসেবে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অবদান রাখছেন।

শহরের পাঁচটি বরোতে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর উদ্দেশ্যে মেয়র মামদানি স্পষ্ট আশ্বস্ত করে বলেন, "আপনারা এবং আপনাদের সন্তানেরা এই শহরেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ. কোনো আদালত আপনাদের মানবিক মর্যাদা কেড়ে নিতে পারে না এবং কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডাও এই সত্যকে পরিবর্তন করতে পারবে না যে, এই দেশের বৈচিত্র্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি". তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন যে, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তাঁর শহর সর্বদা অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা করবে এবং তাদের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে পাশে থাকবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কট্টর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রের বহুমাত্রিক সংস্কৃতির একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্কের মতো মেগাসিটিগুলো, যা বহুলাংশে অভিবাসীদের শ্রম ও মেধার ওপর নির্ভরশীল, সেখানে এই রায় এক স্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, চতুর্দশ সংশোধনীর (14th Amendment) আলোকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের যে আইনি সুরক্ষা মার্কিন সংবিধানে রয়েছে, তা নির্বাহী আদেশ দিয়ে রদ করার চেষ্টা ছিল অসাংবিধানিক। আদালতের এই কঠোর অবস্থানের ফলে নির্বাচনী বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী প্রচারণায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগল, যা আগামী দিনে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে আরও মেরুকরণের দিকে নিয়ে যেতে পারে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল