দিকপাল

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি চালু


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ | ০১:৪৪ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি চালু

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অগণিত শিক্ষার্থী পাড়ি জমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি সেখানে বসবাসের নিয়মকানুন বা ভিসা নীতি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ও বসবাসের নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। হোয়াইট হাউজ দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রস্তাবিত নতুন এই নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা উন্মুক্ত মেয়াদের ভিসা ব্যবস্থা বাতিল করতে যাচ্ছে।

নতুন এই নিয়মের ফলে শিক্ষার্থীরা এখন থেকে আর অনির্দিষ্টকালের জন্য বা কোর্সের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত খোলা মেয়াদের ভিসায় দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন না। এর পরিবর্তে প্রতিটি ভিসার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যারা এফ-ওয়ান বা শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবেন, তারা সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত বৈধভাবে দেশটিতে থাকার অনুমতি পাবেন। যদি কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাক্রম চার বছরের বেশি হয়, তবে বাড়তি সময়ের জন্য তাকে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ নথিপত্রসহ আবেদন করতে হবে এবং বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।

এই পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীদের বর্তমান বসবাসের অধিকারের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। আগে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কোর্স সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিন্তে থাকতে পারতেন, কিন্তু নতুন নিয়মে ভিসার নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়নের জন্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে। কোর্স চলাকালীন পড়াশোনার ক্ষেত্র বা প্রোগ্রাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীকে একটি স্তরের পড়াশোনা সফলভাবে শেষ করার পরেই উচ্চতর স্তরে ভর্তির সুযোগ নিতে হবে; একই বা নিম্ন স্তরে প্রোগ্রাম পরিবর্তনের সুবিধা আর থাকছে না। এছাড়া পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীদের হাতে এতদিন ৬০ দিনের সময় বরাদ্দ থাকলেও, নতুন বিধিমালার অধীনে তা কমিয়ে মাত্র ৩০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই প্রস্তাবিত নীতিমালা নিয়ে উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, নতুন এই নিয়ম প্রশাসনিক জটিলতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে। শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি সম্পন্ন করার প্রক্রিয়ায় এটি বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী পিএইচডি বা দীর্ঘমেয়াদী গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন, তাদের জন্য প্রতি চার বছর অন্তর ভিসা নবায়ন করা এবং নতুন করে অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি বেশ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গবেষণার কাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভিসা কাঠামোতে যে স্বাধীনতা ছিল, নতুন নিয়মে তা অনেকটা সংকুচিত হয়ে আসছে। প্রশাসন হয়তো ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত করতে চাইছে, কিন্তু শিক্ষাবিদদের মতে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আমেরিকাকে কম আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এই নিয়ম বাস্তবায়নের সময় শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে যারা গবেষণার কাজে নিয়োজিত, তাদের জন্য কোনো বিশেষ ছাড় বা সহজতর প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা রাখে কি না। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে এই নতুন নীতি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এখন থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের ভিসার মেয়াদ ও নবায়নের বিষয়টিকেও বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি চালু

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬

featured Image

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অগণিত শিক্ষার্থী পাড়ি জমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি সেখানে বসবাসের নিয়মকানুন বা ভিসা নীতি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ও বসবাসের নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। হোয়াইট হাউজ দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রস্তাবিত নতুন এই নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা উন্মুক্ত মেয়াদের ভিসা ব্যবস্থা বাতিল করতে যাচ্ছে।

নতুন এই নিয়মের ফলে শিক্ষার্থীরা এখন থেকে আর অনির্দিষ্টকালের জন্য বা কোর্সের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত খোলা মেয়াদের ভিসায় দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন না। এর পরিবর্তে প্রতিটি ভিসার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যারা এফ-ওয়ান বা শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবেন, তারা সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত বৈধভাবে দেশটিতে থাকার অনুমতি পাবেন। যদি কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাক্রম চার বছরের বেশি হয়, তবে বাড়তি সময়ের জন্য তাকে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ নথিপত্রসহ আবেদন করতে হবে এবং বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।

এই পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীদের বর্তমান বসবাসের অধিকারের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। আগে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কোর্স সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিন্তে থাকতে পারতেন, কিন্তু নতুন নিয়মে ভিসার নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়নের জন্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে। কোর্স চলাকালীন পড়াশোনার ক্ষেত্র বা প্রোগ্রাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীকে একটি স্তরের পড়াশোনা সফলভাবে শেষ করার পরেই উচ্চতর স্তরে ভর্তির সুযোগ নিতে হবে; একই বা নিম্ন স্তরে প্রোগ্রাম পরিবর্তনের সুবিধা আর থাকছে না। এছাড়া পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীদের হাতে এতদিন ৬০ দিনের সময় বরাদ্দ থাকলেও, নতুন বিধিমালার অধীনে তা কমিয়ে মাত্র ৩০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই প্রস্তাবিত নীতিমালা নিয়ে উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, নতুন এই নিয়ম প্রশাসনিক জটিলতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে। শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি সম্পন্ন করার প্রক্রিয়ায় এটি বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী পিএইচডি বা দীর্ঘমেয়াদী গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন, তাদের জন্য প্রতি চার বছর অন্তর ভিসা নবায়ন করা এবং নতুন করে অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি বেশ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গবেষণার কাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভিসা কাঠামোতে যে স্বাধীনতা ছিল, নতুন নিয়মে তা অনেকটা সংকুচিত হয়ে আসছে। প্রশাসন হয়তো ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত করতে চাইছে, কিন্তু শিক্ষাবিদদের মতে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আমেরিকাকে কম আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এই নিয়ম বাস্তবায়নের সময় শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে যারা গবেষণার কাজে নিয়োজিত, তাদের জন্য কোনো বিশেষ ছাড় বা সহজতর প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা রাখে কি না। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে এই নতুন নীতি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এখন থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের ভিসার মেয়াদ ও নবায়নের বিষয়টিকেও বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল