দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ১৩৫ জন। এর মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১২৬ জনের শরীরে এবং বাকি ১ হাজার ৯ জনের শরীরে হামের মতো উপসর্গ দেখা গেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত অর্থাৎ বিগত ১০১ দিনে দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৬১ জনে। এই দীর্ঘ সময়ে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে ও এর বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৮৬টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মৃত শিশুদের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৯৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল। অন্যদিকে বাকি ৫৯৩ জন শিশু মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে ২৩ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে সন্দেহভাজন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ৯৪ হাজার ৭৬৪ জন। চিকিৎসকদের নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ২৯৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ৭৮ হাজার ৭১৬ জন রোগীকে। তবে আশার কথা হলো, সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৭৪ হাজার ৯৭১ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
এদিকে শেষ ২৪ ঘণ্টায় যে ৩টি শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে, তারা যথাক্রমে ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। অন্যদিকে, এই এক দিনে সন্দেহভাজন নতুন রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ১ দিনে ৪৫৩ জন নতুন রোগী পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৭৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু শনাক্ত করা গেছে।
আঞ্চলিক বা বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মহামারি রূপ নেওয়া এই রোগে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগ। এই বিভাগে সর্বোচ্চ ৩০৮ জন শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫৭ জনের হাম নিশ্চিত ছিল এবং ২৫১ জন মারা গেছে উপসর্গ নিয়ে। মৃত্যুর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাজশাহী বিভাগে মোট ৯০ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে, যাদের মধ্যে ২ জনের নিশ্চিত হাম ছিল। এছাড়া সিলেটে ৩ জন নিশ্চিতসহ মোট ৭৮ জন, চট্টগ্রামে ১০ জন নিশ্চিতসহ মোট ৬০ জন, বরিশালে ১৯ জন নিশ্চিতসহ ৫৮ জন এবং ময়মনসিংহে ২ জন নিশ্চিতসহ ৫৭ জন শিশু মারা গেছে। দেশের অন্য দুই বিভাগের মধ্যে খুলনায় হামের উপসর্গে ২৭ জন এবং রংপুর বিভাগে ৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চিকিৎসকেরা শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুত টিকা নেওয়ার এবং যেকোনো উপসর্গে অবহেলা না করে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ১৩৫ জন। এর মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১২৬ জনের শরীরে এবং বাকি ১ হাজার ৯ জনের শরীরে হামের মতো উপসর্গ দেখা গেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত অর্থাৎ বিগত ১০১ দিনে দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৬১ জনে। এই দীর্ঘ সময়ে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে ও এর বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৮৬টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মৃত শিশুদের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৯৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল। অন্যদিকে বাকি ৫৯৩ জন শিশু মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে ২৩ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে সন্দেহভাজন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ৯৪ হাজার ৭৬৪ জন। চিকিৎসকদের নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ২৯৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ৭৮ হাজার ৭১৬ জন রোগীকে। তবে আশার কথা হলো, সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৭৪ হাজার ৯৭১ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
এদিকে শেষ ২৪ ঘণ্টায় যে ৩টি শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে, তারা যথাক্রমে ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। অন্যদিকে, এই এক দিনে সন্দেহভাজন নতুন রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ১ দিনে ৪৫৩ জন নতুন রোগী পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৭৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু শনাক্ত করা গেছে।
আঞ্চলিক বা বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মহামারি রূপ নেওয়া এই রোগে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগ। এই বিভাগে সর্বোচ্চ ৩০৮ জন শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫৭ জনের হাম নিশ্চিত ছিল এবং ২৫১ জন মারা গেছে উপসর্গ নিয়ে। মৃত্যুর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাজশাহী বিভাগে মোট ৯০ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে, যাদের মধ্যে ২ জনের নিশ্চিত হাম ছিল। এছাড়া সিলেটে ৩ জন নিশ্চিতসহ মোট ৭৮ জন, চট্টগ্রামে ১০ জন নিশ্চিতসহ মোট ৬০ জন, বরিশালে ১৯ জন নিশ্চিতসহ ৫৮ জন এবং ময়মনসিংহে ২ জন নিশ্চিতসহ ৫৭ জন শিশু মারা গেছে। দেশের অন্য দুই বিভাগের মধ্যে খুলনায় হামের উপসর্গে ২৭ জন এবং রংপুর বিভাগে ৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চিকিৎসকেরা শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুত টিকা নেওয়ার এবং যেকোনো উপসর্গে অবহেলা না করে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন