দিকপাল

এআই চাকরি কমাবে না, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে: বেজোস


তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ | ০২:০২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

এআই চাকরি কমাবে না, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে: বেজোস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের কর্মসংস্থান কেড়ে নেবে—বিশ্বজুড়ে যখন এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে, তখন ঠিক তার উল্টো সুর শোনা গেল অ্যামাজনের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের কণ্ঠে। প্যারিসে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলনে তিনি দাবি করেছেন, এআই মানুষকে বেকার করবে না, বরং এর ফলে কাজের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে এবং শ্রমের চাহিদাও বহুগুণ বাড়বে। বেজোসের এই বক্তব্য বর্তমানে প্রচলিত অনেক প্রযুক্তিবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত।


বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বর্তমানে মাইক্রোসফট ও এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন, এআই তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বেজোস এই মতামতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, অনেক মেধাবী মানুষও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত যে এআই হয়তো মানুষকে কর্মহীন করে ফেলবে। কিন্তু বাস্তবে তিনি মনে করেন, এআইয়ের ব্যবহারের ফলে উল্টো শ্রমিকের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে যেসব বাধা রয়েছে, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তা দূর করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।


নিজের নতুন এআই উদ্যোগ প্রমিথিউস সম্পর্কে বলতে গিয়ে বেজোস জানান, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ভৌত উৎপাদন শিল্প বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতকে আরও গতিশীল করা। যদিও যুক্তরাজ্যের ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস সতর্ক করে বলেছে, এআই প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার শিল্পক্ষেত্রে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হলেও সাধারণ কর্মীরা কাজ হারাতে পারেন। তবে সঠিক নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এআইকে কাজে লাগাতে পারলে কর্মীরাও এর উৎপাদনশীলতার সুফল পেতে পারেন বলে তারা মন্তব্য করেছে।


প্রযুক্তি সম্মেলনের মূল মঞ্চে মহাকাশ অভিযান নিয়ে নিজের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বেজোস। মহাকাশকে তিনি এমন একটি ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন, যেখানে চাহিদা অনেক বেশি কিন্তু সেই তুলনায় সুযোগ সীমিত। তার মতে, পৃথিবীর বাইরে মানুষের বসতি গড়ার জন্য চাঁদই হতে পারে প্রথম ও প্রধান ধাপ। তিনি জানিয়েছেন, চাঁদে কেবল পর্যটন নয়, বরং স্থায়ীভাবে বসবাসের লক্ষ্য নিয়েই তারা কাজ করছেন। বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাঁদের সম্পদ থেকে রকেটের জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব হলে পৃথিবীর বাইরে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি নিশ্চিত হবে।


আলোচনার এক পর্যায়ে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। গত মে মাসে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষার সময় চালকহীন নিউ গ্লেন রকেট বিস্ফোরিত হওয়ায় কোম্পানিটি কিছুটা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। তবে সৌভাগ্যবশত সেই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বেজোস জানান, রকেট উৎক্ষেপণের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানি ব্যবস্থা অক্ষত থাকায় তারা বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে গেছেন। ব্লু অরিজিনের প্রধান নির্বাহী ডেভ লিম্প জানিয়েছেন, উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে পুনর্নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং এ বছরের শেষ নাগাদ নতুন উদ্যমে পুনরায় রকেট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।


বিশ্বের বাণিজ্যিক মহাকাশ ভ্রমণ ও চন্দ্রাভিযানের প্রতিযোগিতায় ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্লু অরিজিন নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। প্রযুক্তি সম্মেলনের এই আসরটি কেবল এআই বা মহাকাশ গবেষণার সম্ভাবনাই তুলে ধরেনি, বরং ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে মানুষ ও যন্ত্রের সহাবস্থানের একটি নতুন চিত্রও উন্মোচন করেছে। এআই এখন আর কেবল চ্যাটবটের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বাস্তব দুনিয়ার নানা কর্মকাণ্ডে মিশে গিয়ে মানুষের কর্মক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

সূত্র: বিবিসি।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


এআই চাকরি কমাবে না, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে: বেজোস

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের কর্মসংস্থান কেড়ে নেবে—বিশ্বজুড়ে যখন এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে, তখন ঠিক তার উল্টো সুর শোনা গেল অ্যামাজনের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের কণ্ঠে। প্যারিসে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলনে তিনি দাবি করেছেন, এআই মানুষকে বেকার করবে না, বরং এর ফলে কাজের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে এবং শ্রমের চাহিদাও বহুগুণ বাড়বে। বেজোসের এই বক্তব্য বর্তমানে প্রচলিত অনেক প্রযুক্তিবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত।


বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বর্তমানে মাইক্রোসফট ও এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন, এআই তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বেজোস এই মতামতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, অনেক মেধাবী মানুষও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত যে এআই হয়তো মানুষকে কর্মহীন করে ফেলবে। কিন্তু বাস্তবে তিনি মনে করেন, এআইয়ের ব্যবহারের ফলে উল্টো শ্রমিকের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে যেসব বাধা রয়েছে, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তা দূর করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।


নিজের নতুন এআই উদ্যোগ প্রমিথিউস সম্পর্কে বলতে গিয়ে বেজোস জানান, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ভৌত উৎপাদন শিল্প বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতকে আরও গতিশীল করা। যদিও যুক্তরাজ্যের ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস সতর্ক করে বলেছে, এআই প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার শিল্পক্ষেত্রে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হলেও সাধারণ কর্মীরা কাজ হারাতে পারেন। তবে সঠিক নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এআইকে কাজে লাগাতে পারলে কর্মীরাও এর উৎপাদনশীলতার সুফল পেতে পারেন বলে তারা মন্তব্য করেছে।


প্রযুক্তি সম্মেলনের মূল মঞ্চে মহাকাশ অভিযান নিয়ে নিজের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বেজোস। মহাকাশকে তিনি এমন একটি ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন, যেখানে চাহিদা অনেক বেশি কিন্তু সেই তুলনায় সুযোগ সীমিত। তার মতে, পৃথিবীর বাইরে মানুষের বসতি গড়ার জন্য চাঁদই হতে পারে প্রথম ও প্রধান ধাপ। তিনি জানিয়েছেন, চাঁদে কেবল পর্যটন নয়, বরং স্থায়ীভাবে বসবাসের লক্ষ্য নিয়েই তারা কাজ করছেন। বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাঁদের সম্পদ থেকে রকেটের জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব হলে পৃথিবীর বাইরে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি নিশ্চিত হবে।


আলোচনার এক পর্যায়ে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। গত মে মাসে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষার সময় চালকহীন নিউ গ্লেন রকেট বিস্ফোরিত হওয়ায় কোম্পানিটি কিছুটা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। তবে সৌভাগ্যবশত সেই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বেজোস জানান, রকেট উৎক্ষেপণের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানি ব্যবস্থা অক্ষত থাকায় তারা বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে গেছেন। ব্লু অরিজিনের প্রধান নির্বাহী ডেভ লিম্প জানিয়েছেন, উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে পুনর্নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং এ বছরের শেষ নাগাদ নতুন উদ্যমে পুনরায় রকেট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।


বিশ্বের বাণিজ্যিক মহাকাশ ভ্রমণ ও চন্দ্রাভিযানের প্রতিযোগিতায় ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্লু অরিজিন নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। প্রযুক্তি সম্মেলনের এই আসরটি কেবল এআই বা মহাকাশ গবেষণার সম্ভাবনাই তুলে ধরেনি, বরং ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে মানুষ ও যন্ত্রের সহাবস্থানের একটি নতুন চিত্রও উন্মোচন করেছে। এআই এখন আর কেবল চ্যাটবটের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বাস্তব দুনিয়ার নানা কর্মকাণ্ডে মিশে গিয়ে মানুষের কর্মক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

সূত্র: বিবিসি।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল