দেশে এমন একটি আইন রয়েছে, যা এখন কার্যত বিস্মৃত। ১৯৮৪ সালে জারি হওয়া ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আদেশ’ (দ্য গেস্ট কন্ট্রোল অর্ডার, ১৯৮৪) অনুযায়ী, বিয়ে, জন্মদিন, আকিকা কিংবা অন্যান্য সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে আয়োজক পরিবার বাদে ১০০ জনের বেশি অতিথিকে চাল বা গমের তৈরি খাবার পরিবেশন করা যায় না।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম অতিরিক্ত জাঁকজমক ও অপচয় রোধে এই আইন পুনরায় কার্যকর করার আহ্বান জানালে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
১৯৫৬ সালের ‘দ্য কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট’-এর ৩(১) ধারার ক্ষমতাবলে ১৯৮৪ সালের ৩ জুলাই তৎকালীন খাদ্য মন্ত্রণালয় এই আদেশ জারি করে। খাদ্য অপচয় রোধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়।
আইন অনুযায়ী, কোনো অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি অতিথি আপ্যায়ন করতে হলে আগে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমতি নিতে হবে। একই সঙ্গে ১০০ জনের অতিরিক্ত প্রতিটি অতিথির জন্য সরকারি কোষাগারে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জনপ্রতি ২৫ টাকা ফি জমা দিতে হবে। শুরুতে এই ফি ছিল ১০ টাকা, পরে তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়।
নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক, পুলিশের গেজেটেড কর্মকর্তা কিংবা জেলা প্রশাসক বা ইউএনও কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তাদের অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ, পরিদর্শন ও তল্লাশির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এই আদেশ লঙ্ঘন করলে ১৯৫৬ সালের মূল আইনের আওতায় তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের আয়োজক এবং অনুষ্ঠানস্থলের মালিক—উভয়ের বিরুদ্ধে জরিমানা এবং প্রয়োজনে কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
যদিও আদেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়নি, দীর্ঘদিন ধরে এর কার্যকর প্রয়োগ নেই। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন হল ও রেস্তোরাঁয় শত শত অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান হলেও প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া কিংবা অতিরিক্ত অতিথির জন্য সরকারি ফি জমা দেওয়ার বিধান বাস্তবে আর অনুসরণ করা হয় না।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের সংশোধনীতে মিলাদ মাহফিল, ইফতার, কুলখানি, চেহলাম, ওরস ও শ্রাদ্ধের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোকে এই আদেশের আওতার বাইরে রাখা হয়।

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
দেশে এমন একটি আইন রয়েছে, যা এখন কার্যত বিস্মৃত। ১৯৮৪ সালে জারি হওয়া ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আদেশ’ (দ্য গেস্ট কন্ট্রোল অর্ডার, ১৯৮৪) অনুযায়ী, বিয়ে, জন্মদিন, আকিকা কিংবা অন্যান্য সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে আয়োজক পরিবার বাদে ১০০ জনের বেশি অতিথিকে চাল বা গমের তৈরি খাবার পরিবেশন করা যায় না।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম অতিরিক্ত জাঁকজমক ও অপচয় রোধে এই আইন পুনরায় কার্যকর করার আহ্বান জানালে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
১৯৫৬ সালের ‘দ্য কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট’-এর ৩(১) ধারার ক্ষমতাবলে ১৯৮৪ সালের ৩ জুলাই তৎকালীন খাদ্য মন্ত্রণালয় এই আদেশ জারি করে। খাদ্য অপচয় রোধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়।
আইন অনুযায়ী, কোনো অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি অতিথি আপ্যায়ন করতে হলে আগে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমতি নিতে হবে। একই সঙ্গে ১০০ জনের অতিরিক্ত প্রতিটি অতিথির জন্য সরকারি কোষাগারে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জনপ্রতি ২৫ টাকা ফি জমা দিতে হবে। শুরুতে এই ফি ছিল ১০ টাকা, পরে তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়।
নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক, পুলিশের গেজেটেড কর্মকর্তা কিংবা জেলা প্রশাসক বা ইউএনও কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তাদের অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ, পরিদর্শন ও তল্লাশির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এই আদেশ লঙ্ঘন করলে ১৯৫৬ সালের মূল আইনের আওতায় তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের আয়োজক এবং অনুষ্ঠানস্থলের মালিক—উভয়ের বিরুদ্ধে জরিমানা এবং প্রয়োজনে কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
যদিও আদেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়নি, দীর্ঘদিন ধরে এর কার্যকর প্রয়োগ নেই। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন হল ও রেস্তোরাঁয় শত শত অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান হলেও প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া কিংবা অতিরিক্ত অতিথির জন্য সরকারি ফি জমা দেওয়ার বিধান বাস্তবে আর অনুসরণ করা হয় না।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের সংশোধনীতে মিলাদ মাহফিল, ইফতার, কুলখানি, চেহলাম, ওরস ও শ্রাদ্ধের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোকে এই আদেশের আওতার বাইরে রাখা হয়।

আপনার মতামত লিখুন