জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ও সেই সময়ের ঘটনাবলি নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সামনে দেওয়া তার রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্যের অনুলিপি থেকে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিতর্ক নিয়ে গেটস প্রথমবারের মতো এতটা খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, যদিও এপস্টাইনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো অনৈতিক ঘটনার সাক্ষী ছিলেন না, তবে পরোক্ষভাবে ভুক্তভোগীদের উপস্থিতিতে তার থাকার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ক্যাপিটল হিলে দেওয়া সাক্ষ্যে বিল গেটস স্পষ্ট করেছেন, এপস্টাইনের সঙ্গে তার যে তিন বছরের ব্যবসায়িক যোগাযোগ ছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ পেশাদার উদ্দেশ্য প্রণোদিত। মূলত বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে বড় অংকের তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যেই তিনি সেই সময়ে এপস্টাইনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে এখন গেটস মনে করেন, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধীর সঙ্গে এই পেশাদার সম্পর্ক রাখা ছিল তার জীবনের অন্যতম বড় ভুল সিদ্ধান্ত। এই ভুলের জন্য তিনি গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন।
তদন্ত কমিটির প্রশ্নের মুখে গেটস ব্যাখ্যা করেন, এপস্টাইনের উড়োজাহাজে বিভিন্ন বৈঠকের শেষে তিনি কয়েকজন নারী কর্মীকে সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখেছিলেন। কমিটির ডেমোক্রেটিক সদস্য রবার্ট গার্সিয়া যখন তাকে মনে করিয়ে দেন যে, এপস্টাইনের অনেক কর্মচারীকেও তার শিকার হতে হয়েছিল, তখন গেটস স্বীকার করেন যে ওই সময়ে হয়তো তিনি অজান্তেই ভুক্তভোগীদের আশেপাশে ছিলেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার উপস্থিতিতে সেখানে কোনো ধরনের অনৈতিক বা নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি।
এই সাক্ষ্য থেকে আরও জানা যায়, এপস্টাইন এক পর্যায়ে বিল গেটসকে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করেছিলেন। গেটসের ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা ব্যবহার করে তিনি সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালান। ২০১৪ সালে গেটস সব ধরনের যোগাযোগ ছিন্ন করার পর, এপস্টাইন ক্ষিপ্ত হয়ে ইমেইলের মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন, যা গেটস কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এছাড়া এপস্টাইনের ব্যক্তিগত নথিপত্রে গেটসের বিরুদ্ধে যে গুরুতর ও আপত্তিকর অভিযোগগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলোকে বিল গেটস সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা দাবি করে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তদন্তের স্বার্থে এপস্টাইনের দীর্ঘদিনের সহযোগী লেসলি গ্রফের সাক্ষ্যও সামনে এসেছে। গ্রফ তার সাবেক বসকে একজন অত্যন্ত চতুর ও ধূর্ত ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এপস্টাইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তার তেমন কিছু জানা ছিল না। গ্রফ আরও জানিয়েছেন যে, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টাইনের ফোনালাপ করিয়ে দিতেন, যদিও তাদের মধ্যে কী বিষয়ে আলোচনা হতো তা তিনি জানতেন না। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই এপস্টাইনের কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে আসছেন। ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে এপস্টাইনের ম্যাসাজ ও দৈনন্দিন সূচি তদারকি করা সত্ত্বেও গ্রফের এই অজ্ঞতার দাবি ভুক্তভোগীসহ অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। এপস্টাইনের এই বিশাল অন্ধকার নেটওয়ার্কের গভীরে আর কী কী রহস্য লুকিয়ে আছে, তা উন্মোচনে মার্কিন কংগ্রেস বর্তমানে তাদের তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে।
সূত্র: সিএনএন

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ও সেই সময়ের ঘটনাবলি নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সামনে দেওয়া তার রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্যের অনুলিপি থেকে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিতর্ক নিয়ে গেটস প্রথমবারের মতো এতটা খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, যদিও এপস্টাইনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো অনৈতিক ঘটনার সাক্ষী ছিলেন না, তবে পরোক্ষভাবে ভুক্তভোগীদের উপস্থিতিতে তার থাকার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ক্যাপিটল হিলে দেওয়া সাক্ষ্যে বিল গেটস স্পষ্ট করেছেন, এপস্টাইনের সঙ্গে তার যে তিন বছরের ব্যবসায়িক যোগাযোগ ছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ পেশাদার উদ্দেশ্য প্রণোদিত। মূলত বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে বড় অংকের তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যেই তিনি সেই সময়ে এপস্টাইনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে এখন গেটস মনে করেন, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধীর সঙ্গে এই পেশাদার সম্পর্ক রাখা ছিল তার জীবনের অন্যতম বড় ভুল সিদ্ধান্ত। এই ভুলের জন্য তিনি গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন।
তদন্ত কমিটির প্রশ্নের মুখে গেটস ব্যাখ্যা করেন, এপস্টাইনের উড়োজাহাজে বিভিন্ন বৈঠকের শেষে তিনি কয়েকজন নারী কর্মীকে সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখেছিলেন। কমিটির ডেমোক্রেটিক সদস্য রবার্ট গার্সিয়া যখন তাকে মনে করিয়ে দেন যে, এপস্টাইনের অনেক কর্মচারীকেও তার শিকার হতে হয়েছিল, তখন গেটস স্বীকার করেন যে ওই সময়ে হয়তো তিনি অজান্তেই ভুক্তভোগীদের আশেপাশে ছিলেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার উপস্থিতিতে সেখানে কোনো ধরনের অনৈতিক বা নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি।
এই সাক্ষ্য থেকে আরও জানা যায়, এপস্টাইন এক পর্যায়ে বিল গেটসকে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করেছিলেন। গেটসের ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা ব্যবহার করে তিনি সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালান। ২০১৪ সালে গেটস সব ধরনের যোগাযোগ ছিন্ন করার পর, এপস্টাইন ক্ষিপ্ত হয়ে ইমেইলের মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন, যা গেটস কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এছাড়া এপস্টাইনের ব্যক্তিগত নথিপত্রে গেটসের বিরুদ্ধে যে গুরুতর ও আপত্তিকর অভিযোগগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলোকে বিল গেটস সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা দাবি করে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তদন্তের স্বার্থে এপস্টাইনের দীর্ঘদিনের সহযোগী লেসলি গ্রফের সাক্ষ্যও সামনে এসেছে। গ্রফ তার সাবেক বসকে একজন অত্যন্ত চতুর ও ধূর্ত ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এপস্টাইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তার তেমন কিছু জানা ছিল না। গ্রফ আরও জানিয়েছেন যে, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টাইনের ফোনালাপ করিয়ে দিতেন, যদিও তাদের মধ্যে কী বিষয়ে আলোচনা হতো তা তিনি জানতেন না। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই এপস্টাইনের কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে আসছেন। ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে এপস্টাইনের ম্যাসাজ ও দৈনন্দিন সূচি তদারকি করা সত্ত্বেও গ্রফের এই অজ্ঞতার দাবি ভুক্তভোগীসহ অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। এপস্টাইনের এই বিশাল অন্ধকার নেটওয়ার্কের গভীরে আর কী কী রহস্য লুকিয়ে আছে, তা উন্মোচনে মার্কিন কংগ্রেস বর্তমানে তাদের তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে।
সূত্র: সিএনএন

আপনার মতামত লিখুন