দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে আগামীকাল রোববার বিকেলে মালয়েশিয়া ও চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছয় দিনের এই কূটনৈতিক সফরে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজার সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হবে। সফরকালে একাধিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ শনিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিস্তারিত সূচি ও লক্ষ্য তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, এই সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে।
সফরের প্রথম পর্বে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে রোববার বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। মালয়েশিয়া সফর শেষে সোমবার (২২ জুন) বিকেলে তিনি চীনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৩ থেকে ২৫ জুন লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত নিউ চ্যাম্পিয়নসের ১৭তম বার্ষিক সম্মেলন (সামার দাভোস ফোরাম)-এ অংশ নেবেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য “ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল”, যেখানে ৯০টিরও বেশি দেশের প্রায় ১,৭০০ প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে তার।
সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনায় থাকবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ বড় অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়।
উচ্চপর্যায়ের এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ২৭ থেকে ২৮ সদস্যের একটি ছোট প্রতিনিধি দল থাকছে। এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আগামী শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে দেশে ফিরবেন।
নতুন সরকার গঠনের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর হওয়ায় বিষয়টি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার পুনরায় সক্রিয় করা এবং চীনের সঙ্গে বৃহৎ অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করার ক্ষেত্রে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে আগামীকাল রোববার বিকেলে মালয়েশিয়া ও চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছয় দিনের এই কূটনৈতিক সফরে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজার সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হবে। সফরকালে একাধিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ শনিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিস্তারিত সূচি ও লক্ষ্য তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, এই সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে।
সফরের প্রথম পর্বে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে রোববার বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। মালয়েশিয়া সফর শেষে সোমবার (২২ জুন) বিকেলে তিনি চীনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৩ থেকে ২৫ জুন লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত নিউ চ্যাম্পিয়নসের ১৭তম বার্ষিক সম্মেলন (সামার দাভোস ফোরাম)-এ অংশ নেবেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য “ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল”, যেখানে ৯০টিরও বেশি দেশের প্রায় ১,৭০০ প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে তার।
সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনায় থাকবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ বড় অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়।
উচ্চপর্যায়ের এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ২৭ থেকে ২৮ সদস্যের একটি ছোট প্রতিনিধি দল থাকছে। এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আগামী শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে দেশে ফিরবেন।
নতুন সরকার গঠনের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর হওয়ায় বিষয়টি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার পুনরায় সক্রিয় করা এবং চীনের সঙ্গে বৃহৎ অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করার ক্ষেত্রে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন