দিকপাল

খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় যোগ দিতে তেহরানের পথে স্পিকার


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৬ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় যোগ দিতে তেহরানের পথে স্পিকার

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নিতে তেহরানের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইরানের রাজধানী তেহরানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান স্পিকারের তেহরান যাত্রার এই বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে (২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর একটি যৌথ হামলায় ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আধুনিক ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী এই নেতার জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠানে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ গণজমায়েত হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আগামী ৪ জুলাই থেকে তেহরান এবং পবিত্র নগরী কোমে খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানে অবস্থিত তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে। জানাজায় অংশগ্রহণ ও রাষ্ট্রীয় শোক প্রকাশ শেষে আগামী ৪ জুলাই স্পিকারের দেশে ফিরে আসার কথা রয়েছে।

১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল মাশহাদে জন্মগ্রহণ করা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইরানি ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির আধুনিক শাসনব্যবস্থা গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮০ সালে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং পরবর্তীতে ইরান-ইরাক যুদ্ধের কঠিন সময়ে ইরানের সফল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৮৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (Assembly of Experts) তাকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে, এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৭ বছর তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় ক্ষমতার মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনির নিহতের ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্য তথা বৈশ্বিক রাজনীতির সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। খামেনির মতো একজন প্রভাবশালী নেতার বিদায়ের পর ইরানের অন্দরে ও পুরো অঞ্চলের প্রতিরোধ অক্ষের (Axis of Resistance) নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নিয়ে চরম উত্তেজনা চলছে। এই চরম সংকটের মুহূর্তে বাংলাদেশের নবগঠিত সংসদের স্পিকারের তেহরান সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধু একটি রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশগ্রহণ নয়, বরং এর মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান শক্তি ইরানের সাথে কূটনৈতিক সুসম্পর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার একটি স্পষ্ট বার্তা দিল।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় যোগ দিতে তেহরানের পথে স্পিকার

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নিতে তেহরানের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইরানের রাজধানী তেহরানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান স্পিকারের তেহরান যাত্রার এই বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে (২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর একটি যৌথ হামলায় ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আধুনিক ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী এই নেতার জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠানে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ গণজমায়েত হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আগামী ৪ জুলাই থেকে তেহরান এবং পবিত্র নগরী কোমে খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানে অবস্থিত তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে। জানাজায় অংশগ্রহণ ও রাষ্ট্রীয় শোক প্রকাশ শেষে আগামী ৪ জুলাই স্পিকারের দেশে ফিরে আসার কথা রয়েছে।

১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল মাশহাদে জন্মগ্রহণ করা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইরানি ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির আধুনিক শাসনব্যবস্থা গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮০ সালে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং পরবর্তীতে ইরান-ইরাক যুদ্ধের কঠিন সময়ে ইরানের সফল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৮৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (Assembly of Experts) তাকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে, এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৭ বছর তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় ক্ষমতার মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনির নিহতের ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্য তথা বৈশ্বিক রাজনীতির সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। খামেনির মতো একজন প্রভাবশালী নেতার বিদায়ের পর ইরানের অন্দরে ও পুরো অঞ্চলের প্রতিরোধ অক্ষের (Axis of Resistance) নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নিয়ে চরম উত্তেজনা চলছে। এই চরম সংকটের মুহূর্তে বাংলাদেশের নবগঠিত সংসদের স্পিকারের তেহরান সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধু একটি রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশগ্রহণ নয়, বরং এর মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান শক্তি ইরানের সাথে কূটনৈতিক সুসম্পর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার একটি স্পষ্ট বার্তা দিল।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল